বদর : চেতনার অবিনাশী উৎস

বদর প্রান্তরে জিহাদ। ইসলামের সোনালি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মাধ্যমেই মুসলমানগণ পৃথিবীর ইতিহাসে রচনা করেছিল এক সুমহান বিপ্লব। কুরআনের ভাষায় একে বলা হয়েছে- ‘ইয়াওমুল ফুরকান’। এ জিহাদ সত্যকে করেছিল সুপ্রতিষ্ঠিত। মিথ্যাকে করেছিল ভূলুণ্ঠিত। এ জিহাদ আমাদের চেতনায়, বিশ্বাসে, ভাবে অনুভবে এক স্বর্গীয় শক্তি সঞ্চারিত করে। ধনবল ও জনবল নয়; আল্লাহর প্রতি গভীর প্রেম ও আস্থা এবং পরম বিশ্বাস-ই হচ্ছে আমাদের পাহাড়সম সাহসের একমাত্র উৎস। যুগে যুগে মুসলমানগণ এ চেতনা ও শক্তিকে বক্ষে ধারণ করে সকল মিথ্যাচার ও অনাচারকে পদদলিত করেছে। কিন্তু আজ আমরা এ মহান সত্যকে বেমালুম ভুলে গেছি। এজন্যই ইহুদী-নাসারা আর বেঈমানদের নোংরা হাতে আমরা হচ্ছি চরমভাবে লাঞ্চিত, নির্যাতিত। আমরা বিশ্বাস করি, বদর প্রান্তরের প্রকৃত ইতিহাস বর্ষার অবিরাম ধারা হয়ে আবার আমাদের রুক্ষ, শুষ্ক ঈমানী জমিকে উর্বর করবে, সতেজ করবে।

৬২৪ খ্রিস্টাব্দ। সত্যের প্রচারক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর ধর্মান্ধ কুরাইশদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবার প্রবল থেকে প্রবলতর হল। তাঁর প্রিয়তম সাহাবীদের ওপরও চালানো হচ্ছিল জ্বলন্ত অঙ্গারে অগ্নিদগ্ধ করার মতো পৈশাচিত অত্যাচার। তারপরো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমান ও তাওহীদের অমীয় বাণী প্রচার থেকে এতটুকু পিছপা হননি। তাই হিংসাকাতর কাফিররা সৃষ্টিকূলের মুক্তিদূতকে হত্যা করার এক গভীর ষড়যন্ত্র আটলো। আর সে হীন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে তারা এক অন্ধকার রাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘর ঘেরাও করল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফেরদের চোখে বালি ছিটিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। তখন তাঁর মুখে ছিল কুরআনের সুমধুর তিলাওয়াত। বুকে ছিল সদা ভাস্বর ঈমানী চেতনার পূর্ণতা। তারপর এক আল্লাহর ওপর ভরসা করে প্রিয়তম সঙ্গী আবুবকর রা. কে সাথে নিয়ে ছুটে চললেন মদীনায়। বাধার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে পাড়ি দিলেন বিঘœবহুল ও সঙ্কটসংকুল মরুপথ। এ ঘটনাকেই ইতিহাসের স্বর্ণখাচিত পাতায় ‘হিজরত’ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে।

সত্যের বৃষ্টিফোঁটা পানের জন্য মদীনার চাতকপাখিগুলো পরম সমাদরে গ্রহণ করল রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। তিনিও আপন মহত্ব ও ভালবাসার আপ্লুত করলেন মদীনার প্রতিটি প্রাণ, প্রতিটি অন্তর। অত্যন্ত সুচারুরূপে মানবসেবার মহান কাজটিকে আঞ্জাম দিলেন। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে দিলেন কুরআনের দীপ্তোজ্জ্বল আলো। দিকহারা মানুষগুলো ইসলামের ছোঁয়ায় খুঁজে পেল আত্মিক প্রশান্তি। এভাবেই মুসলমানগণ একটি মজবুত ‘রাষ্ট্রকাঠামো’ গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু তা প্রত্যক্ষ করে পরশ্রীকাতর কাফেররা ক্ষোভের আগুনে জ্বলে উঠলো। ক্রোধ ও আক্রোশে ফেটে পড়ল। বুঝতে পারল, শিশুরাষ্ট্রের এ শক্তিঅর্জন কখনোই তাদের জন্য শুভ ও সুখকর হতে পারে না। এক সময় তারা নিরীহ মদীনাবাসীর ওপর নিষ্ঠুর আক্রমণের ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত নিল।

