মোজাদ্দেদ আল ফেসানি তামিম: হবিগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুক্রবারও পালিত হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। এতে হবিগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে কোনো ধরনের যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। ফলে টানা দুই দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার হাজারো যাত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে বাস চলাচলের কথা জানান।
তবে মোটর মালিক গ্রুপের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেননি বাস শ্রমিকরা। তাদের দাবি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে অনেক যাত্রী বাস টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ, হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও শেরপুর হয়ে সিলেটগামী ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস’ বাস চলাচল নিয়ে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের বাস মালিক ও শ্রমিকদের আটকে রাখা, মারধরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও করেছে তারা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও এখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হবিগঞ্জে সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় মোটর মালিক গ্রুপ। পরে শ্রমিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের অনুরোধে রাত ১১টার দিকে মালিক পক্ষ ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও শ্রমিকরা তা মেনে নেননি।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
এদিকে, শনিবার বাস চলাচল করবে কি না, নাকি ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে তৃতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ থাকবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।


