Category: আজমিরীগঞ্জ

  • আজমিরীগঞ্জ তিন মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ যুবক নিহত, আহত ২

    আজমিরীগঞ্জ তিন মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ যুবক নিহত, আহত ২

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তিনটি মোটরসাইকেলের মোখামুখি সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহতরা হলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দন দাসের ছেলে অন্তর (২৫), বানিয়াচং উপজেলা সদরের আমিরখানী মহল্লার লস্করবাড়ির ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর (২৫) এবং একই বাড়ির ( লস্করবাড়ি) নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (২২)৷

    গুরুতর আহতরা হলেন সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু ( ৩৫) এবং চুনারুঘাট উপজেলার গোছাপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে মিজান মিয়া ( ২৭)৷ আহতদের দুজনই বুরো বাংলাদেশের কর্মচারি৷

    ঘটনার খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন৷ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ‌মিরীগঞ্জ থানার ও‌সি মোঃ আকবর হোসেন ঘটনার সত‌্যতা নিশ্চিত করেন।

  • জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আজমিরীগঞ্জে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

    জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আজমিরীগঞ্জে কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

    জুবায়ের আহমেদ:  “জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬” উদযাপন উপলক্ষে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় চিত্রাঙ্কন, রচনা ও পুষ্টি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার সকালে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইকবাল হোসেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকবর হোসেন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আমজাদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

    বক্তারা বলেন, সঠিক পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ জাতি গঠনে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে পুষ্টি বিষয়ে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করে।

  • ইউরোপে পাঠানোর নামে মানবপাচার, হবিগঞ্জে দুই সদস্য গ্রেপ্তার

    ইউরোপে পাঠানোর নামে মানবপাচার, হবিগঞ্জে দুই সদস্য গ্রেপ্তার

    ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার ও বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯।

    র‍্যাব জানায়, ভুক্তভোগী এক যুবককে ইতালি পাঠানোর কথা বলে চক্রটি তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আরও টাকা দাবি করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একাধিক মরদেহ দেখা যায়। এতে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়। তবে ভুক্তভোগীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯ এর একটি দল সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রুমান মিয়া (৩৬) ও সোহাগ মিয়া (২৫)।

    র‍্যাব জানিয়েছে, আটক দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আজমিরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জে ৯ মার্ডার মামলার পলাতক ইউপি সদস্যসহ ৪ জন আটক

    বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জে ৯ মার্ডার মামলার পলাতক ইউপি সদস্যসহ ৪ জন আটক

    হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে পৃথক অভিযানে সেনাবাহিনী ৯ মার্ডার মামলার পলাতক আসামি এক ইউপি সদস্যসহ মোট ৪ জনকে আটক করেছে।

    সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বানিয়াচং উপজেলার ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কামালখানী মহল্লায় ফজরের আজানের পূর্ব মুহূর্তে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ইউপি সদস্য শহীদ মিয়া (৩৫)। তিনি ওই এলাকার মানিক মিয়ার পুত্র এবং বহুল আলোচিত ৯ মার্ডার মামলার ৬৭নং পলাতক আসামি।

    অন্যদিকে, একই উপজেলার ৮নং খাগাওড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কুর্শী খাগাওড়া গ্রামে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তোফায়েল আহমেদ (৩২)। তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় দায়ের হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতের মামলার আসামি। আটক তোফায়েল আহমেদ স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি ওই গ্রামের আবু বক্কর মিয়ার পুত্র।

    এদিকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক অভিযানে আরও দুইজনকে আটক করে সেনাবাহিনী। আটককৃতরা হলেন— উপজেলার ৩নং জলসুখা ইউনিয়নের শংকর পাশা গ্রামের আওলাদ মিয়ার পুত্র ডাক্তার রেজাউল করিম এবং একই গ্রামের কামরুল মিয়ার পুত্র সাইদুর মিয়া। তাদের বিরুদ্ধে মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

    সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলার ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরে সকল আটক ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনী আরও জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • আজমিরীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক

    আজমিরীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত শতাধিক

     

    হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও গ্রামে ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে রাসেল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।

     

