জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে মার্বেল খেলা, মাঠ ছাড়ছে শিশুরা

একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠ, উঠান কিংবা ধুলোমাখা পথঘাট ভরে উঠত শিশু-কিশোরদের কোলাহলে। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে মার্বেল খেলার আনন্দে মেতে থাকত তারা। ছোট্ট কাঁচের বল ঘিরে জমে উঠত প্রতিযোগিতা, কৌশল আর বন্ধুত্বের এক অনন্য পরিবেশ।

 

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব ও মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতায় শিশুদের জীবনযাত্রায় এসেছে বড় পরিবর্তন। মাঠে দৌড়ঝাঁপের বদলে এখন তাদের সময় কাটছে ঘরের ভেতরে, মোবাইল স্ক্রিনে গেমস খেলা কিংবা ভিডিও দেখায়।

 

একসময় মার্বেল খেলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না; এটি শিশুদের মনোযোগ, কৌশল, ধৈর্য এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে তারা শিখত দলগত আচরণ, প্রতিযোগিতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য।

 

প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে এক ভিন্ন শৈশবের ছবি—যেখানে বিকেল মানেই ছিল মাঠে ছুটে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠা। তাদের মতে, বর্তমান প্রজন্ম সেই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মাঠের খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমছে। একই সঙ্গে চোখের সমস্যা, স্থূলতা ও মানসিক একাকিত্বের ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের সংযোগও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

 

সচেতন মহলের মতে, শিশুদের আবার মাঠমুখী করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্কুলে ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানো, গ্রামীণ খেলাধুলাকে উৎসাহ দেওয়া এবং শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারলে হারিয়ে যেতে বসা মার্বেল খেলাসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

 

শৈশবের সেই সহজ-সরল আনন্দ ফিরিয়ে আনতে এখনই প্রয়োজন সচেতনতা ও উদ্যোগ।