হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত এক মাসে একই কোম্পানির তিনটি চা বাগান থেকে মোট ৯টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে বাগানগুলোতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চা শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ রবিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের ২১ নম্বর সেকশনে ১২-১৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ চোরের দল বাগানের তিনজন চৌকিদারকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সেচকাজে ব্যবহৃত পাম্পঘরের তালা ভেঙে ৩টি ২৫ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা।
ঘটনার পর বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ দাস বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ট্রান্সফরমারের ভেতরের কয়েল ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে এর আগেও গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একই বাগানে দুই পাহারাদারকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাম্পঘরের তালা ভেঙে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি করা হয়।
এছাড়া গত ৫ মার্চ দিবাগত রাতে একই কোম্পানির লালচান্দ চা বাগানে দুই পাহারাদারকে বেঁধে রেখে বিদ্যুৎ কুটির থেকে একটি ৫ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি একই বাগানের ৪ নম্বর সেকশন থেকে আরও একটি ২৫ কেভি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
অন্যদিকে একই কোম্পানির নোয়াপাড়া চা বাগান থেকেও পাম্পঘরের ২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চোরেরা প্রতিটি ট্রান্সফরমার থেকে ভেতরের তামার কয়েল খুলে নিয়ে বাকিগুলো ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান ও আশপাশের এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি করে ভেতরের তামার তার সংগ্রহ করছে।
একই কোম্পানির তিনটি বাগানে ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চা উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

