জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

ঈদুল আজহা সামনে রেখে নবীগঞ্জে ব্যস্ত খামারিরা, অবৈধ পশু প্রবেশে উদ্বেগ

ইবাদুর রহমান: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজাজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় পশু খামারিরা। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে কুরবানির জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের পশু প্রস্তুত করছেন তারা। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ পথে পশু অনুপ্রবেশের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের খামারিরা।

জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজারের বেশি পশু কুরবানি করা হয়। চলতি বছরও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে স্থানীয় খামারগুলোতে। তবে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে বিদেশি পশু দেশে প্রবেশ না করলে স্থানীয় খামারিরা তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কয়েকজন খামারি জানান, বর্তমানে একটি পশুর পেছনে মাসিক খাদ্য ব্যয় প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সময় ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ফলে বছর শেষে লাভ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে অবৈধভাবে বিদেশি পশু বাজারে প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন।

খামারিরা আরও বলেন, সরকার যদি দেশীয় খামার শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাহলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। অন্যথায় অনেক উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। এতে দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অর্ধশতাধিক পশুর হাট বসার প্রস্তুতি চলছে। এসব হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাল টাকা প্রতিরোধ, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, “পশুর হাটে যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার থাকবে। কেউ যদি সহিংসতা কিংবা জবরদস্তির চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”