জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

হবিগঞ্জে ২৮ মাসে ২৬৩ ট্রান্সফরমার চুরি; এতে ৩ জন নিহত, তবুও থামছে না চক্র

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় গত ২৮ মাসে ২৬৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বারবার অভিযোগ দিয়েও কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় সংঘবদ্ধ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ গত সোমবার গভীর রাতে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী ১০-১২ জনের একটি দল সেচ পাম্প হাউজে আগুন লাগিয়ে দুই পাহারাদারকে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ৩৭.৫ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ট্রান্সফরমারের ভেতরের কয়েল ও তামার তার খুলে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি বাগান কর্তৃপক্ষের।

নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ জানান, গভীর রাতে বৃষ্টি শুরু হলে দুই পাহারাদার শিপেন ব্যানার্জি ও জ্যোতিষ তেলেঙ্গা পাম্প হাউজে আশ্রয় নেন। পরে ডাকাত দল জানালা দিয়ে আগুন নিক্ষেপ করলে তারা দরজা খুলতে বাধ্য হন। তখন ডাকাতরা তাদের বেঁধে ফেলে লুটপাট চালায়।

এর আগে গত ৯ মার্চ একই বাগানে তিন পাহারাদারকে বেঁধে ১২টি ট্রান্সফরমার লুট করা হয়। এছাড়া চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লালচাঁদ চা বাগানেও একাধিকবার ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

গত ২৫ মার্চ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গঙ্গানগর এলাকায় সচল লাইন থেকে ট্রান্সফরমার খুলতে গিয়ে জামাল মিয়া নামে এক যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে দুই তরুণের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কিছু ভাঙারি ব্যবসায়ী এসব চুরির সঙ্গে জড়িত। অতীতে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করলেও বড় চক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবলে চা বাগানের ট্রান্সফরমার চুরি উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

মাধবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা বলেন, “নোয়াপাড়া চা বাগানের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।”

Share this news as a Photo Card