এ হীন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রাথমিক দায়িত্ব অর্পিত হল আবু সুফিয়ানের কাঁধে। আবু সুফিয়ান একটি কাফেলা নিয়ে অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশে সিরিয়ায় গমন করল। এ কাফেলার সাথে ছিল ৫০,০০০ দিনার মূল্যের ধন-রত্মাদি। মক্কার কুরাইশরা তাই চিন্তিত হয়ে পড়ল। তারা এ কাফেলার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ব্যাকুল হয়ে গেল। অপরদিকে মুসলমানগণও শত্র“র অস্ত্র আটকের চিন্তা মনস্থ করল যে, আবু সুফিয়ান মদীনাবাসী কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছে। কুরাইশরা এ তথ্য পেয়ে ক্রোধে উত্তেজনার টগবগ করতে লাগল। গুজবের সত্যতা যাচাই না করে দাম্ভিক আবু জাহেল যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠল। সারা আরবে যুদ্ধের সাজ সাজ রব পড়ে গেল। তারা আবু সুফিয়ানের সাহায্যার্তে যুদ্ধ যাত্রা শুরু করল। এদের মধ্যে একশ অশ্বারোহী; সাতশ উষ্ট্রারোহী; এবং বাকিরা পদাতিক। আবার অনেক ছিল বর্মপরিহিত। পথে আবু সুফিয়ানের বিশেষ দূত আবু জাহেলের সাথে দেখা করল। সে বলল, “আবু সুফিয়ান সমুদ্র উপকূলের পথ ধরে নিরাপদে মক্কায় পৌছে গেছে। সুতরাং যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। তোমরা মক্কায় ফিলে এসো।” কিন্তু চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী। মরণনেশায় উন্মত্ত আবু জাহেল বলল; “পিছুফেরা কিছুতেই হতে পারে না। আমি শপথ করেছি, অস্ত্রসজ্জিত এই বিরাট বাহিনী নিয়ে আমরা বদর প্রান্তরে যাব। সেখানে উট জবাই করে সবাইকে খাওয়াবো। তা দেখে মদীনাবাসী ভীত হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে তারা আর আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার দুঃসাহস করবে না।” কিন্তু যুহরা ও আদী নামের দুটি গোত্র আবু জাহেলের এ অন্যায় আবদার মেনে নেয়নি। তারা মক্কায় ফিলে গেল।

জিহাদ আসন্ন। মদীনাবাসীর নিকট একটি পরামর্শসভার আহবান করা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার অভিমত জানতে চাইলেন। হযরত আবুবকর ও আলী রা. জিহাদের পক্ষে দৃঢ় মতামত ব্যক্ত করলেন। মুহাজিরগণের পক্ষে আল-মিকদাদ রা. বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আপনার যেখানে ইচ্ছা চলুন। আমরা সবসময় আপনার সাথে থাকবো। হযরত মূসা আ. এর উম্মতের মতো আমরা এ কথা বলবো না; আপনি এবং আপনার প্রভু গিয়ে যুদ্ধ করুন।” অতঃপর আনসারদের পক্ষ থেকে সাআদ বিন মুআয রা. বললেন, “আমাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমরা সুখে-দুঃখে, জীবনে-মরণে ছায়া হয়ে আপনার পাশে থাকবো। আপনি যেখানে যেতে বলবেন; আমরা সেখানেই যাব। সাগরে ঝাঁপ দিতে বললে ঝাঁপ দেব। ডুব দিতে বললে ডুব দেব। মরতে বললে মরবো।” প্রিয়তম সাহাবীদের এই দৃঢ় মনোবল অবলোকন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। অশান্বিত হলেন। তারপর সবাইকে জিহাদের জন্য প্রস্তুত হতে বললেন।

