জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

ভাতা প্রতিস্থাপন স্থগিত ও অনিয়ম: ইউএনওর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহিদ বিন কাসেম-এর বিরুদ্ধে ভাতা প্রতিস্থাপন স্থগিতসহ নানা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, তার দায়িত্বকালজুড়ে উপজেলার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ভাতা প্রতিস্থাপন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে। এতে প্রায় দেড় শতাধিক স্ত্রী ও সন্তান ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১ মার্চ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের এক রেজুলেশনে ইউএনওর বিরুদ্ধে ভাতা প্রতিস্থাপনে গাফিলতি, বীর নিবাস প্রকল্পে অনিয়ম, মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে অব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন কার্যক্রমে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়। রেজুলেশনটিতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাস্তবায়িত বীর নিবাস প্রকল্পে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থাপিত গভীর নলকূপে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পে ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠলেও সেগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা হাসানুজ্জামান উসমান বলেন,
“একজন ইউএনও দায়িত্বে থেকেও মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রতিস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রতিরঞ্জন দাস অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সংঘটিত চুরির ঘটনা জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এছাড়া জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গত বিজয় দিবসে রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পরিবর্তন ও বাতিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সীমিত করার অভিযোগও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আযম খান চত্বরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার কথা জানান।

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী (দুলা মিয়া) জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ভাতা প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও মোঃ জাহিদ বিন কাসেম বলেন, ভাতা প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ সংখ্যা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জাতীয় দিবসের কর্মসূচির সময় পরিবর্তনও সংশ্লিষ্ট সকলের সিদ্ধান্তে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে তিনি এককভাবে দায়ী নন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card