    নিহত রাসেল মিয়া কুমেদপুর এলাকার সুজাত মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রাব্বি মিয়া (১৮), ছাব্বির (২১), ইনতাজ আলী (১৬), সেলিম (২৫), বাবলু (৩৫), জিয়াউর (৫০), তকদির (২৮), আলতু মিয়া (১৮), রায়হান (২৮), আশরাফ উদ্দিন (২৪), মাসুম (২৬), জীবন (২৮) ও আমেনা খাতুন (২৫)সহ আরও অনেকে বর্তমানে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারো হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

     

    স্থানীয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের ইটনা–মিঠামইন আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ চলছিল। এডভোকেট ফজলুর রহমান মনোনয়ন পাওয়ার পর তার সমর্থক কাকাইলছেও গ্রামের বিএনপি নেতা হান্নান মিয়া ফেসবুকে প্রচারণা শুরু করেন। অন্যদিকে একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ডিসি রহিম মোল্লার সমর্থকরা এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন। সোমবার বিকেলে হান্নান মিয়া সওদাগর পরিবারের এক মৃত সদস্যকে নিয়ে অবমাননাকর স্ট্যাটাস দিলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় এবং তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতা আল কোরআন সওদাগরের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

     

    অভিযোগ রয়েছে, সোমবার রাতে হান্নান মিয়ার অনুসারীরা আল কোরআন সওদাগরের দোকানে হামলা চালিয়ে ফ্রিজ, সাইকেল, মোবাইল ফোন, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এছাড়া কুহিন সওদাগরের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে হান্নান মিয়ার পক্ষ দাবি করে সওদাগর পরিবারের লোকজনই প্রথমে তাদের ফার্নিচারের দোকানে হামলা চালিয়েছিল এবং তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায়।

     

    আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকবর আলী বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত। রাসেল মিয়াকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • হবিগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা

    হবিগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

    সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    ঘোষিত তিন প্রার্থী হলেন:

    হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ): ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন।

    হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ): আলহাজ্ব জি কে গউছ।

    হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর): সৈয়দ ফয়সল।

    তবে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে এখনো বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অচিরেই ওই আসনের প্রার্থীও ঘোষণা করা হবে।

  • হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমেরীগঞ্জ) আসনে কে হতে যাচ্ছেন আগামীর এমপি?

    হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমেরীগঞ্জ) আসনে কে হতে যাচ্ছেন আগামীর এমপি?

    জুনাইদ আহমেদ: হবিগঞ্জ-২ আসন পূর্বে সিলেট-১৬ আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে এটি হবিগঞ্জ-২ আসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পর থেকে ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনসহ এখন পর্যন্ত মোট ১১টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     

     

    এর মধ্যে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে ৮ বার,

    জাতীয় পার্টি ২ বার এবং বিএনপি ১ বার।

    ১৯৮৬-সাল থেকে ২০২৪ এর ডামি এমপিসহ বিজয়ীদের নাম,

    ১৯৮৬ – সিরাজুল হোসেন খান – জাপা

    ১৯৮৮ – সিরাজুল হোসেন খান – জাপা

    ১৯৯১ – শরীফ উদ্দিন আহমেদ – আওয়ামী লীগ

    ১৯৯৬ – জাকারিয়া খান চৌধুরী – বিএনপি

    জুন ১৯৯৬ – শরীফ উদ্দিন আহমেদ – আওয়ামী লীগ

    ১৯৯৭ (উপনির্বাচন) – সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত – আওয়ামী লীগ

    ২০০১ – নাজমুল হাসান জাহেদ –আওয়ামী লীগ

    ২০০৮ – আব্দুল মজিদ খান – আওয়ামী লীগ

    ২০১৪ – আব্দুল মজিদ খান – আওয়ামী লীগ

    ২০১৮ – আব্দুল মজিদ খান – আওয়ামী লীগ

    ২০২৪ – ময়েজ উদ্দিন শরীফ – আওয়ামী লীগ

     

    এই আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের হলেও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে এর পট পরিবর্তন হয়েছে। এইবার যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে নেই তাই আওয়ামী লীগের ভোট এখানে ফ্যাক্টর। এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোট রয়েছে প্রায় ৪৭%, বাকি ৫৩% রয়েছে অন্যান্য দলের।

     

    আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে হবিগঞ্জ-২ আসনে ইতোমধ্যে জামায়াত তার একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল বাছিত আজাদ হুজুর।বিএনপি এখনো অফিসিয়ালি প্রার্থী ঘোষণা করে নাই।

