নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খোলা বাজারে (ওএমএস) বিক্রি করা চাল ও আটা কিনতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় দিন দিন বাড়ছে। চাহিদার তুলনায় ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র ও পণ্যের বরাদ্দ কম থাকায় প্রতিদিনই অনেক মানুষ খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডের বিপরীতে ছয়জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমানে একজন ডিলারের মাধ্যমে পৌর এলাকায় চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি একজন ডিলারকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের কলিমনগর এলাকায় পণ্য বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ভোর থেকেই পৌরসভা ও আশপাশের ইউনিয়ন থেকে শত শত নারী-পুরুষ ওএমএসের চাল ও আটা কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান। তবে নির্ধারিত সংখ্যক ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
সম্প্রতি পৌরসভার হাসপাতাল সড়কের জহুর আলী মার্কেট এলাকায় একটি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই চাল ও আটা কিনতে নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি। দুপুরের আগেই নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যায়। এতে পণ্য না পাওয়া লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সংখ্যক ভোক্তাকে মাথাপিছু ৫ কেজি করে চাল ও আটা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ভোক্তার সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় সবাইকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের এক ডিলার বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি। এর বাইরে আশপাশের ইউনিয়ন থেকেও অনেকে পণ্য কিনতে আসেন। ফলে বিক্রয়কেন্দ্র খোলার আগেই দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। চাহিদা বেশি থাকায় নির্ধারিত পণ্য দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
কলিমনগর এলাকার বিক্রয়কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান। সেখানেও বরাদ্দের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় অনেকে পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় একটি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের কলিমনগর এলাকায় আরও একটি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। পণ্য ও বরাদ্দ খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নতুন বিক্রয়কেন্দ্র চালু বা বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
স্থানীয় দিনমজুর মো. লাল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন অনেক মানুষ ওএমএসের চাল-আটা নিতে আসেন। কিন্তু পণ্য কম থাকায় অনেকে খালি হাতে ফিরে যান। আরও বিক্রয়কেন্দ্র হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে।’
হাসপাতাল রোড এলাকার সিএনজিচালক মো. রমজান আলী বলেন, ‘পৌরসভায় আরও কয়েকটি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। এতে ভিড় কমবে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সহজে চাল ও আটা কিনতে পারবেন।’
স্থানীয়দের দাবি, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় আরও অন্তত তিনটি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে। তাঁরা পুরান বাজার, থানা রোড ও দাউদনগর বাজারের মনিকা সিনেমা হলসংলগ্ন এলাকায় নতুন বিক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবি জানিয়েছেন।


