অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতন, বেতন-ভাতা না পাওয়া ও অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের সীমান্তবর্তী কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুন। তাকে উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেহেনার নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।
রেহেনার পরিবারের আরও অভিযোগ, রাজধানীর ফকিরাপুলে অবস্থিত ‘জেনিয়া ওভারসিজ’ নামের রিক্রুটিং এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সৌদিতে তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে রেহেনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিচ্ছেন। তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্বজনরা।
পরিবারের দাবি, রেহেনার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ ১ ও ২ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন বলেন, “গত ৩ অক্টোবর আমরা ই-মেইলের মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়েছি। ৫ অক্টোবর লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হবে। লিখিতভাবে জানানোর পর বিষয়টি তাদের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।”
রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আরফিন হক বলেন, “আমাদের মহাপরিচালক স্যার একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন। আমরা সেটি ফলোআপ করব। বিষয়টি আমরা দেখভাল করছি।”
তবে রেহেনার কাছে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসের কোনো প্রতিনিধি পৌঁছেছেন কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “আমার স্ত্রী জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দূতাবাসের লোকজনের সহযোগিতা চাই। দালালরা হুমকি দিচ্ছে, তাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেবে। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।”
পরিবারের দাবি, ৫ অক্টোবর থেকে রেহেনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরতে না দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সহযোগিতা চান।
এদিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
রেহেনাকে দ্রুত শনাক্ত করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নির্যাতন ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।


