প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে টানা ১২ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে হবিগঞ্জ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ো হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে লাইনের ওপর পড়ে যাওয়ায় পুরো জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পানির পাম্প বন্ধ থাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পেরে যোগাযোগেও বিঘ্ন ঘটছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবামূলক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা একাধিক ব্যক্তি জানান, “সারা রাত বিদ্যুৎ ছিল না, গরমে ঘুমানো যায়নি। সকালেও বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে একাধিক স্থানে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে একাধিক টিম। তবে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে, ঝড়ের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়া, ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন হবিগঞ্জবাসী।



