হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাফিউর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর ভাই ইউনুস ও মেয়ে জাসমিন আক্তার।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালিশিরী গ্রামের একটি পরিবারের সঙ্গে ছায়েদ মিয়ার পরিবারের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ভাই ইউনুস ইজিবাইকে করে চুনারুঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের গতিরোধ করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় তাঁদের তল্লাশি করার সময় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁদের পুলিশের গাড়িতে করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরী গ্রামের শত শত মানুষ চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যানপ্রার্থীরাও থানায় উপস্থিত হন।
পরে বিকেল ৪টার দিকে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যদি সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না।
এদিকে, অভিযোগের পর এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



