জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

একটি ঘটনা, কিছু উপলব্ধি

সকালে বাজারে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ নজরে পড়লো—৩ জন হেফজখানার শিক্ষার্থী একটি লিফলেট পেয়ে পা দিয়ে পাড়াচ্ছে। আবার আঞ্চলিক ভাষায় বলছে,

“হে ওই… ওহাবি।”

আমি থমকে গেলাম। ব্যাপারটা কী?

একটু থেমে দেখি—ওটা জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত  নির্বাচনের একটি লিফলেট।

লিফলেটের উপরে স্পষ্ট করে লেখা “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”,

আর তাতে দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত একজন প্রার্থীর ছবি।

আমি সত্যিই অবাক হলাম।

যাদের হাতে লিফলেট, তাদের ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞানটুকুও নেই—

লিফলেটে বিসমিল্লাহ লেখা, দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি পরা একজন মানুষকে যে তারা অবমাননা করা হচ্ছে!

এই ঘটনাটা আমি আরেকটি কারণে শেয়ার করছি।

এটা আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ২০১০–১১ সালের আগের সেই বাল্যকালে।

সত্যি বলতে কী—আমিও তখন এমনই ছিলাম।

আমার স্পষ্ট মনে আছে,

আমি আলিয়া ঘরানার মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও নামাজ পড়তাম না।

অনেকে বন্ধুরা বলত,

“চলো, থানা মসজিদে নামাজ পড়ি।”

আমি তখন বলতাম,

“না, থানা মসজিদে নামাজ পড়লে আমার মাথা ব্যথা করে।”

আজকে সেই আমি আর আগের আমি—

আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

যত বড় হচ্ছি, দ্বীনের ব্যাপারে তত উদার হচ্ছি,

আর এটাই তো মধ্যম পন্থার আসল পরিচয়।

মধ্যম পন্থা সম্পর্কে কুরআনের ঘোষণা:

وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ

“এভাবেই আমি তোমাদেরকে বানিয়েছি মধ্যপন্থী উম্মত, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পার।” (সূরা বাকারা: ১৪৩)

নবীজি ﷺ এর নির্দেশনা:

سددوا وقاربوا… والقصد، القصد تبلغوا

“তোমরা আমলে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, বাড়াবাড়ি করো না। পরিমিতি রক্ষা করলে অবশ্যই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে।”

(সহীহ বুখারী: ৬৪৬৩)

আল্লাহ যেন আমাদের সমাজকে দ্বীনের সব ধরনের ফেতনা, গোঁড়ামি ও বিদ্বেষ থেকে হেফাজত করেন। আমিন।