হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি ও লাল চান্দ চা বাগানে টানা ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চা উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো চা শ্রমিক।
দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই অঞ্চল। প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস বহনকারী এই শিল্পে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
হবিগঞ্জ জেলার ২৪টি চা বাগান দেশের মোট চা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে, যার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল টি কোম্পানির অধীনে ৫টি সরকারি বাগান।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে থাকা দেউন্দি ও লাল চান্দ চা বাগানে কারখানার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। বাগানগুলোতে প্রায় দুই লক্ষাধিক কেজি কাঁচা চা পাতা মজুদ রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৫০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এসব কাঁচা পাতা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ফলে চা শিল্পে প্রায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের রাজস্ব আয়।
চা শ্রমিকরা জানান, গত ২৬ এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আয়-রোজগারহীন হয়ে পড়েছেন। দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব শ্রমিক পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বারবার চুনারুঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ না দিলে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামার পাশাপাশি বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
লাল চান্দ চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদিত চায়ের মানও কমে যাবে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ইতোমধ্যে কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
চুনারুঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম জুনায়দুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ পোল ভেঙে পড়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে এবং ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।


