Category: আন্তর্জাতিক

  • প্রবাস ফেরত নির্যাতিতা আকলিমার আকুতি: দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান পুলিশ সুপারের কাছে

    প্রবাস ফেরত নির্যাতিতা আকলিমার আকুতি: দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান পুলিশ সুপারের কাছে

    সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে এক মাস পর দেশে ফিরেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আকলিমা খাতুন।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    দেশে ফিরে আকলিমা ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে তিনি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একজন নারী হিসেবে জেলার নারী পুলিশ সুপারের কাছে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

    জানা যায়, গত জানুয়ারিতে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত আবির এন্ড ব্রাদারস লিমিটেড নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে স্থানীয় দালাল জহির ও লতিফ মিয়ার সহযোগিতায় তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।

    অসহায় অবস্থায় আকলিমা সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এর অধীন ওয়েজ আর্নার কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

    দেশে ফিরে আকলিমা বলেন,

    “আমার মতো আর কোনো নারী যেন ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার না হন। নারী পাচার আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হোক।”

    তিনি জানান, এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং দ্রুত এফআইআর গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

    আকলিমার বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের কোনাবাড়ি মহল্লায়। দীর্ঘদিন পর তাকে ফিরে পেয়ে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বিমানবন্দরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আকলিমার স্বামী মাসুক মিয়া এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর সাংবাদিক মুনতাসির তাসরিফ।

    সচেতন মহলের দাবি, প্রবাসে নারী পাচার ও নির্যাতনের মতো ঘটনায় জড়িত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

  • মানবতার এক নিঃশব্দ পাঠ : দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ

    মানবতার এক নিঃশব্দ পাঠ : দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ

    শাহ হারুন রশিদ: কিছু দেশ থাকে মানচিত্রে, আর কিছু দেশ থেকে যায় মানুষের বুকের ভেতর।

    দক্ষিণ কোরিয়া আমার কাছে ঠিক তেমনই এক দেশ—যেখানে আমি শুধু কাজ করতে যাইনি, বরং মানবতা কী, ভালোবাসা কাকে বলে, তা নতুন করে শিখে এসেছি।

    হংকং থেকে যখন আমাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বদলি করা হয়, তখন আমি স্যামসাং কোম্পানিতে কর্মরত। হংকংয়ের ব্যস্ত জীবন, উঁচু দালান, কংক্রিটের শহর—এসবের সঙ্গে আমি অভ্যস্ত ছিলাম। তার আগেও বহু দেশ ভ্রমণ করেছি, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করেছি। তাই মনে হয়েছিল, কোরিয়াও বুঝি তেমনই আরেকটি আধুনিক দেশ—শুধু নাম আলাদা, মুখ আলাদা।

    কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।

    সময়টা ছিল অক্টোবর। প্রকৃতি তখন শান্ত, নির্মল, কোমল। ক্যাথে প্যাসিফিকের বিমান যখন কিম্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ছোঁয়, তখন বুঝতে পারিনি—এই মাটিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে আমার ভেতরের মানুষটাও বদলে যেতে শুরু করেছে।

    ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আমি প্রথম ধাক্কাটা খেলাম মানুষের ব্যবহার দেখে। অফিসাররা মার্জিত, ধীর, গভীর ভদ্রতায় কথা বলছিল। তারা ইংরেজি জানে, তবু নিজেদের ভাষাকে আগলে রাখে—কারণ এই জাতির শিরায় শিরায় বইছে দেশের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা। একজন অফিসার মুচকি হেসে বলেছিল,

    “কোরিয়ায় থাকলে কিমচি বেশি করে খাবেন—এটাই আমাদের আত্মা।”

    সেই কথার ভেতরেই যেন লুকিয়ে ছিল একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আত্মসম্মান।

    বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যখন প্রথম কোরিয়ার আলো–হাওয়ার মুখোমুখি হলাম, তখন আমার চোখ বিশ্বাস করতে চাইছিল না। চারদিকে পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে গায়ে সবুজ, রাস্তার দু’পাশে ফুলের সারি, আবার কোথাও কোথাও পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলেছে প্রশস্ত পথ। উন্নয়ন এখানে প্রকৃতিকে ধ্বংস করেনি—বরং প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়েছে।

    আমি অনেক দেশ দেখেছি, অনেক শহর ঘুরেছি। কিন্তু এমন পরিমিত, পরিশীলিত সৌন্দর্য খুব কম জায়গায় দেখেছি।

