জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

২ বছর ধরে শৌচাগারবিহীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় টানা ২ বছর ধরে শৌচাগার না থাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শৌচাগারের অভাবে শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে আশপাশের বাড়িতে, যা বিশেষ করে নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদের জন্য লজ্জাজনক ও অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।এতে স্কুলের পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে সেই সাথে অনেক বাচ্চারা স্কুলে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

 

ঘটনাটি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ওলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের পাশে একটি মসজিদে জরাজীর্ণ অবস্থায় একটি টয়লেট থাকলেও সেটি ব্যবহারযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

জানা যায়, উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় নতুন ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারদের চরম গাফিলতিতে দুই বছরেও কাজ শেষ হয়নি। শিক্ষা অফিস আন্তরিক থাকলেও ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন—যাদের সবাই নারী। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৮০ জন।

 

এক শিক্ষার্থী জান্নাতুল জানায়,

“শৌচাগার না থাকায় আমাদের খুব কষ্ট হয়। অন্যের বাড়িতে যেতে খুব লজ্জা লাগে। দ্রুত ওয়াশ ব্লক চালু করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আফিয়া বেগম বলেন,

“নতুন ওয়াশ ব্লকের কাজ নিয়ে ঠিকাদাররা বারবার গাফিলতি করছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা চেষ্টা করলেও কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

 

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন,

“দুই বছর ধরে ওয়াশ ব্লক ছাড়া একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কীভাবে চলে—এটা অবিশ্বাস্য। এটি চরম দায়িত্বহীনতার উদাহরণ। হবিগঞ্জে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।”

 

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদ হোসেন বলেন,

“বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কোনো শিক্ষকও আগে আমাদের অবহিত করেননি। তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”