জনপ্রিয় ৫ সংবাদ

আরো কিছু সংবাদ

বাহুবলে এক অনন্য বিয়ের গল্প: নেপথ্যে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই চিরন্তন বাণীকে বাস্তবে রূপ দিয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ। সংগঠনটির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় এক অসহায় ও পিতৃহীন তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) সুন্দ্রাটিকি গ্রামে অনুষ্ঠিত এ বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। যুব সংঘের সদস্যরা বিয়ের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন ও যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করেন।

 

জানা যায়, পিতৃহীন ওই তরুণীর বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘ। সংগঠনের উদ্যোগে নবদম্পতির নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, রান্নার সামগ্রীসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিয়ের সকল ব্যয়ভার ও আয়োজনও সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হয়।

 

বিয়ের অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুরুব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত থেকে বর-কনেকে আশীর্বাদ ও দোয়া করেন। এমন মহৎ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

 

এ বিষয়ে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের সভাপতি মো. কেফায়েত উল্লা বলেন, “একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী সদস্যরা দূরে থেকেও অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব হতো না।”

 

তিনি আরও বলেন, “গ্রামের মুরুব্বি, উপদেষ্টা ও স্থানীয় এলাকাবাসী যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও যুব সমাজের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা হবে।”

 

এদিকে, যুব সংঘের এমন মানবিক উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং অন্যদেরও মানবসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে।

 

উল্লেখ্য, বিয়ের পুরো আয়োজন সফল করতে সুন্দ্রাটিকি পল্লী উন্নয়ন যুব সংঘের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

বিয়েবাড়ির ব্যবস্থাপনা, অতিথি আপ্যায়ন, খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে বিদায় মুহূর্ত পর্যন্ত তারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।