‘বৃক্ষ রোপণ সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হবিগঞ্জে সাতদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও সিলেট বন বিভাগের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণের নিমতলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় নিমতলায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক রহমান এবং সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
উদ্বোধন শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় ১৫টি স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছ প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তার অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না; অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
আগামী সাতদিন প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা চলবে। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সংগ্রহের পাশাপাশি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