৩১৩ জন দুঃসাহসিক বীর মুজাহিদ। তাঁদের ষাটজন মুহাজির। বাকিরা আনছার। তাঁদের অস্ত্রসস্ত্র নিতান্তই মামুলি ধরনের। অশ্বারোহী সৈন্য মাত্র ৩ জন। উষ্ট্রারোহী সত্তরজন। এই ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়েই সথ্যের নায়ক বের হলেন সেনাপতির বেশে। আজ তাঁর বীরমূর্তি। হাতে নাঙ্গা তলোয়ার। শিরে বাঁধা আমামা। অতঃপর তাঁরা পাড়ি দিলেন রৌদ্রময় উত্তপ্ত মরুপথ। অনেক কষ্টে পৌঁছলেন ‘বদর’ প্রান্তরে।
ধূর্ত কুরাইশ অনেক আগেই বদর প্রান্তরের ভালো জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছিল। পানির কূপ ছিল তাদের ভাগে। মাটিও ছিল শক্ত। তাই সেখানে সৈন্য চলাচল সহজতর ছিল। অপরদিকে মুসলিম বাহিনীর কোন সুবিধাই ছিল না। তৃষ্ণা নিবারণের জন্য তাদের পানি ছিল না। চতুর্দিক ছিল বালুকায় পরিপূর্ণ। উটের পা সেখানে গেড়ে যেত। সবার চলাচল হয়ে পড়েছিল দুষ্কর। দুঃসাধ্য।

কিন্তু আল্লাহ তাআলার দয়া ও করুণা অপরিসীম! তিনি তার প্রিয়তম বান্দাদের ‘বৃষ্টি’ উপহার দিলেন। অঝর ধারার বৃষ্টি। মুসলমানগণ হাউস নির্মাণ করলেন। পানি দিয়ে তা পূর্ণ করলেন। তাই পানি কষ্ট দূর হল। চলাচলের বালুও জমে শক্ত হল। ফলে মুসলমানদের কোন অসুবিধা থাকল না। পক্ষান্তরে কুরাইশরা পড়ল দারুণ দুর্ভোগে। ভারীবর্ষণে তাদের জায়গাগুলো কর্দমাক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই তারা নড়তে গিয়ে ‘পিছল’ খাচ্ছিল। উঠতে গিয় খাচ্ছিল ‘আছাড়’। সত্যিই সে দৃশ্য ভারি মজার।

বৃষ্টি হল। রাত এল। এবার ক্লান্ত সাহাবীগণ শুয়ে নিদ্রাযাপন করছিলেন। কিন্তু একজনের চোখে নিদ্রা আসছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চোখে। তিনি রাতভর বিধাতার দরবারে প্রার্থনা করে কাঁদছিলেন। অতঃপর ভোর হল। হযরত বেলাল রা. সুমধুর কণ্ঠে আযান দিলেন। মুজাহিদগণ গাত্রোত্থান করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে নামায আদায় করলেন। নামায শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদ সম্পর্কে উৎসাহ দিলেন। উপদেশ প্রদান করলেন। জিহাদে জয়লাভ সংখ্যাধিক্যের ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে না অস্ত্রশস্ত্রের ওপরও। জিহাদের মহাপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস। অবিচল ঈমান। এ কথাগুলোই রাসূূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নওমুজাহিদদের বুঝিয়ে দিলেন। হৃদয়ঙ্গম করালেন।

মুষ্টিমেয় মুসলমানদের সাহায্যে তাই যোগ দিলেন হুযাইফা ও হুসাইন রা.। পথে কাফেররা তাদের আটক করেছিল। তখন তারা জিহাদ করবে না বলে প্রতিশ্র“তি দিলে ছাড়া পান। মহানবী সাল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা জেনে তাদেরকে জিহাদে যোগ দিতে বারণ করলেন। ওয়াদা পালন করতে আদেশ দিলেন। সত্যিই জিহাদের ময়দানে ওয়াদা রক্ষার এ আদর্শ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। অতুলনীয়।

