জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

মুসলমানদের ঐক্য ও ইতিহাস: অতীতের শিক্ষা আজকের জন্য

ইতিহাসে মুসলিম জাতি এক সময় বিশ্বে অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি ছিল। তারা দীর্ঘকাল বিভিন্ন অঞ্চলে শাসন করেছে— যেমন; মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও পারস্য অঞ্চল, তুর্কি ও অটোমান সাম্রাজ্য, স্পেন (আন্দালুসিয়া), ভারতবর্ষ।

 

এই সময়ের মধ্যে মুসলিম শাসনকারীরা শুধু ক্ষমতায় ছিল না, তারা শিক্ষা, বিজ্ঞান, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছিল।

কিন্তু ইতিহাসে দেখা যায়, যখন মুসলমানরা একমত ও ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন তাদের শক্তি অপ্রতিরোধ্য হয়। আর যখন বিভক্ত হয়, তখনই দুর্বলতা দেখা দেয়।

 

১৫০০ বছর আগের কোরআন আজও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়:

“তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো, কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ে যেও না।”

 

দুর্ভাগ্যবশত, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বিভাজনের কারণে ঐক্য হারিয়ে গেছে। পূর্বে আমাদের সোনালি ইতিহাস ছিল—মধ্যযুগে উন্নত সভ্যতা, স্থাপত্য ও বিজ্ঞান—কিন্তু আজ তা মূলত কাগজে কলমে সীমিত।

 

উপরের ছবিতে দেখানো দৃশ্যটি তুর্কি সিরিজ ‘সালাহউদ্দিন আইয়ুবী’ থেকে নেওয়া, যেখানে এক খ্রিস্টান কমান্ডার সালাহউদ্দিন আইয়ুবী রহঃ কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:

“তোমরা মুসলমানরা কখনোই ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না।”

 

এই দৃশ্য শুধু ইতিহাসের পুনঃচিত্র নয়; এটি আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। ঐক্যবদ্ধ না হলে শক্তি ক্ষয় হয়, এবং বিভাজন আমাদের বিপদের মুখে ফেলে। ইতিহাসের এই পাঠ আজও প্রাসঙ্গিক।

 

আজ আমাদের দরকার ঐক্য ও সমন্বয়। সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমরা যদি একমত হয়ে কাজ করি, তাহলে আমরা আবারও সেই শক্তি অর্জন করতে পারি যা আমাদের পূর্বপুরুষদের ছিল।

 

একতার সঙ্গে কোরআনের নির্দেশ ও আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ মেলালে, মুসলিম সমাজ একবার পুনরায় সমৃদ্ধি ও শক্তির পথে এগোতে পারে।

 

মুসলিম জাতির শক্তি শুধু অস্ত্র বা রাজনীতি নয়, বরং ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও শিক্ষায় নিহিত। অতীতের ইতিহাস আমাদের শেখায়, বিভাজন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, কিন্তু ঐক্য আমাদেরকে পুনর্জীবিত করতে পারে। আজকের প্রজন্মের দায়িত্ব এই শিক্ষা মনে রেখে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং সেই সোনালি ইতিহাসকে জীবন্ত করা।