সাজিদুর রহমান: হবিগঞ্জের বাহুবলে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মিরপুর চেরাগ আলী ফিলিং স্টেশনের কাছে চালকের হাত–চোখ বেঁধে ৫০ লাখ টাকার সিগারেট বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছে।
চালক জনি মিয়া (৩১), পিতা মহব্বত আলী, ঝিকরগাছা, যশোর, জানান, তিনি ২৬ নভেম্বর দিনগত রাতে নারায়ণগঞ্জের চৌধুরীবাড়ি থেকে (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৩৫৩২) নম্বরের কাভার্ড ভ্যানে সিগারেট বোঝাই করে সিলেট যাচ্ছিলেন। রাত ২ টায় মিরপুর চেরাগ আলী ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছামাত্র একটি ডিআই পিকআপ রাস্তার ওপর ব্যারিকেড তৈরি করে। সঙ্গে সঙ্গে ৫–৬ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাকে হাত–চোখ বেঁধে ফেলে এবং ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয়। ভোরে সাতগাঁও হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় তিনি বাহুবল মডেল থানায় বিষয়টি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৮ নভেম্বর ভোর রাতে একই স্থানে ভারতীয় শাড়ি বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান আটকিয়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ১১ নভেম্বর আরেকটি ভারতীয় সিগারেট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই হয় এবং বাহুবল, চুনারুঘাট থানা এবং শায়েস্তাগঞ্জ ও সাতগাঁও হাইওয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতায় ভ্যানটি পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার হলেও ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের সিগারেট পাওয়া যায়নি।
এসব ঘটনায় মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বৃত্তদের হুমকির মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, “ঘটনা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার।
তিনি বলেন, “বাহুবলের মহাসড়ক এখন অপরাধীদের দখলে। একের পর এক ছিনতাই হচ্ছে, পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতের বেলা মহাসড়কে টহল ও পর্যাপ্ত আলো না থাকার কারণে দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, “স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। তিনি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, এ রুটে পরিবহন শ্রমিকরা রাতের বেলা চলাচল কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে নামলেই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