আকাশ ফর্সা হল। দুপক্ষ সমরাঙ্গনে উপস্থিত হল। ওতরা, শায়বা ও ওয়ালিদ-এই তিন বাহাদুর বুক টান করে সামনে এল। হুঙ্কার ছাড়ল। বলল- “কার কত বড় কলিজা আজ দেখে নেব। তলোয়ারের মজা আজ বুঝিয়ে দেব।” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইশারায় হযরত আলী, হযরত হামযা ও হযরত ওবায়দা রা. এগিয়ে গেলেন। শুরু হল কাফেরদের যুদ্ধ; মুসলমানদের জিহাদ। চোখের পলকে হযরত আলী রা. এর তলোয়ার লাল হল নরপিশাচ ওয়ালীদের খুনে। হামযা রা. এর এক আঘাতে ওতবা চলে গেল জাহান্নামে। তবে ওবায়দা রা. জখম হলেন শায়বার সাথে লড়াই করে। পরে জান্নাতের সুধা পান করেছিলেন। হযরত আলী রা. তখন ছুটে গিয়ে শায়বাকে তলোয়ারের স্বাদ বুঝিয়ে দিলেন। কুরাইশ শিবিরে নেমে এল মৃত্যুর ছায়া। তিন বাহাদুর পটল তুলেছে বিধায় ঘাবড়ে গেল তারা। তাই একা লড়াই বাদ দিয়ে তারা সম্মিলিত হামলা শুরু করল। মুসলমানরাও পরম বিক্রমে জিহাদ করতে লাগলেন। সূর্য মাথার ওপর তেজোদীপ্ত হল। যুদ্ধ ও জিহাদ ভয়ঙ্কর হতে লাগলো।

আশ্চর্য দৃশ্য ! তাওহীদের পতাকাতলে আছে গুটিকয়েক মুজাহিদ। আর কুফরের পতাকাতলে রয়েছে আড়ম্বরপূর্ণ বিরাট বাহিনী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই পরম সাহায্যকারী মহান আল্লাহর দরবারে হাত পাতলেন। সাহায্য চাইলেন। চাইতেই লাগলেন। কান্নায় তিনি তন্ময়-বিভোর হয়ে পড়লেন। তাঁর কাঁধ থেকে চাদরখানা পড়ে গেল। তিনি খোঁজও পেলেন না। আকুলকণ্ঠে তিনি বলতে লাগলেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে বিজয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। তুমি তা পূর্ণ কর।” প্রার্থনা শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা আলোকউজ্জ্বল হল। তিনি হুজরা থেকে প্রশান্ত মনে বের হলেন। সাহাবীদেরকে বিজয়ের সুসংবাদ প্রদান করলেন।

লড়াই তখনো চলছিল। দুই তরুন সাহাবী মুআয ও মুআওয়ায খুঁজে বের করলেন পাপিষ্ঠ আবু জাহেলকে। অতঃপর বাজপাখির মতো ছুটে গিয়ে ঝাঁপ দিলেন আবু জাহেলের ওপর। আবু জাহেল অর্ধমৃত হল। মাটিতে তড়পাচ্ছিল, গাড়াগড়ি করছিল, তবু মরছিল না। তাই আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তখন তার বুকের ওপর পা রেখে মাথাটা কেটে ফেললেন। দলনেতার এ পরিণতি দেখে কুরাইশরা ভীত হল। তারা ময়দান ছেড়ে পালাতে লাগলো। ইচ্ছে করলে এই সুযোগে ওদের কচুকাটা করা যেত। কিন্তু রহমতের নবী বললেন, যারা পালাতে চায়; তাদের পালাতে দাও। সাহাবীরা তা-ই করলেন। অবশেষে ৭০ জন যুদ্ধবন্দী হল। এই বন্দীদের সাথে মুসলমানদের আচরণ উপমাতুল্য। তারা বন্দীদের উটে চড়িয়ে নিজেরা পাড়ে হেঁটে বিজয়ী বেশে মদীনায় প্রবেশ করলেন। মদীনার মুসলমানগণ আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদেরকে ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ জানালেন।

পরিশেষে বলতে চাই, বদর আমাদের চেতনার অবিনাশী উৎস। সত্যের পতাকাকে উড্ডীন করার মহান শিক্ষা নিয়ে ফি বছর আমাদের দ্বারে কড়া নাড়ে এই বদর। আমাদের উচিৎ বদরের এই শিক্ষার আলোকে আলোকময় জীবন গড়া। আল্লাহই সকল কাজের তাওফীকদাতা।

লেখকঃ মাহমুদ হোসেন