হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত তালিবপুর আহসানিয়া মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে টানা ৮ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। এর মধ্যে ১১ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন।
দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবার আজ দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ সংসার চালাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকে মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনাই এই সংকটের মূল কারণ। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আলমাস উদ্দিন বলেন,
“বর্তমানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আমরা বারবার তার কাছে গিয়েছি সমস্যার সমাধানের জন্য, কিন্তু তিনি আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জানান,
“কয়েক মাস আগে আমরা ইউএনও স্যারের কাছে বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা এখনও বেতন পাচ্ছি না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন,“বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কতিপয় ব্যক্তি আমাদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ করছে। সেই টাকাই তারা লুটেপুটে খাচ্ছে, আর আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকছি।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন কল ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


