হবিগঞ্জকে “পাহাড়, টিলা, হাওর, বন—পর্যটনের সম্ভাবনাময় জেলা” হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক। এরই একটি উদাহরণ মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের আন্দিউড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাটিংগা বিল, যা দীর্ঘদিন ধরেও দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, একসময় এই বিল ছিল বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। আশপাশের মানুষ এখানে মাছ ধরতে এসে আনন্দঘন সময় কাটাতেন। শুধু তাই নয়, পাশের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বহু প্রজাতির পাখিও খাদ্যের সন্ধানে এই বিলে আসত।
তবে বর্তমানে বিলটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে। প্রভাবশালী মহলের দখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে বিলের আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে জীববৈচিত্র ধ্বংসের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কাটিংগা বিল রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “এই বিলটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। কিন্তু এখন দখলদারদের কারণে এটি ধ্বংসের মুখে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, ‘পাখি প্রেমিক সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল জানান, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের আদলে এই বিলকে সংরক্ষণ করা হলে এটি পরিবেশ ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, “জলাভূমি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাটিংগা বিল নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
প্রায় ১০ থেকে ১৫ একর আয়তনের এই বিলটি আন্দিউড়া মৌজার ৫৩৯৮ ও ৫৪১১ দাগে অবস্থিত। বিভিন্ন ছড়া ও জলধারার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এটি শেষ পর্যন্ত তিতাস নদীতে গিয়ে মিশেছে। একসময় প্রাণবন্ত এই বিল এখন অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে কাটিংগা বিল একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
ছবি: কাটিংগা বিলের বর্তমান চিত্র


