হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির সংকট, দেয়ালে শ্যাওলা জমে থাকা এবং ছাদের আস্তরণ খসে পড়ার মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, এসব কারণে হাসপাতালে সুস্থ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি পানির ট্যাব বিকল থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে তাদের বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
কিছু রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের একটি অংশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বরাদ্দ ও অন্যান্য আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাসপাতালের হেড ক্লার্ক গোবিন্দ লাল দাসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. শামীমা আক্তারের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


