Category: শিক্ষা

  • মাধবপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা: সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ!

    মাধবপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা: সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ!

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এসএসসি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাকে ঘিরে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

    লিখিত আবেদন করেও ৫ জন সাংবাদিককে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অনুমতি বঞ্চিত সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক মানবজমিনের মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি এমএম গউস, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি কায়েস আহমেদ সালমান, আরটিভি ডিজিটাল করেসপন্ডেন্ট ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি, এনপিবি ও দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি ত্রিপুরারি দেবনাথ তিপু এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের উপজেলা প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন নোমান।

    জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল তারা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও অনুলিপি পাঠান। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত কোনো অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সাংবাদিকসহ বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।

    এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। তাই সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।”

    তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের উপস্থিতি জরুরি। সেখানে সাংবাদিকদেরই বাইরে রাখা হচ্ছে—এতে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

    দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি কায়েস আহমেদ সালমান বলেন, “এটি সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ। এতে পরীক্ষা কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”

    দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি এমএম গউস বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাংবাদিকদের ঢুকতে না দিলে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হবে।”

    এ বিষয়ে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রউফ সেলিম বলেন, “সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় না। নিয়ম মেনেই তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।”

    সামগ্রিক পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেছেন।

  • হবিগঞ্জ দারুচ্ছুন্নাৎ কামিল মাদ্রাসার ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের সাফল্য, জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন

    হবিগঞ্জ দারুচ্ছুন্নাৎ কামিল মাদ্রাসার ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের সাফল্য, জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন

    হবিগঞ্জ দারুচ্ছুন্নাৎ কামিল মাদ্রাসার বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা “লেজার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম” উদ্ভাবন করে জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে।

    হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রকল্প উপস্থাপন প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা সিনিয়র গ্রুপে দলীয়ভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

    এ সাফল্যে মাদ্রাসাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের সনদ প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

  • কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

    কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

    কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম, হবিগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আয়োজিত কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এতে ট্যালেন্টপুল, সাধারণ ও বিশেষ—এই তিনটি গ্রেডে মোট ৩৭৭ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

    মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ বিজয়ী হয়েছে মাধবপুর পাইলট হাই স্কুলের শিক্ষার্থী আরাবি রহমান।

    কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম, হবিগঞ্জ জেলার চেয়ারম্যান লায়েক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং জেলার পৃষ্ঠপোষক জামিল হুসাইন রাজু ও আশরাফুল ইসলাম সুজনের যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস ও কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষক এস এম ফরহাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কিশোরকণ্ঠ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

    তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো বন্ধু নির্বাচন, নৈতিকতা গঠন এবং বড় স্বপ্ন দেখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি সন্তানের সার্বিক বিকাশে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমদ এবং কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের সিলেট অঞ্চলের পৃষ্ঠপোষক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা তুহিন।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম, হবিগঞ্জ জেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট নুরুন্নবী উজ্জ্বল, মীর জমিলুন্নবী ফয়সল, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম, হাফেজ মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, হোসাইন আহমেদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মাদ হারুন এবং দি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান আতিকুল ইসলাম সোহাগ।

    বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

  • চা বাগানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ সেট বেঞ্চ দিল লিফলাইট ফাউন্ডেশন

    চা বাগানের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ সেট বেঞ্চ দিল লিফলাইট ফাউন্ডেশন

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও নালুয়া চা বাগান এলাকায় দীর্ঘদিনের শিক্ষাসংকট নিরসনে এগিয়ে এসেছে লিফলাইট ফাউন্ডেশন। শিক্ষার্থীদের মাটিতে বসে বা গাদাগাদি করে ক্লাস করার কষ্ট লাঘবে লস্করপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও নালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট ২০ সেট বেঞ্চ প্রদান করেছে সংগঠনটি।

    সম্প্রতি আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই বিদ্যালয়ে ১০ সেট করে বেঞ্চ হস্তান্তর করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী মাহমুদা খাঁ, যিনি চা বাগান এলাকায় “মাহমুদা খাঁ আপু” নামে সুপরিচিত।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লস্করপুর চা বাগানের সভাপতি ভজন ভৌমিক, লস্করপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুপম মাল, নালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনন্ত মুন্ডাসহ শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেঞ্চ সংকটে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তি ও নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।

    এছাড়া বেঞ্চ প্রস্তুত ও বিতরণে আর্থিক সহযোগিতার জন্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা আবু সালেহ চৌধুরী ও জাফর মালিককে ধন্যবাদ জানানো হয়।

