Category: শিক্ষা

  • সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

    সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা শাহজালাল সরকারি কলেজসংলগ্ন ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের তিনটি মূল্যবান আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

    মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মাহাদি হাসান।

     

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা মূল্যবান আকাশমনি গাছগুলো অধ্যক্ষের নির্দেশে কাটা হয়েছে। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত এবং স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা সেখানে খেলাধুলা করত। সরকারি জমির গাছ কীভাবে এবং কার অনুমতিতে কাটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

     

    স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “ডিসি খতিয়ানভুক্ত মাঠের গাছ কেটে ফেলা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত, মানুষ সেখানে খেলাধুলা করত। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

    অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। গাছ কাটার অনুমতি, বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের দাবি, গাছগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই লাগিয়েছিল এবং সেগুলো কলেজের সম্পত্তি। তাঁর ভাষ্য, কিছু গাছের ডালপালা ঝরে পড়ায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এদিকে, কলেজসংলগ্ন সরকারি মাঠে বাউন্ডারি নির্মাণকাজ নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এর আগে মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় প্রশাসন কাজটি স্থগিত করে। তবে মাঠে পড়ে থাকা অর্ধনির্মিত বাউন্ডারির বাঁকানো রড পথচারী ও খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব বিপজ্জনক রড দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের গাছ যথাযথ অনুমতি ছাড়া কাটার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দুই কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তিনি নিজেও পর্যবেক্ষণ করছেন।

    সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগের পাশাপাশি মাঠের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তদন্তে গাছ কাটার অনুমতি, দায়দায়িত্ব এবং সরকারি সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

  • মাধবপুরে স্বচ্ছতা গ্রুপের চিকিৎসা সহায়তা পেলেন স্কুল ছাত্রী ইভা

    মাধবপুরে স্বচ্ছতা গ্রুপের চিকিৎসা সহায়তা পেলেন স্কুল ছাত্রী ইভা

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে অনলাইনভিত্তিক মানবিক সংগঠন স্বচ্ছতা গ্রুপের ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগুনে পুড়ে যাওয়া অসহায় ইসরাত জাহান ইভাকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

     

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় উপজেলার ১১নং বাঘাসুরা ইউনিয়নের ছালেহাবাদ (হরিতলা) গ্রামে অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা গ্রুপের ১০৮তম মানবিক প্রোগ্রামে অতিথি ও সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী ইভা আগুনে পুড়ে অধিকাংশ মুখমণ্ডল জলসে যায়। চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় ঢাকা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

     

    অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা গ্রুপের সদস্য মুফতি শফিকুল ইসলাম ডালিম-এর সভাপতিত্বে এবং স্বচ্ছতা গ্রুপের সদস্য মো: নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহিদুল আলম সর্দার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছালেহাবাদ মাদরাসার সাবেক শিক্ষক মাওলানা সোলাইমান মিয়া জিহাদী, ইমাম ও খতিব মাওঃ মনজুরুল হক , মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সালেহী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও নূরুল আমিন কুরাইশী।

     

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বচ্ছতা গ্রুপের সদস্য সাব্বির হোসেন সাগর, সাংবাদিক শেখ ইমন আহমেদ, সিদ্দিক মিয়া,মোস্তুফা কামাল শিবলী, মোখলেসুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান,জুবাইদ মিয়া রুবেল।

     

    সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তারা আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে স্বচ্ছতা গ্রুপ মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দুস্থ ও চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিয়মিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    বক্তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

     

    অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় মো: নজরুল ইসলাম, মাওলানা মো: মুজিবুর রহমান ও মো: জুবায়েদ মিয়া রুবেল কে সম্মাননা স্বারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়েছে।

  • ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি

    ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রী ও জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (AUW) চার বছর মেয়াদি উচ্চশিক্ষার জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

     

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক চিঠির মাধ্যমে জেমিকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বৃত্তির আওতায় প্রতি বছর তিনি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন।

     

    জানা যায়, জেমি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করেন। পরে তিনি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজে ভর্তি হন এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

     

    এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন জেমি। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত এ প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।

     

    জেমির পরিবার সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়া গ্রামের মো. আফজাল আলীর বড় মেয়ে জেমি। তাঁর বাবা দাউদনগর বাজার এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালান। আর্থিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষের সহযোগিতাও জেমির শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

     

    জেমির ছোট ভাই বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত।

     