     

    আগামী নির্বাচনে কে হতে যাচ্ছেন হবিগঞ্জ-২ আসনে এমপি? একটু পর্যালোচনা করে দেখা যাক।

     

    খেলাফত মজলিসের প্রার্থী :

    বানিয়াচংয়ের “বড় হুজুর” হিসেবে সমাধিক পরিচিত, খেলাফত মজলিসের বর্তমান আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আযাদ হুজুর একজন দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান আলেম। তাঁর চিন্তাভাবনা, নেতৃত্বদক্ষতা ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি অবিচল অবস্থান অনুকরণীয়। আব্দুল বাছিত আজাদ হুজুর যেমন একজন আলেম হিসেবে সমাদৃত পরিচিত, তেমনি জনসমর্থনও রয়েছে ব্যাপক। হবিগঞ্জ-২ আসনে আব্দুল বাছিত আজাদ হুজুরকে খেলাফত মজলিস এখন পর্যন্ত এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর পূর্বে খেলাফত মজলিস এই আসনে কখনই একক প্রার্থী ঘোষণা করে নাই।

     

    উল্লেখ্য যে, আব্দুল বাছিত আজাদ হুজুর ২০১৮ সালের ২০-দলীয় জোটে এই আসনে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল মজিদকে হারিয়ে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো ।

     

    এইবার যদি দেশের সকল ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাঁকে সমর্থন দেন, এবং হবিগঞ্জ-২ আসনে আব্দুল বাছিত আজাদ হুজুরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণের সূচনা করবেন এবং বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও খুব বেশি।

     

    জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী :

    জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এডভোকেট জিল্লুর রহমান আজমী ভাইকে, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা হাতিরঝিল থানার আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ছিলেন।

    জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষণা করার পর এডভোকেট জিল্লুর রহমান আজমী ভাই ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজমেরীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং বানিয়াচং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আজমী ভাই ভালোই দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন। বলতে গেলে এখন মোটামুটি ভালো একটি অবস্থান তিনি তৈরি করে ফেলেছেন।

    ইতোমধ্যে শিবির ডাকসু, জাকসু, চাকসু এবং রাকসুতে যে বিজয় অর্জন করেছে, এর একটা প্রভাব গ্রামগঞ্জে পড়ছে। শিবিরের বিজয় গ্রামগঞ্জে জামায়াতের বিজয়ই মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া দিন দিন জামায়াতের জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তবে জামায়াত যদি জোটবদ্ধ হয় তাহলে জামায়াত হয়তো এই আসনটা ছেড়ে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামী এই আসনে একক প্রার্থী দিয়ে ভোট পেয়েছিল ৯.২% (প্রার্থী ছিলেন ফজলুল করিম) এবং ১৯৯৬ সালে একক প্রার্থী হিসেবে ভোট পেয়েছিল ৩.৮% (প্রার্থী ছিলেন আশরাফ উদ্দিন)।

     

    ৩: বিএনপির প্রার্থী :

    বিএনপি এই আসনে এখন পর্যন্ত একক প্রার্থী ঘোষণা করে নাই। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দুইজন –

    একজন আহমেদ আলী মুকিব, যিনি বর্তমানে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক। এর পূর্বে তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সৌদি আরব বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    অন্যজন হলেন ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বর্তমান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য।

     

    এই আসনে সম্ভবত মনোনয়ন পাবেন ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন জীবন। তাঁর ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে এবং দলের জন্য তিনি দেশে থেকেই অনেক কিছু করেছেন। অন্যদিকে আহমেদ আলী মুকিবেরও ভালো জনসমর্থন রয়েছে; ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

     

    শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটাই দেখার বিষয়। সর্বশেষ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন জীবন ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৩.০% জনসমর্থনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

     

    তবে এটা নিশ্চিত,এই আসনে বিএনপির জিতে আসাটা এত সহজ হবে না। কারণ জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলো যদি জোটবদ্ধ হন তাহলে এই আসনের প্রার্থী হবেন খেলাফত মজলিসের আমীর, বানিয়াচংয়ের বড় হুজুর খ্যাত আব্দুল বাছিত আজাদ।

    হুজুরের ব্যাপক পরিচিতি এবং জনসমর্থন রয়েছে, বিজয়ের সম্ভাবনাও বেশ বেশি।