Category: মাধবপুর

  • সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

    সরকারি মাঠের গাছ কাটার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা শাহজালাল সরকারি কলেজসংলগ্ন ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের তিনটি মূল্যবান আকাশমনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

    মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম এবং হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মাহাদি হাসান।

     

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা মূল্যবান আকাশমনি গাছগুলো অধ্যক্ষের নির্দেশে কাটা হয়েছে। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত এবং স্থানীয় শিশু-কিশোরেরা সেখানে খেলাধুলা করত। সরকারি জমির গাছ কীভাবে এবং কার অনুমতিতে কাটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

     

    স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, “ডিসি খতিয়ানভুক্ত মাঠের গাছ কেটে ফেলা হলেও দেখার যেন কেউ নেই। গাছগুলো মাঠে ছায়া দিত, মানুষ সেখানে খেলাধুলা করত। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”

    অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। গাছ কাটার অনুমতি, বন বিভাগের ছাড়পত্র কিংবা দরপত্রের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের দাবি, গাছগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই লাগিয়েছিল এবং সেগুলো কলেজের সম্পত্তি। তাঁর ভাষ্য, কিছু গাছের ডালপালা ঝরে পড়ায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

    এদিকে, কলেজসংলগ্ন সরকারি মাঠে বাউন্ডারি নির্মাণকাজ নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এর আগে মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় প্রশাসন কাজটি স্থগিত করে। তবে মাঠে পড়ে থাকা অর্ধনির্মিত বাউন্ডারির বাঁকানো রড পথচারী ও খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব বিপজ্জনক রড দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, ডিসি খতিয়ানভুক্ত সরকারি মাঠের গাছ যথাযথ অনুমতি ছাড়া কাটার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দুই কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি তিনি নিজেও পর্যবেক্ষণ করছেন।

    সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগের পাশাপাশি মাঠের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তদন্তে গাছ কাটার অনুমতি, দায়দায়িত্ব এবং সরকারি সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

  • জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে মাধবপুরের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে সিলেট বিভাগে মাধবপুরের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

    জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে পারফরম্যান্সের দিক থেকে সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান।

    এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি ইউএনও মেহেদী হাসানের কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একজন কর্মতৎপর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মেহেদী হাসান প্রতিটি কাজকে গুরুত্ব দেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দীর্ঘসূত্রতা করেন না। তাঁর কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসনীয়।

    ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই তাঁর কর্মতৎপরতা দেখে মনে হয়েছিল, তিনি হবেন বাংলা সিনেমার আলোচিত চরিত্র ‘মিনিস্টার ফাটাকেষ্ট’-এর মতো ‘মাধবপুরের ফাটাকেষ্ট’। কারণ, তাঁর কাছে কোনো কাজ নিয়ে গেলে শুধু ‘দেখছি, দেখব’ বলে সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে কাজের গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

    তিনি আরও বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে এই অর্জন তাঁর কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, একইভাবে সততা, নিষ্ঠা ও কর্মস্পৃহা নিয়ে কাজ করে গেলে ইউএনও মেহেদী হাসান প্রশাসনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবেন।

    ইউ এনওন মেহেদী হাসান বলেন, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এসব দায়িত্ব একটি ইবাদতের অংশ হিসেবে করছি।

  • মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

    মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপন উপলক্ষে এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান।

    ​সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায় এবং মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা।

    ​রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক (বা সাংগঠনিক সম্পাদক) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাফিজ ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. সোহেল, পৌর জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রহমান সোহাগ ও সেক্রেটারি আব্দুস সামাদ মানিক।

    ​সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মনোজ কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক লিটন রায়, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক হীরেশ বাবু, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. হরি বাবুসহ উপজেলার ১১৫টি পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিবৃন্দ।

    ​সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

  • সৌদিতে নির্যাতিত সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে, শিগগিরই ফিরছেন দেশে

    সৌদিতে নির্যাতিত সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে, শিগগিরই ফিরছেন দেশে

    সৌদি আরবের জেদ্দায় গৃহকর্মী ভিসায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুনকে অবশেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে তার নির্যাতনের খবর প্রকাশের পর গত ৫ অক্টোবর তাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দিয়ে রেহেনা খাতুনকে দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রেহেনা খাতুনকে দেশে ফেরানো হবে। তার জন্য বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছেন।

    রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যারা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। তবে রেহেনার পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র। তার পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    এদিকে ভুক্তভোগী রেহেনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সর্বশেষ এক ইমু ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, তার বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া তার কাছ থেকে জোর করে একটি জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই ভিডিও বার্তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেহেনা।

  • ২ মাস ধরে নির্যাতিত রেহেনা, সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ২ মাস ধরে নির্যাতিত রেহেনা, সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতন, বেতন-ভাতা না পাওয়া ও অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের সীমান্তবর্তী কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুন। তাকে উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

     

    পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেহেনার নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।

     

    রেহেনার পরিবারের আরও অভিযোগ, রাজধানীর ফকিরাপুলে অবস্থিত ‘জেনিয়া ওভারসিজ’ নামের রিক্রুটিং এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সৌদিতে তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে রেহেনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিচ্ছেন। তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্বজনরা।

     

    পরিবারের দাবি, রেহেনার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

     

    এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ ১ ও ২ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন বলেন, “গত ৩ অক্টোবর আমরা ই-মেইলের মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়েছি। ৫ অক্টোবর লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হবে। লিখিতভাবে জানানোর পর বিষয়টি তাদের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।”

     

    রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

     

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আরফিন হক বলেন, “আমাদের মহাপরিচালক স্যার একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন। আমরা সেটি ফলোআপ করব। বিষয়টি আমরা দেখভাল করছি।”

     

    তবে রেহেনার কাছে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসের কোনো প্রতিনিধি পৌঁছেছেন কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

     

    এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

     

    রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “আমার স্ত্রী জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দূতাবাসের লোকজনের সহযোগিতা চাই। দালালরা হুমকি দিচ্ছে, তাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেবে। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।”

     

    পরিবারের দাবি, ৫ অক্টোবর থেকে রেহেনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরতে না দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সহযোগিতা চান।

     

    এদিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

     

    রেহেনাকে দ্রুত শনাক্ত করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নির্যাতন ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

  • পাঠাগারের সরকারি বরাদ্দের টাকা গেল স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগ নেতার পকেটে!

    পাঠাগারের সরকারি বরাদ্দের টাকা গেল স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগ নেতার পকেটে!

    মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঐতিহ্যবাহী হরষপুর পাঠাগারের সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলন ও ব্যয় নিয়ে পাঠাগার কমিটির দুই নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।

    ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ উত্তোলনের পরও সংশ্লিষ্ট কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সরকারি অর্থের সুষ্ঠু তদন্ত ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

     

    অভিযোগের মুখে রয়েছেন হরষপুর পাঠাগার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি তৌহিদ হোসেন এবং প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ঠাকুর। তৌহিদ হোসেন স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আবু তাহের ঠাকুর মাধবপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

     

    জানা যায়, মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের আওতায় গত জুন-জুলাইয়ের বাজেটে ধর্মঘর ইউনিয়নের হরষপুর পাঠাগারের জন্য টিআর/কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের প্রথম ধাপে কাজের জন্য অর্থ উত্তোলন করা হলেও পুরো কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী ধাপে ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও ওই অর্থের বিপরীতে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

     

    এ নিয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি তৌহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ঠাকুরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

     

    ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে তৌহিদ হোসেন অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ৫৭ হাজার টাকা আবু তাহের ঠাকুরের কাছে রয়েছে এবং তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে তাকে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

     

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবু তাহের ঠাকুর বলেন, তিনি প্রকল্পের কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। প্রকল্প কমিটিতে তাকে নামমাত্র সাধারণ সম্পাদক করা হলেও অর্থ উত্তোলন বা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তার ছিল না। তার দাবি, তৌহিদ হোসেনই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। এ বিষয়ে তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরবেন বলে জানান।

     

    অন্যদিকে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। ৫৭ হাজার টাকা আবু তাহেরের কাছে রয়েছে—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।”

     

    দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, “পাঠাগারের মতো একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। আমি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”

     

    মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূর মামুন বলেন, “অর্থ আত্মসাতের ঘটনা থাকলে তদন্ত করা হবে। যতটুকু জানি, প্রথম ধাপের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। তাদের মধ্যে একসময় মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল, আমরা সেটি সমাধান করে দিয়েছিলাম।”

     

    এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তৎকালীন ইউএনও, বর্তমানে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

     

    সরকারি বরাদ্দের অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

  • স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, তাই ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী

    স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, তাই ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী

    মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে পেশাদারভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ।

    স্বামীর পাখি শিকারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    জানা যায়,তানিয়া আক্তারের বাবার বাড়ি উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে, সোহেল সরদারের বাড়ির পাশে। তার অভিযোগ, স্বামী বধু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে আসছেন। স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডে আপত্তি জানিয়ে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

     

    তানিয়া আক্তার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে পাখি শিকার করা হয়। তার স্বামী বধু মিয়া এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বালিহাঁস, ডাহুক, শালিক ও জালালি কবুতরসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

    তানিয়া আক্তার বলেন, “আমার স্বামী সবসময় পাখি শিকার করে এবং শিকার করা পাখি বাড়িতে এনে রাখে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। তাছাড়া সে বাচ্চাকাচ্চার খোঁজখবর রাখে না, আমার ও সন্তানদের ভরণপোষণও দিচ্ছে না। বন বিভাগও তাকে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ড ও বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে আমি তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। আমি চাই, সে নিজেকে সংশোধন করে স্বাভাবিক ও ভালো জীবনযাপন করুক এবং বন্যপ্রাণী ধ্বংসের কাজ থেকে বিরত থাকুক।”

     

    কমলপুর গ্রামের কিশোর নাহিদ মিয়া বলেন, “বধু মিয়া নিয়মিত পাখি শিকার করেন বলে আমরা জানি। এ কারণে তার পারিবারিক জীবনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।”

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত বধু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একসময় আমি পাখি শিকার করতাম, এখন করি না। আমি আমার স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ দেব এবং শিগগিরই তাদের বাড়িতে নিয়ে আসব।”

     

    হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা সাবরিনা শিমু বলেন, “ওই শিকারির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। বন্যপ্রাণীবান্ধব এমন সচেতনতা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা সবার কাছ থেকেই এমন সচেতনতা প্রত্যাশা করি।”

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।