জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

মাধবপুরে কলেজ মাঠ ও রেললাইনে গরুর হাটের অনুমতি নিয়ে সমালোচনা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোর জন্য কলেজের মাঠ ও রেললাইনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অনুমোদন দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত জননিরাপত্তা ও সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদনে বহরা ইউনিয়নের মনতলা সরকারি শাহজালাল কলেজের মাঠসহ রেললাইনের সংলগ্ন এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারি বিধিমালার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা এবং সড়কের পাশে বাজার বসানো নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে নির্ধারিত কলেজ মাঠটির অবস্থা এমনিতেই নাজুক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেখানে গরুর হাট বসানো হলে মাঠটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে হাট বসানো হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

আরও অভিযোগ উঠেছে, অস্থায়ী হাটগুলোর দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। একদিনেই দরপত্র ফরম বিক্রি, জমা ও খোলার দিন নির্ধারণ করায় অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

অন্যদিকে, পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী গরুর বাজারটি ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১ লাখ টাকার নিচের গরুর জন্য মাত্র ৫০০ টাকা এবং এর বেশি মূল্যের গরুর জন্য ১০০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে উপজেলার বাকি ১৭টি অস্থায়ী হাটের ইজারাদাররা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের মতে, পৌর বাজারে কম টোল নির্ধারণের কারণে অধিকাংশ ক্রেতা সেখানে ভিড় করবেন, ফলে অন্যান্য হাটে ক্রেতা সংকট দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “নিজেরা বিধিমালা ভঙ্গ করে কলেজ মাঠের মতো স্থানে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হাস্যকর। বিষয়টি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।”

এদিকে, ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে বিধি মোতাবেক হাটের স্থান নির্ধারণ ও টোল ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা জরুরি।