রায়হান উদ্দিন: বাংলাদেশ ও মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটন সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী-পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে ভিসা সুবিধা, পর্যটন প্রবাহ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে গার্মেন্টস, ওষুধশিল্প, চামড়াজাত পণ্য ও কাঁচামাল বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের টি-শার্ট, নিটওয়্যার ও কটন পোশাক উজবেকিস্তানের বাজারে জনপ্রিয়তা পেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের ওষুধশিল্প উজবেকিস্তানের বাজারে জেনেরিক ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
চামড়াজাত পণ্য, জুতা ও ব্যাগ রপ্তানি এবং যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা উৎপাদনকারী দেশ উজবেকিস্তান থেকে তুলা আমদানি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দক্ষ শ্রমিক, কারিগরি কর্মী ও পেশাজীবী বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য নতুন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও উন্মুক্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল দুই দেশের সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি বিনিময়, বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক উজবেকিস্তান ভ্রমণে আগ্রহী হলেও ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে সরাসরি ভ্রমণে নানা প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ রয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অনলাইন ভিসা সুবিধা সহজ করা হলে দেশটি বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
উজবেকিস্তান মধ্য এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক ঐতিহ্যবাহী দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে বহু বিশ্বখ্যাত ইসলামিক মনীষীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে, যা ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে রেজিস্তান, শাহ-ই-জিন্দা, বুখারা এবং সমরকন্দ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন ও মানবসম্পদ বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

