হবিগঞ্জের মাধবপুরে নির্যাতনের শিকার এক নারীর ছয় মাস বয়সী শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ওই নারীকে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর গ্রামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তার প্রথম স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধর করে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই তিন সন্তানের মধ্যে একটি শিশুর বয়স মাত্র ৭ মাস। স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টি নিয়ে মাধবপুরের ইউএনও ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৬ আগস্ট) কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দেলোয়ার হোসেন অভিযান চালিয়ে ৭ মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।
পরে অসহায় ওই নারীর বাড়ি ফেরার মতো ভাড়ার টাকাও না থাকায় এএসআই দেলোয়ার হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ফাঁড়িতে এসে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।
স্থানীয়দের মতে, পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা গেলেও একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
এএসআই দেলোয়ার হোসেন সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন মামলার সর্বোচ্চ সংখ্যক আসামি গ্রেপ্তারের স্বীকৃতি হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে জেলা পর্যায়ে সেরা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।
এ বিষয়ে এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, “নিজের সবটুকু দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। সামনে আরও দক্ষ ও ভালো কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য কাজ করছি।”
ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমি পুলিশের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে যে উপকারটুকু করেছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। তাছাড়া আমার উপর পারিবারিক যেসব নির্যাতন চলছে।সেটার একটি আইনের প্রতিকার দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”