    উল্লেখ্য, লিফলাইট ফাউন্ডেশন এর আগেও এসব বিদ্যালয়ে টিউবওয়েল, টয়লেট, টিন ও স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ প্রদান করেছে। ২০০৯ সাল থেকে সংগঠনটি চা বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারী ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

    পরিচালক মাহমুদা খাঁ জানান, ভবিষ্যতে মেয়েদের জন্য একটি নারী ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • হবিগঞ্জ ইকরা শিশুদের যুদ্ধবিরোধী অভিনব প্রতিবাদ

    হবিগঞ্জ ইকরা শিশুদের যুদ্ধবিরোধী অভিনব প্রতিবাদ

    ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ এমন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে শিশু হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে হবিগঞ্জ ইকরা বাংলাদেশ স্কুল ও ইকরা দারুল উলূম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) সকালে হবিগঞ্জ ইকরায় যুদ্ধবিরোধী পত্রে গণস্বাক্ষর করেন শিক্ষার্থীরা।

    বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের উপর গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর গ্রহণের সময় স্কুলটির প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা মাসউদুল কাদির বলেন, শিশুরা ফুল। কোনো ক্ষেত্রেই শিশুদের উপর হামলা মেনে নেয়া যায় না। সব যুদ্ধে নারী ও শিশুদের প্রতি এমন খুনোখুনি মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

    শিশুদের জন্য বিশ্বকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকে বারূদমুক্ত ঘোষণা দিন। শিশুদের জন্য বিশ্বটাকে ছেড়ে দিন।

    গণস্বাক্ষরপত্রে অসম যুদ্ধের প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেন হবিগঞ্জ ইকরার শিক্ষক, মাওলানা সাজিদুল ইসলাম, মুফতি সামিল আহমদ ওসমান, মাওলানা নাজমুল হাসান, হাফিজ হাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সাথী আক্তার, সুইটি আক্তার প্রমুখ।

  • হবিগঞ্জে ভুয়া বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ; ফেসবুকে তীব্র আলোচনা–সমালোচনা

    হবিগঞ্জে ভুয়া বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ; ফেসবুকে তীব্র আলোচনা–সমালোচনা

    হবিগঞ্জে ৪৪তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ‘শাকিল আহমেদ’ নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে ৪৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বলে দাবি করে সামাজিক মর্যাদা অর্জন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একাধিক পোস্ট ও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে—শাকিল নামের ওই যুবক নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং প্রশাসন ক্যাডার পরিচয়ে চলাফেরা করতেন।

    এ বিষয়ে জানতে শাকিল আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

    ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ৪৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা হবিগঞ্জ নিউজকে জানান,

    “শাকিল নামে ওই ব্যক্তি আমাদের ৪৪তম প্রশাসন ক্যাডারের কোনো অফিসিয়াল গ্রুপে নেই। তাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে চেনে না, এমনকি চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত তালিকাতেও তার নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে আলোচনা চলছে।”

    ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক দীর্ঘ অনুসন্ধানমূলক পোস্টে দাবি করা হয়—শাকিল প্রকৃতপক্ষে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতেও উত্তীর্ণ হননি। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি অন্য একজন প্রকৃত ক্যাডারের রোল নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া এডমিট কার্ড তৈরি ও প্রদর্শন করেন।

    ওই অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (NSI), দুদক, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ একাধিক পর্যায়ে খোঁজ নেওয়া হলেও তার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবগত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বর্তমান কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    এ ঘটনায় সচেতন মহল বলছে, বিসিএসের মতো সম্মানজনক ও কষ্টসাধ্য একটি পরীক্ষাকে ব্যবহার করে প্রতারণা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

  • হবিগঞ্জের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ মাস ধরে বেতনহীন ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী

    হবিগঞ্জের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ মাস ধরে বেতনহীন ১৭ শিক্ষক-কর্মচারী

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত তালিবপুর আহসানিয়া মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে টানা ৮ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী। এর মধ্যে ১১ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন।

    দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবার আজ দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কেউ কেউ সংসার চালাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকে মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনাই এই সংকটের মূল কারণ। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আলমাস উদ্দিন বলেন,

    “বর্তমানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আমরা বারবার তার কাছে গিয়েছি সমস্যার সমাধানের জন্য, কিন্তু তিনি আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।”

    বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিয়াউর রহমান জানান,

    “কয়েক মাস আগে আমরা ইউএনও স্যারের কাছে বেতন-ভাতা পাওয়ার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা এখনও বেতন পাচ্ছি না।”

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন,“বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কতিপয় ব্যক্তি আমাদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ করছে। সেই টাকাই তারা লুটেপুটে খাচ্ছে, আর আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকছি।”

     

    এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন কল ও মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

    শিক্ষক-কর্মচারীরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।