জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

ভিজিএফের চাল বিতরণে শিক্ষক-ইমামদের বাদ, কমিটিতে বিএনপি নেতাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দকৃত ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) ত্রাণ বিতরণ কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়নভিত্তিক কমিটিতে প্রথমে শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের সদস্য রাখা হলেও পরে তাদের বাদ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ০৫.৪৬.৩৬৭১.০০৭.০১.০০৩.২৬-২৩৮ নম্বর স্মারকে ভিজিএফ ত্রাণ বিতরণের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সদস্য এবং একজন স্কুল শিক্ষক ও একজন মসজিদের ইমামকে সদস্য রাখা হয়েছিল।

কিন্তু কমিটি গঠনের দুই দিনের মাথায় শিক্ষক ও ইমামদের বাদ দিয়ে তাদের স্থলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-নেত্রীদের সদস্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে দুইজন রাজনৈতিক নেতাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের সদস্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর আন্দিউড়া ইউনিয়নে যুবদল নেতা মান্নান সরদার ও কাজী রীনা, ৬ নম্বর শাহজাহানপুর ইউনিয়নে আবুল হোসেন ও বিউটি কৌরি, ৭ নম্বর জগদীশপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি এখলাছুর রহমান ভূইয়া ও আছিয়া বেগম, ৮ নম্বর বুল্লা ইউনিয়নে মিছির আলী ও আমেনা খাতুন এবং ৯ নম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়নে জয়নাল আবেদিন ও মনোয়ারা বেগমকে সদস্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি ত্রাণ বিতরণ কমিটিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এতে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা আরও জানান, সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের উপস্থিতিতেই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিন্তু এবার একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সমতুল্য করে দুইজন রাজনৈতিক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় জনপ্রতিনিধিরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ত্রাণ বিতরণ কমিটিতে শিক্ষক ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের মতো নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পদধারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে এবং ত্রাণ বিতরণেও রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে মাধবপুর উপজেলায় ভিজিএফ চাল বিতরণ নিয়ে আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বহরা ইউনিয়নে চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সোহেল মিয়া নামে এক দিনমজুরের ওপর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এছাড়া চৌমুহনী ইউনিয়নে ১০ কেজির পরিবর্তে কম ওজনের চাল দেওয়ার অভিযোগ এবং ধর্মঘর ইউনিয়নে প্রায় ১৫ বস্তা চাল চুরির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদারকির অভাবে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী অনেক উপকারভোগী চাল পান না। অতিরিক্ত লোকের অজুহাত দেখিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চাল বাজারে বিক্রিরও চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।