হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে।
যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন না করে পছন্দের ব্যক্তি ও পরিচিতজনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী। এ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের উদ্যোগ নেয় উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন।
গত ২৮ জুলাই আবেদনকারীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা প্রার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায়ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পর তারা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
কয়েকজন প্রার্থীর অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীনের বদলির প্রাক্কালে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিদ্যুৎ দাশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় এমন কয়েকজনের নাম রয়েছে, যারা এর আগে সংশ্লিষ্ট ধরনের তথ্য সংগ্রহ বা শুমারি কার্যক্রমে কাজ করেননি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সুপারিশের মাধ্যমে কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন প্রার্থীদের কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিয়োগপ্রত্যাশী আমিনা বেগম বলেন, “নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আমরা কয়েক দিন নবীগঞ্জে আসা-যাওয়া করেছি। অনেক কষ্ট করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। কিন্তু ফল প্রকাশের পর মনে হয়েছে, প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রার্থীও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে ব্যক্তিগত পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের মতে, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি। এ কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে অনিয়মের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করা হলে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এদিকে, ভুক্তভোগী চাকরিপ্রত্যাশীরা অবিলম্বে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


