নবীগঞ্জে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংঃ আন্দোলনের হুশিয়ারী

0
4

ছনি চৌধুরী, নবিগঞ্জ থেকেঃ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাড়িয়েছে । রমজান মাসেও তার ব্যতিক্রমী কিছু নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নবীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জনসাধারণ। ইফতার-তারাবি কিংবা সেহরির সময় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত কিছুদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দিচ্ছেন নানা আন্দোলনের হুশিয়ারী।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও রমজান মাসে শুরু হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে বিদ্যুৎয়ের অলৌকিক যাওয়া আসার খেলা। রমজানের ইফতার, তারাবিহ ও সেহরীর সময়ে লোডশেডিং ছাড়িয়েছে জনসাধারণের সহনীয়তার মাত্রা। বিদ্যুৎয়ের এ তীব্র বিভ্রাটে অতিষ্ঠ নবীগঞ্জের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ। এ যেন বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে সবাই জিম্মি। কিছুতেই কমছেনা গরম। দিনে যেমন রোদের খড়তাপ তেমনি রাতে বইছে গরমের হাওয়া। সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

সারাদিন রোজা পালন শেষে যখন ইফতার সামনে নিয়ে বসা ঠিক তখনই যেন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময়। সারাদিনতো এমনিতেই চলে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলা। তার উপর ইফতার-তারাবীহ-সেহরি এই সময়টুকুতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন নিয়ম মাফিক হয়ে গেছে। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন, রমজান আসলেই কি হয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষেও ? রমজানের প্রথম তারবীহ থেকে চলছে বিদ্যুতের এমন আসা যাওয়ার খেলা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বিদ্যুতের এমন ভেলকিবাজি।

রমজানে এমন লোডশেডিং-এ রোজাদার থেকে শুরু করে বৃদ্ধ শিশু ও অসুস্থ মানুষ বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র তাপদাহে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এর রেশ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পবিত্র রমজান মাসে যেখানে এ উপজেলার গ্রাহকেরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবী জানিয়ে আসছিলেন, বিশেষ করে ইফতার-তারাবিহ-সেহরীর সময়ে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সময়সহ দিনরাত অব্যাহত লোডশেডিংয়ের অসহনীয় যন্ত্রণা বিক্ষুব্ধ করে তুলছে তাদেরকে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেপার-পত্রিকায় টিভি চ্যানেলে আমরা দেখতে পাই দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে সরকারের এত বিদ্যুৎ যায় কোথায়? এভাবে লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমাদেরকে কেন ভোগান্তিতে ফেলছেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। এর রহস্য কি?

গ্রাহক আব্দুল মান্নান বলেন, রমজান আসলেই বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। দেশে এতো বিদ্যুৎ থাকতে আমরা অবহেলিত কেন? ইফতার-তারাবীহ-সেহরিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট করে আমাদের ধর্মপ্রান মুসলমানদের কেন কষ্টের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বিদ্যুত কর্মকর্তারা। অতি শীঘ্রই এর প্রতিকার না হলে আমরা বড় ধরণের আন্দোলনে যাবো। অন্যদিকে চলতি রমজানে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা। বিদ্যুতের এমন কর্মকাণ্ডে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিভাবকদের ধারণা।

এতে করে প্রতিদিনের কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন একটু মেঘলা আকাশ হলেই বিদ্যুৎতের ভেলকিবাজি শুরু হয়ে। বিদ্যুতের চোর-পুলিশ খেলা এখন যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। আর এ থেকে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি কার্যক্রম, ব্যবসা বাণিজ্য, লেখাপড়া ও চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুতের এই ভেলকিবাজি থেকে রেহাই দিতে বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আহবান জানিয়েছেন গ্রাহকরা, অন্যথায় আন্দোলনের হুমকিও দেন তারা।

সাম্প্রতি বদলী জনিত কারণে নবীগঞ্জ ছেড়েছেন নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম আব্দুল বারী। তার অবর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(এজিএম) রুহুল আমীন। অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাপারে জানতে নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার(এজিএম) রুহুল আমীন এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিছিব করেননি।

উল্লেখ্য,গত বছরের (১৯ আগস্ট) রবিবার সারা দিন লাগাদার প্রায় ২৩ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড দাবাদহে অসহনীয় দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে রাতে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ জনতা। রাত ১০টায় শহরের নতুন বাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এর ওসমানী রোডস্থ ভাড়া বাসা এবং কলেজ রোডস্থ পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করে ডিজিএম এর অপসারণ দাবি করে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পল্লী বিদ্যুতের নবীগঞ্জ জোনাল অফিসে গিয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে জানালার গ্লাস ভাংচুর করে।

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে