Category: বিনোদন

  • দুই দিনে আয় ৪৯ কোটি

    দুই দিনে আয় ৪৯ কোটি

    বক্স অফিসে সুপারস্টার সালমান খান অভিনীত ‘দাবাং থ্রি’র জয়রথ চলছে। মুক্তির দিন এ ছবি সংগ্রহ করেছিল ২৪ কোটির বেশি। দ্বিতীয় দিনে সংগ্রহ আরো বেড়েছে।

    সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে এ বছরের ব্যাপক আলোচিত ছবি ‘দাবাং থ্রি’। বছরের শেষ নাগাদ বক্স অফিসে ঝড় তুলতে মুখিয়ে ছিলেন এর কলাকুশলীরা। প্রত্যাশামাফিক সাফল্যের দেখা পেয়েছে ছবিটি। তবে ভারতে চলমান অস্থিরতা না থাকলে আয়ের পরিমাণ আরো বাড়ত বলে মত বিশ্লেষকদের।

    চলচ্চিত্র সমালোচক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক তারান আদর্শ ‘দাবাং থ্রি’র বক্স অফিস রিপোর্ট টুইটারে জানিয়েছেন। তাঁর হিসাবে, শুক্রবার ২৪.৫০ কোটি, শনিবার ২৪.৭৫ কোটি; মোট সংগ্রহ ৪৯.২৫ কোটি রুপি (ইন্ডিয়া বিজ)। তারান আরো বলেছেন, ভারতজুড়ে চলা অস্থিরতায় দুই দিনে এ ছবির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সাড়ে সাত কোটি থেকে নয় কোটি রুপি।

    তবে এর পরও বেশ ভালোই ব্যবসা করছে ছবিটি। ‘দাবাং’ ফ্রাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘দাবাং থ্রি’। প্রভুদেবা পরিচালিত এই ছবি তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও হিন্দি ভাষায় মুক্তি পেয়েছে। ছবিটিতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিচ্ছা সুদীপ। ‘দাবাং’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। তৃতীয় কিস্তি নিয়েও সংশ্লিষ্টরা ভীষণ আশাবাদী। আগামী ঈদে ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য ‘রাধে : ইউর মোস্ট ওয়ান্টেড ভাই’ নিয়ে বড়পর্দায় হাজির হবেন সালমান।

  • প্রিয়াঙ্কার ছোট্ট ব্যাগের দাম শুনলে চমকে উঠবেন

    প্রিয়াঙ্কার ছোট্ট ব্যাগের দাম শুনলে চমকে উঠবেন

    সময়টা বেশ চুটিয়ে উপভোগ করছেন বলিউডের আবেদনময়ী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। দীর্ঘদিন তাঁকে বড়পর্দায় দেখা যাচ্ছে না। তবে নিয়মিতই ভক্তদের সামনে নানা রূপে ধরা দিচ্ছেন সাবেক এ বিশ্বসুন্দরী।

    ফ্যাশন সচেতন হিসেবে খ্যাতি থাকা প্রিয়াঙ্কা বিভিন্ন পোশাক, ব্যবহার্য সামগ্রীর মাধ্যমে প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, সম্প্রতি ভাশুর জো জোনাসের জন্মদিনের পার্টিতে হাজির হন পিসি। ঝলমলে, আকর্ষণীয় পোশাকে প্রিয়াঙ্কা স্বামীর হাত ধরে সেখানে যান। দারুণ সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ামাত্রই ভক্তরা তা লুফে নেন।

    নেটের কালো পোশাকে পিসিকে দেখে চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়ে অনেকের। দৃষ্টি এড়ায়নি তাঁর হাতে থাকা দারুণ ব্যাগটিও। পিসির হাতে থাকা ব্যাগটির মূল্য জানতেও ভক্তদের উৎসাহ দেখা দেয়।

    বিনোদন সংবাদমাধ্যম বলিউড লাইফ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রিয়াঙ্কার হাতে থাকা ব্যাগটি বৈশ্বিক ফ্যাশনে রাজত্ব করা মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ড ‘জিমি চু’র। এবার ব্যাগটির মূল্য জানতে প্রস্তুত হোন। নজরকাড়া এই ছোট্ট ব্যাগটির দাম প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার রুপি!

  • এমনি হয় শর্ট ফিল্মটি মুক্তি পাবে আগামী ৩রা মে

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ নাজিম আহমদের প্রযোজনা ও পরিচালনায় শর্ট ফিল্ম ‘এমনি হয়’ নির্মিত হয়েছে। প্রায় ১০ দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে এ শর্ট ফিল্ম টি তৈরী করা হয়েছে। এতে মূল অভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেছেন জাতীয়ভাবে দুইবার স্বর্ণপদক প্রাপ্ত সিলেটের নৃত্য ও নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ এম. জে আনোয়ার।

    তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আফরিন। এমনি হয় শর্ট ফিল্মটি মুক্তি পাবে আগামী ৩রা মে ২০১৯। সিলেটের ইত্যাদি টিভি । sylheter ittady tv ইউটিউভ চ্যানেল থেকে।

    এম. জে আনোয়ার জানান, এমনি হয় শর্ট ফিল্মটি ভালোবাসার কিছু স্পেসাল মেসেজ নিয়ে বানানো হয়েছে । যেমন একজন গ্রামের ছেলে শহরে জায় লখাপরা করতে। গ্রামের ছেলে বলে কেও তাকে গ্রহণ করতে পারেনা।

    এবার তুর্কি সিরিয়াল ‘জান্নাত’

    প্রযোজক নাজিম আহমেদ জানান, এ শর্ট ফিল্মটি দেখলে মানুষ অনেক আনন্দ উপভোগ করতে পারবে এবং তাদের মনের ভাবমূর্তিও পরিবর্তন হতে পারে। এতে সবার জন্য স্পেশাল কিছু ম্যাসেজ রয়েছে।

    তিনি সবাইকে শর্ট ফিল্মটি দেখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

    এতে অন্যান্যের মধ্যে অভিনয় করেছেন, সুমি, আহম্মেদ ফারুক, তাউসিফ হাসান নীরব, সুয়েব সহ অনেক নাট্য অভিনেতা ও অভিনেত্রীবৃন্দ।

  • সুবীর নন্দীর অস্ত্রোপচারের জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ

    সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন শ্রোতাপ্রিয় গায়ক সুবীর নন্দী। সেখানেই কেটে গেছে ৭২ ঘণ্টা। তার পারিবারিবসূত্রে জানা গেছে সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হয়েছে। তবে হৃদযন্ত্রের অবস্থা ভালো নয়, অস্ত্রোপচারের জন্য বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের পূর্বে ৭২ ঘণ্টা শেষ হয় জানিয়ে সুবীর নন্দীর আত্মীয় তৃপ্তি কর বলেন, আজ সকালের পরে সুবীর নন্দীর লাইফ সাপোর্টে খুলে ট্রায়াল দেওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে হৃদযন্ত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন বিদেশে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

    হবিগঞ্জে জাতীয় সঞ্চয় সপ্তাহ ২০১৯ এর উদ্বোধন

    এর আগে গত রোববার ( রাত ৮টার দিকে তাঁকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শুক্রবার শ্রীমঙ্গলে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সুবীর নন্দী ও তার পরিবার। গতকাল পয়লা বৈশাখে শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা ফেরার পথে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে সুবীর নন্দীর। এরপরই তাঁকে সেখান থেকে সরাসরি সিএমএইচে নেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালে প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ প্রকাশ হয়। ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন চারবার। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছর তিনি পান দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক।

    সুবীর নন্দীর গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলো হলো ‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, ‘চাঁদে কলঙ্ক আছে যেমন’, ‘বধূ তোমার আমার এই যে পিরিতি’ ইত্যাদি।

  • আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস

    ‘মহাশূন্যের কোল থেকে আসা কণ্ঠধ্বনি/স্বপ্নে স্পর্শ/অনুভবে শিহরণ আর সত্তায় অনুরণন/করেছে তোমায় অনুপস্থিত/ওই কাজল কালো আঁখিযুগল/ভেজানো কোমল ঠোঁটের ছোঁয়া-/শিহরণ জাগায় প্রাণে/স্মিতা, তুমি সত্যিই অপরাজিতা’।

    কে এ অপরাজিতা! চিরজনমের বাহু-ডোরাবদ্ধ কিংবা হৃদয়বেদীতে যার জন্য থরে থরে সাজানো পূজোর অর্ঘ্য, মোহ আর ভালোবাসার দেবী যে, সেই প্রিয়াই তো! পৃথিবীর তাবৎ বনলতা সেন অথবা মোনালিসা কিংবা মানসীকে উৎসর্গিত তরুণ কবির এ পঙ্ক্তিমালা শুধুই কি মোহ আর মায়াচ্ছলে? নাকি ভালোবাসারও! হ্যাঁ, ভালোবাসারই।

    স্নেহ, প্রীতি-বন্ধন, প্রেম আর কৃতজ্ঞতা-শ্রদ্ধায় গড়া আমাদের এ নিত্য। এগুলোকে যদি একশব্দে বাঁধি, তাকেই বলব ‘ভালোবাসা’। পিতামাতার প্রতি সন্তানের, সন্তানের প্রতি পিতামাতার, ভাইবোনের পারস্পরিক, স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির কিংবা সৃষ্টির প্রতি স্রষ্টার অথবা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত প্রিয়-প্রিয়ার এ যে হরেক রকমের সম্পর্ক সেটাই তো ভালোবাসা! কিন্তু ভালোবাসার জন্য কি বিশেষ কোনো দিনের দরকার! তারপরও পৃথিবীর তাবৎ প্রেমিক-প্রেমিকারা একটি দিন পালন করে আসছে।

    প্রিয়ার মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সেই দিনটিই আজ। ‘আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। ‘হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে’। এদিকে বুধবার বাসন্তী আর হলুদ রংয়ে ছেয়ে গিয়েছিল দেশ। ফাগুনের প্রথম প্রহরে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে ছিল নানা আয়োজন। সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে বেঙ্গল পরম্পরার যন্ত্রসহযোগে ধ্রুপদী সঙ্গীতের মূর্ছনায় শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

    ভালোবাসা দিবস নিয়ে সচেতন মহলে বিতর্কের শেষ নেই। বলা হয়ে থাকে, কর্পোরেট দুনিয়া তাদের পণ্যের বেচাবিক্রির লক্ষ্যে ব্যবসায়িক স্বার্থে একটি দিনের প্রসার-প্রচার ঘটাতেই পারে। কিন্তু বিশ্বায়নের প্রভাবে ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যবাদী এ সময়ে বিশেষ দিন উপলক্ষে যদি সম্পর্কটাকে ফের ঝালাই করে নেয়া যায় তাহলে তা কম কিসে?

    ভালোবাসা দিবস প্রবর্তনের গোড়া থেকেই বিশ্বব্যাপী দিনটি নিয়ে তরুণ প্রজম্মকেই বেশি মাতামাতি করতে দেখা যায়। ভালোবাসার বহুমাত্রিকার দৃষ্টিকোণ থেকে দিনটি আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবারই। কিন্তু প্রধানত তারুণ্যের জয়জয়কার দেখা যায় এদিন।

    একই ধারাবাহিকতায় আজকেও হয়তো লজ্জা, সংকোচ আর ভীরুতা কাটিয়ে হৃদয়ের গহিনে অনেক দিনের সঞ্চিত প্রিয় বাক্য ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে ফেলতে পারেন কেউ। বুধবার ধরণীতে শুরু হয়েছে বসন্তের উতল হাওয়া।

    নব দখিনা সমীরণে পাগল হৃদয় ইতিমধ্যে দারুণ প্রেমকাতর। বসন্তের সৌরভ ছড়ানো আজকের ভালোবাসা দিবসে প্রেমদেব হৃদয়বন্দর থেকে তুলে আনা রক্তরাঙা গোলাপটি তুলে দেবে প্রিয়ার হাতে।

    অনুরাগতাড়িত হৃদয় হবে এফোঁড়-ওফোঁড়। মনে লাগবে দোলা, ভালোবাসার রঙে রাঙাবে হৃদয়। হিয়ার মাঝে বেজে উঠবে-‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল।’ অথবা প্রিয়বন্ধনটি আরও গাঢ়তর করার জন্য চণ্ডীদাসের সুরে বলে উঠবে- ‘দুঁহু তার দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/অর্ধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখি কেমনে বাঁধিব হিয়াঃ।’

    ভালোবাসা দিবস উদযাপনের ইতিহাস বেশ পুরনো। এ নিয়ে একাধিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি যে গল্পটি প্রচলিত সেটি হচ্ছে- সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজকের ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের একটি ঘটনা নিয়ে।

    সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে ওই ধর্মযাজক একই সঙ্গে চিকিৎসক ছিলেন। তখন রোমান সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। বিশ্বজয়ী রোমানরা একের পর এক রাষ্ট্র জয় করে চলেছে। যুদ্ধের জন্য রাষ্ট্রে বিশাল সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলা দরকার।

    কিন্তু লোকজন বিশেষ করে তরুণরা এতে উৎসাহী নয়। সম্রাটের ধারণা হল- পুরুষরা বিয়ে করতে না পারলে যুদ্ধে যেতে রাজি হবে। তিনি যুবকদের জন্য বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন। কিন্তু প্রেমপিয়াসী তারুণ্যকে কি নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ করা যায়! এগিয়ে এলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। ভ্যালেন্টাইন প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন।

    চার্চের মোমবাতির নিয়ন আলোয় হচ্ছে তাদের স্বপ্নিল বাসর। ধরা পড়লেন একদিন ভ্যালেন্টাইন। তাকে জেলে পোরা হল। দেশময় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে যুবকশ্রেণীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। অনেকেই ভ্যালেন্টাইনকে জেলখানায় দেখতে যান। ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।

    কারাগারের জেলারের এক অন্ধ যুবতী মেয়েও ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে সাক্ষাতে যেতেন। চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির অন্ধত্ব দূর করলেন। তাদের মধ্যেও সৃষ্টি হল হৃদয়ের বন্ধন। ধর্মযাজক নিয়ম ভেঙে প্রেম করেন। তারপর আইন ভেঙে তিনিও বিয়ে করেন।

    যুবক-যুবতীদের সহানুভূতি আর ভ্যালেন্টাইনের নিজেরও প্রেম-বিয়ের এ খবর যায় সম্রাটের কানে। তিনি ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন। সেটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের আজকের এ ১৪ ফেব্রুয়ারি।

    ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে নবোঢ়াকে উদ্দেশ করে তিনি চিঠি লিখলেন। যার হৃদয়ের কথা শেষ হয়েছিল এভাবে- ‘লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। অতপর এ ভালোবাসার স্বীকৃতি আদায়ে পরবর্তী দুই শতাব্দী নীরবে-নিভৃতে পালন করতে হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস এ দিনটিকে ‘ভ্যালেন্টাইন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

    তবে গ্রিক ও রোমান উপকথার মতোই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে যে গল্প-কাহিনীই থাক, আজ যে তা ছড়িয়ে পড়েছে ভুবনজুড়ে। ইউরোপীয় ঘরানার এ দিবসটি এ দেশে হালে উদযাপিত হলেও সেই ষোড়শ শতক থেকে তা পাশ্চাত্যে পালিত হয়ে আসছে।

    এদিন শুধু প্রেম বিনিময় নয়, তরুণ-তরুণীদের মাঝে গোপনে বিয়েও ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন উদ্যান, বাংলা একাডেমির বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কফিশপ, ফাস্টফুড শপ, লংড্রাইভ অথবা নির্জন গৃহকোণে একান্ত নিভৃতে প্রণয়কাতর যুবক-যুবতীদের অভিসার চলে।

    শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ : সাংস্কৃতিক রিপোর্র্টার জানান, আবৃত্তি শিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বসন্তের আবাহন’ এবং আহকাম উল্লাহর ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ পরিবেশনায় ভোরের উৎসব পায় অন্যমাত্রা।

    এরপর তাতে নান্দনিকতা যোগ করে লাইসা আহমেদ লিসার রবীন্দ্র সংগীত, মিতা হকের সুরতীর্থ বসন্তের গান, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি এবং প্রিয়াংকা গোপের নজরুল গীতি। আয়োজনে ‘ভাবনা দোলা লাগিল আজি দক্ষিণ পবনে’ গানের সঙ্গে পরিবেশিত হয় সম্মেলক নৃত্য।

    পরিচালনা করেন নৃত্যশিল্পী প্রেমা। সমবেত সত্যেন সেনের পক্ষ থেকে সমবেত সঙ্গীতে পরিবেশিত হয় ‘বিহুর লগন’ গানটি। নৃত্য সংগঠন নৃত্যমের পক্ষ থেকে নজরুল গীতির সঙ্গে পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য। সমবেত ফোক ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ পরিবেশন করে বহ্নিশিখা। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস পরিবেশন করেন লোকসঙ্গীত ‘তোমার কুঞ্জ সাজাও গো’।

    এছাড়া পূজা সেনগুপ্তের পরিচালনায় ‘মাদল বাজে, বাজে বাঁশের বাঁশি’ গানের সঙ্গে আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন করে তুরঙ্গম নৃত্য সংগঠন। ‘আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশিত হয় নায়লা হাসানের পরিচালনায়।

    আর স্পন্দন পরিবেশন করে ‘ফাগুনেরও মোহনায়’ গানের সঙ্গে নৃত্য। আরও পরিবেশনা করেন রেওয়াজ পারফর্মিং আর্ট (উচ্চাঙ্গসঙ্গীত), ভাবনা, নটরাজ, নৃত্যনন্দন, অনন্ত রাঙ্গামাটি (আদিবাসী)। সবমিলিয়ে গান, কবিতা আর সম্মেলক নৃত্যে বসন্ত উদযাপন করে নগরের ভালোবাসা প্রিয় মানুষগুলো।

    সে ভালোবাসায় লাল, হলুদ আর বাসন্তী রঙা শাড়িতে তরুণীরা তখন মাথায় ফুলের মুকুট পরে, গালে আবির লাগিয়ে উৎসব উদযাপনে ব্যস্ত। বিভিন্ন বয়সী ছেলেরাও এসেছে নিজেদের প্রিয় রঙের পাঞ্জাবি আর ফতুয়া পরে।

    তবে সেসব রঙের ভাষাগত প্রকাশ করল আয়োজনের বসন্তকথন পর্বটি। এতে অংশ নেন বসন্ত উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি এবং আয়োজনের সভাপতি শফিউর রহমান, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী আহকাম উলাহ এবং সঙ্গীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম।

    এ সময় তারা প্রত্যেকেই সবাইকে বসন্তের শুভেচ্ছা জানান। শফিউর রহমান বলেন, বসন্ত প্রকৃতির মধ্যে আসুক বা না আসুক, আমরা যারা মানুষ আছি, এ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে বসন্তকে আমরা আবাহন করে নেব আমাদের নিজেদের মননে, নিজেদের রঙে, নিজেদের আলোতে, ভালোলাগায়, প্রেমে। বসন্ত বরণ উপলক্ষে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানের।

    ইউনিভার্সিটির সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সংগঠন মিলে এ আয়োজন করেছে, যা চলেছে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির ভিসি আতিক ইসলাম, বোর্ড অফ ট্রাস্টির মেম্বারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

    সকালে র‌্যালির মাধ্যমে শুরু হয়ে দিনব্যাপী নাচ-গানের মাধ্যমে বসন্তকে বরণ করে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় নানা আয়োজন।

  • ৩ দিনব্যাপী লোক উৎসবের উদ্বোধন আজ

    নিজস্ব প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ আসছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুবু আলী এমপি। তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘লোক উৎসব’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

    হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের জালাল স্টেডিয়ামে ৩ দিনব্যাপী এ ‘লোক উৎসব’ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম-সেবা পিপিএম।

    এদিকে, ‘লোক উৎসব’ সফল করতে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। উৎসবে আগত সাধারণ লোকজনদের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ।

    ২য় দিন ১৫ ফেব্রুয়ারী লোক উৎসব বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী।

    উৎসবের ৩য় দিন সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোঃ শাহনেওয়াজ ও প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দী।

    ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয় শিল্পী ও সন্ধ্যায় দেশবরেণ্য লোকসংগীত শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন, রিংকু, লায়লা, চিশতি বাউল, ফকির শাহাব উদ্দিন, সেলিম চৌধুরী, শাহনাজ বেলী, কাজী শুভ, বাউলা আশিক, গামছা পলাশ, কামরুজ্জামান রাব্বী, রুমা সরকার ও জালালী সালমা।

  • কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী একুশে পদকের জন্য মনোনীত

    শিল্পকলা ও সংগীত অঙ্গণে বিশেষ অবদান রাখায় স্বীকৃতি স্বরুপ হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    গতকাল বুধবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক প্রাপ্তদের এ তালিকা প্রকাশ করে। এতে বিভিন্ন অঙ্গণে বিশেষ অবদান রাখায় দেশের মোট ২১ জনকে এ সম্মাননা দেয়া হচ্ছে।

    আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে এ একুশে পদক তুলে দেবেন।

    সুবীর নন্দী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দী পাড়া নামক মহল্লায় এক কায়স্থ সম্ভ্রান্ত সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার নানা বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাদেআলিশা গ্রামে। তার পিতা- সুধাংশু নন্দী ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সঙ্গীতপ্রেমী। তার মা পুতুল রানী চমৎকার গান গাইতেন কিন্তু রেডিও বা পেশদারিত্বে আসেননি।

    ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিতে শুরু করেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। তবে সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। বাবার চাকরি সূত্রে তার শৈশবকাল চা বাগানেই কেটেছে। পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাগানেই ছিলেন।

    চা বাগানে খ্রিস্টান মিশনারিদের একটি স্কুল ছিল, সেখানেই পড়াশোনা করেন। তবে পড়াশোনার অধিকাংশ সময়ই তার কেটেছে হবিগঞ্জ শহরে। পড়েছেন হবিগঞ্জ গভঃ হাইস্কুলে। তারপর হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সুবীর নন্দী সেকেন্ড ইয়ারে পড়তেন।

    ১৯৬৩ সালে তৃতীয় শ্রেণী থেকেই তিনি গান করতেন। এরপর ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন। তার গানের ওস্তাদ ছিলেন গুরু বাবর আলী খান। লোকগানে ছিলেন বিদিত লাল দাশ। সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’।

    ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। চলচ্চিত্রে প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত সূর্যগ্রহণ চলচ্চিত্রে। ১৯৮১ সালে তার একক অ্যালবাম “সুবীর নন্দীর গান” ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে। তিনি গানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন ব্যাংকে।

    তার গাওয়া চলচ্চিত্রের তালিকাঃ সূর্যগ্রহণ (১৯৭৬), অশিক্ষিত (১৯৭৮), দিন যায় কথা থাকে (১৯৭৯), মহানায়ক (১৯৮৪), চন্দ্রনাথ (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), রাজলক্ষী শ্রীকান্ত (১৯৮৭), রাঙা ভাবী (১৯৮৯), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৯১), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯), চন্দ্রকথা (২০০৩), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪), শ্যামল ছায়া (২০০৪), আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা (২০০৮), অবুঝ বউ (২০১০)।

    এচাড়াও তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার – (মহানায়ক – ১৯৮৪, শুভদা – ১৯৮৬, শ্রাবণ মেঘের দিন – ১৯৯৯, মেঘের পরে মেঘ – ২০০৪) এবং বাচসাস পুরস্কার – (১৯৭৭, ১৯৮৪, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সাল) লাভ করেন।