    জেমি বলেন, নিজের আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কারণেই তিনি সামার স্কুল প্রোগ্রামটি সফলভাবে শেষ করতে পেরেছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার সুযোগ পাওয়াকে তিনি তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।

     

    এদিকে জেমির বৃত্তি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ, শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এ অর্জনে গর্বিত স্থানীয়রা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

  • নবীগঞ্জে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এসএসসিতে পাসের হার ৪৬.৫৬%, দাখিলে ৬৭.০২%

    নবীগঞ্জে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এসএসসিতে পাসের হার ৪৬.৫৬%, দাখিলে ৬৭.০২%

    সারা দেশের ন্যায় নবীগঞ্জ উপজেলায়ও প্রকাশ হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। এবার নবীগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৫২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১৭৪ জন। জিপিএ-৫ (এ+) পেয়েছেন মোট ৪৩ জন। উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৬.৫৬ শতাংশ।

     

    অন্যদিকে, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৮৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৬৫ জন এবং জিপিএ-৫ (এ+) পেয়েছেন ১০ জন। এ পরীক্ষায় উপজেলায় পাসের হার ৬৭.০২ শতাংশ।

    এদিকে, ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করে আসছে নবীগঞ্জ হোমল্যান্ড আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এবারের ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮১.০২ শতাংশ, যা উপজেলার এসএসসি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফল।

     

    এছাড়া নবীগঞ্জ জে.কে. সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, হিরামিয়া গার্লস স্কুল ও হাজী আনজব আলী উচ্চ বিদ্যালয়-এর ফলাফলও সন্তোষজনক হয়েছে।

     

    দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় নবীগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে দারুল হিকমাহ জামিয়া আলিম মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৬.৩০ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন পাসের হার নবীগঞ্জ নহরপুর দাখিল মাদ্রাসায়, প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৭.০৭ শতাংশ।

    ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

  • এক পরিবারের দুই ভাই দুই এমপিওভুক্ত হাইস্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি

    এক পরিবারের দুই ভাই দুই এমপিওভুক্ত হাইস্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় দুটি এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নাম আসায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

     

    উপজেলার বহড়া ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী। অপরদিকে পার্শ্ববর্তী এমপিওভুক্ত অপরূপা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তার ভাই এডভোকেট নিজাম খা   নাম এক নম্বরে রেখে প্রস্তাব করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যেই তার মনোনয়নের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

     

    বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্যের পছন্দের তালিকা অনুযায়ী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নাম বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও’র নির্ধারিত পছন্দের ব্যক্তিদেরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হচ্ছে এবং দলীয় বিবেচনায় বিশেষ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

     

    এদিকে আন্দিউড়া ইউনিয়নের উমেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নিয়েও এলাকায় আন্দোলন চলছে বলে জানা গেছে।

     

    স্থানীয় বাসিন্দা মন্ডল আলী বলেন, “এলাকায় আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, তাদেরও সুযোগ দেওয়া যেতে পারত। তবে তারা যদি ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ইতিবাচক হবে।”

     

    এ বিষয়ে জানতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

     

    মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটির সভাপতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। অন্যটির বিষয়েও শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই পরিবারের দুইজন হওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ নেই। তারা উভয়ই আইনজীবী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”

  • হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা – হুইপ জি কে গউছকে গার্ড অব অনার

    হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা – হুইপ জি কে গউছকে গার্ড অব অনার

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ (সিলেট শিক্ষা বোর্ড)-এ কৃতিত্ব অর্জনকারী হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

     

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ।

     

    প্রধান অতিথি বিদ্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের স্কাউট, বিএনসিসি ও কাব দলের সদস্যরা সুসজ্জিত পোশাকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ড্রাম দলের পরিবেশনায় অতিথিদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।

     

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজমীন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল কাইয়ুম।

     

    অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ এবং জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন।

     

    পরে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের মেধা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

     

    অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • লাখাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেল ২৮ শিক্ষার্থী

    লাখাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেল ২৮ শিক্ষার্থী

    হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

    রোববার (১২ জুলাই) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর ফলাফল প্রকাশ করে। দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উপজেলার ৩৮১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।

    বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ২৭ জন, যারা সবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বেসরকারি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ট্যালেন্টপুলে কেউ বৃত্তি অর্জন করতে পারেনি।

    এছাড়া সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে ১ জন শিক্ষার্থী। এই গ্রেডেও বেসরকারি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ বৃত্তি লাভ করেনি।

    ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারুগাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৬ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। করাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন ট্যালেন্টপুলে ও ১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।