    আমার কর্মস্থল ছিল কিম্পো সিটির কাছেই—পাহাড়ঘেরা এক নিস্তব্ধ এলাকায়। আশপাশে কোনো কোলাহল নেই, নেই শহরের ভিড়। শুধু পাহাড়ের ছায়া, দূরে নদীর ডাক, আর মাঝে মাঝে সমুদ্রের নোনা বাতাস। পাহাড়, নদী আর সমুদ্র—এই তিনটি জিনিসই আমার চিরদিনের ভালোবাসা। কোরিয়া যেন এই তিনটি ভালোবাসাকে এক জায়গায় এনে আমাকে উপহার দিয়েছিল।

    আমার সঙ্গে আরও দুইজন বাংলাদেশি সহকর্মী ছিল। আমরা একই ডরমিটরিতে থাকতাম। ভিনদেশের মাটিতে পরিচিত মুখ পাওয়াটা যে কতটা স্বস্তির, তা প্রবাসীরাই ভালো বোঝে।

    আমি যে বসের অধীনে কাজ করতাম, তার নাম ছিল কিম হার্ক সু। মাথায় চুল কম, মুখে সবসময় হাসি। তিনি কোরিয়ান ভাষা ছাড়া কিছুই জানতেন না, অথচ ভাষার দেয়াল কখনো আমাদের আলাদা করতে পারেনি। কথায় কথায় আমাকে ‘সেইক্ষা’—মানে ছোট বাচ্চা—বলে ডাকতেন। কাজের ফাঁকে হাস্যরস, চোখে-মুখে একধরনের পিতৃসুলভ স্নেহ। তিনি আমার কাছে কখনোই শুধু একজন বস ছিলেন না—ছিলেন অভিভাবকের মতো।

    কিন্তু কোরিয়াকে আমার হৃদয়ে স্থায়ী করে দিয়েছে একটি ঘটনা।

    আমাদের সঙ্গে থাকা এক বাংলাদেশি সহকর্মী হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ল। গায়ে জ্বর, শরীরজুড়ে ফুসকুড়ি। সে টানা কয়েকদিন কাজে যেতে পারল না। আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম—ভিনদেশ, ভাষা জানি না, চিকিৎসার ব্যবস্থা কীভাবে হবে?

    একদিন হঠাৎ করে আমাদের ডরমিটরিতে এসে হাজির হলেন সেই বসের স্ত্রী।

    তিনি কোনো প্রশ্ন করলেন না, কোনো অভিযোগও না। অসুস্থ ছেলেটিকে দেখে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন, নিজের হাতে পানি ঢেলে দিলেন। চোখের কোণে জমে উঠেছিল জল। সেই দৃশ্য দেখে আমি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম।

    আমি ভাবছিলাম—এই কি মালিক? এই কি কর্তৃত্ব?

    না, এ ছিল নিখাদ মানবতা।

    তিনি আর দেরি করেননি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। হিসাব–নিকাশ, লাভ–লোকসানের কোনো চিন্তা নেই—শুধু একজন মানুষ আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    সেই মুহূর্তে আমি বুঝেছিলাম, মানবতা কোনো বড় কথা নয়, কোনো বক্তৃতা নয়। মানবতা হলো নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ানো। অসুস্থ কাঁধে হাত রাখা। অচেনা মানুষকে আপন করে নেওয়া।

    দক্ষিণ কোরিয়া আমাকে শিখিয়েছে—উন্নয়ন শুধু দালানকোঠা বা প্রযুক্তিতে নয়, উন্নয়ন মানুষের মননে, আচরণে, হৃদয়ে।

    আজ অনেক বছর পরও যখন কোরিয়ার কথা মনে পড়ে, তখন সবচেয়ে আগে মনে পড়ে সেই মানুষগুলোর কথা—যারা আমাকে বুঝিয়েছিল, মানুষ হওয়াটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিচয়।

  • মাধবপুরের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুইের ‘কল টু দ্য বার’ সম্পন্ন

    মাধবপুরের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুইের ‘কল টু দ্য বার’ সম্পন্ন

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান হাজী মোঃ আব্দুল হামিদের মেয়ে ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুই যুক্তরাজ্য থেকে সফলভাবে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। গত ২৭ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী লিংকন’স ইন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ‘কল টু দ্য বার’ সম্পন্ন হয়।

    তার মাতা হালেমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—
    শৈশব থেকেই অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে আসা ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুই নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মেধাতালিকায় প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে শাহজিবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে মেধাবৃত্তি অর্জনসহ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উজ্জ্বল সাফল্যের সঙ্গে স্কুল জীবন শেষ করেন। এরপর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে আরও একবার প্রমাণ করেন তার মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যের ধারা।

    পরে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি ২০২২ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ড (UWE), ব্রিস্টল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে বার ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়ে ২০২৪ সালে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি কল নেন, যা পরদিন দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

    বর্তমানে ব্যারিস্টার তানিয়া হামিদ জুই ঢাকায় আইন পেশায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি সুপ্রিম ল ফার্মের ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদেশি বিনিয়োগ, কোম্পানি আইন, ইনকাম ট্যাক্স ও পারিবারিক বিষয়ে আইনগত সেবা প্রদান করে তিনি সমাজের অবহেলিত মানুষ, নারীদের সহযোগিতা ও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

    তার এ গৌরবময় সাফল্যে পরিবার-পরিজন, এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা গর্বিত ও আনন্দিত। সর্বস্তরের মানুষ তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    তার স্বামী এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন,
    “তানিয়ার এ অর্জন শুধু আমাদের পরিবারের নয়, মাধবপুরবাসীরও গর্ব। কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের ফলেই আজ এ সাফল্য এসেছে। সামনে তিনি যেন মানুষের সেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

  • একসাথে দুই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে হবিগঞ্জ প্রজন্ম উশু সান্দা ফাইট ক্লাব!

    একসাথে দুই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে হবিগঞ্জ প্রজন্ম উশু সান্দা ফাইট ক্লাব!

    হবিগঞ্জ প্রজন্ম উশু সান্দা ফাইট ক্লাবের খেলোয়াড়রা সব সময়ের মতো এবারও একসঙ্গে দুইটি আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন।

    আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছেন—

    গাউছ মিয়া, হামিদুর রহমান রাকিব, মো. ইমরান ও রাসেল। দলের সঙ্গে কোচ হিসেবে থাকছেন বাবুল আহমেদ রুবেল।

    নেপাল থেকে ফিরে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও আন্তর্জাতিক মিশনে যাচ্ছেন তারা। কোচ বাবুল আহমেদ রুবেল ১৭ ডিসেম্বর চার খেলোয়াড়কে নিয়ে রওনা হবেন হংকংয়ে, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি আন্তর্জাতিক মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা।

    প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের ওজন বিভাগগুলো হলো— গাউছ মিয়া – ৭০ কেজি, ইমরান – ৫৪ কেজি, রাসেল – ৬০ কেজি, রাকিব – ৫৭ কেজি, বাবুল আহমেদ রুবেল (খেলোয়াড় হিসেবে হংকংয়ে) – ৫১ কেজি।

    কোচ রুবেল হবিগঞ্জ নিউজকে জানান,

    “গত ডিসেম্বরে আমি নিজেও হংকংয়ে খেলেছিলাম। এবারও খেলতে যাচ্ছি। খেলোয়াড়দের সাথে একসাথে দুইটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা কঠোর কেম্প করছি, ইনশাআল্লাহ ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসব।”

    তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন মার্শাল আর্ট ফাইটাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে দুবাই, মালয়শিয়া, ভারত, সৌদি আরব, হংকং, আমেরিকা, কাজাখস্তান, চায়না, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ডসহ বহু দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু তবুও তারা পর্যাপ্ত স্পন্সর পান না।

    “সবাই বাহবা দেয়, ছবি তোলে; কিন্তু আর্থিক সহায়তা দেয় না। খেলোয়াড়রা নিজ উদ্যোগে টাকা জমিয়ে বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যায়।” — বলেন তিনি।

     

    সরকার ও ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মার্শাল আর্টে আন্তর্জাতিক সাফল্যের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সামান্য সহায়তা পেলে বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”

    শেষে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, “আমার স্বপ্ন মার্শাল আর্ট, নেশা মার্শাল আর্ট, পেশা মার্শাল আর্ট।”

  • নিঃসঙ্গতার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া

    নিঃসঙ্গতার দেশ দক্ষিণ কোরিয়া

    শাহ হারুন রশিদ: আমার চাকুরী জীবনে কোরিয়ায় অনেক বছর অতিবাহিত করেছি ,কোরিয়ান সহকর্মী বন্ধুদের কাছ থেকে যা জেনেছি তাই আপনাদের জন্য লিখলাম।

     

    জ্ঞান বিজ্ঞানে পৃথিবীতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে দক্ষিণ কোরিয়া কিনতু মানুষের মনে শান্তি নাই অর্থের পিছনে ছুটতে ছুটতে তাদের জীবনে দেখা দেয় অমানিশার অন্ধকার।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় নিঃসঙ্গতা এখন এক অব্যক্ত সংকট। প্রতি বছর হাজারো মানুষ সমাজের বাইরের জীবন বেছে নিয়ে একাকী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মানুষ অবসাদে ডুবে গিয়ে সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেন।

     

    সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কখনো কখনো তাদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোরিয়ায় এ ধরনের একাকী মৃত্যু ‘গোডোকসা’ নামে পরিচিত, যা সমাজের এক গভীর ক্ষত হিসেবে বিরাজ করছে।

     

    উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে নিম্ন জন্মহারের দেশগুলোর মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরিয়া। জন্মহার কমে যাওয়ার সাথে সাথে সমাজে একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতার হার বেড়ে চলেছে।

     

    এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি সিউল শহরের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তারা এমন একটি শহর নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে কেউ একা থাকবেন না। এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার ৪৫১.৩ বিলিয়ন ওন (প্রায় ৩২৭ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করবে।

     

    এই প্রকল্পে থাকবে ২৪/৭ একাকিত্ব পরামর্শদাতার সেবা, একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেখানে যে কেউ সরাসরি পরামর্শ নিতে পারবেন, এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত পরিদর্শনের সুযোগ। সিউলের মেয়র ওহ সেহুন বলেন, এটি শুধু ব্যক্তিগত সংকট নয়, এটি আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। আমাদের সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে একে মোকাবিলা করার জন্য।

     

    কেবল শহর নয়, কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারও একাকী তরুণদের পুনর্বাসনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সমাজবিচ্ছিন্ন যুব সম্প্রদায়কে মাসিক ৬ লাখ ৫০ হাজার ওন (প্রায় ৪৭৫ ডলার) আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের কর্ম ও সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করা হবে।

     

    বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকিত্বের এ সংকটের পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগিতামূলক কর্মসংস্কৃতি, অহংকেন্দ্রিক জীবনধারা, সামাজিক মিডিয়ার তুলনা-প্রবণতা, এবং একক পরিবারে বসবাসের উচ্চ হার এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া নিঃসঙ্গতার এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

     

    এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে হয়তো অনেক মানুষ আর একা মৃত্যুর পথে অগ্রসর হবেন না। তবে সরকার ও সমাজের সব স্তরের সমন্বিত প্রয়াসই দক্ষিণ কোরিয়ায় একাকিত্বের বিরুদ্ধে মানবিক জয় আনতে পারে।

  • কলকাতার সাহিত্য মহোৎসব বিতর্ক: অভিব্যক্তির স্বাধীনতা বনাম কট্টরপন্থীতা  – অ্যাড.সঞ্জয় পাণ্ডে

    কলকাতার সাহিত্য মহোৎসব বিতর্ক: অভিব্যক্তির স্বাধীনতা বনাম কট্টরপন্থীতা – অ্যাড.সঞ্জয় পাণ্ডে

    ৩১ আগস্ট থেকে ০৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, কলকাতার অ্যাকাডেমি অফিস, রফি আহমদ কিদওয়াই রোড, কলা মন্দিরে ‘উর্দুর হিন্দি সিনেমায় অবদান’ বিষয়ে অনুষ্ঠান রাখা হয়েছিল। এতে মুশায়রা, ফিল্ম স্ক্রিনিং, সেমিনার হওয়ার কথা ছিল। মুশায়রার প্রধান সভাপতি ও অতিথি প্রসিদ্ধ গীতিকার, কবি এবং চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার এবং অন্য অতিথি হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাতা মুজাফ্ফর আলিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানস্থলে মুগল-ই-আজম, পিয়াসা, কাগজ কে ফুল, উমরাও জানের মতো অমর ক্লাসিক ফিল্মের পোস্টার/ব্যানার লাগানো হয়ে গিয়েছিল। শুরুতে উর্দু অ্যাকাডেমি অনুষ্ঠানের প্রতি উৎসাহী ছিল, কিন্তু বিরোধিতা বাড়তে থাকায় এবং পরিবেশ বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হঠাৎ অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়।

    আধিকারিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে “অনিবার্য পরিস্থিতি” এবং “নিরাপত্তার কারণে” এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভয় ছিল যে আখতারের উপর হামলা, কালি ছোড়া বা দাঙ্গা বা অন্যান্য হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। উর্দু অ্যাকাডেমির সেক্রেটারি নুজহত জাইনাব তাঁর আধিকারিক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন যে, “অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে ৩১ আগস্ট–৩ সেপ্টেম্বর, ‘উর্দু ইন হিন্দি সিনেমা’ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হচ্ছে।”

     

    এই বিষয়ে বাংলা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি খুবই আকর্ষণীয়। ইসলামী কট্টরপন্থী সংগঠনগুলির বিরোধিতার পর সরকার নির্বাচনী বছরের আগে ‘কাউকে’ অসন্তুষ্ট না করার জন্য অনুষ্ঠান স্থগিত করার ভূমিকা নেয়। সেইসