হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম হত্যা রহস্যের এখনো কোনো কূলকিনারা হয়নি। সময় গড়িয়েছে প্রায় দুই বছর, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তি কিংবা তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে।
গত ২০২৪ সালের ২ মার্চ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের করাঙ্গি নদী থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলামের মরদেহ। নৃশংস এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সাইফুল ইসলাম ছিলেন বাহুবল উপজেলার ৩ নম্বর সাতকাপন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাড়ি সাতকাপন ইউনিয়নের রাসুলপুর গ্রামে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগে সাইফুল কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে করাঙ্গি নদী থেকে বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে তারা সেখানে ছুটে যান। পরে মরদেহ শনাক্ত করা হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরিবারের দাবি, কয়েক দফা থানায় যোগাযোগ করা হলেও তারা আশানুরূপ কোনো তথ্য পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে হত্যাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর মতে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। অথচ এতদিনেও ঘটনার রহস্য উদঘাটিত না হওয়া বিচারব্যবস্থা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্বজনদের দাবি, সাইফুল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, এ ধরনের আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেলে সমাজে অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি।


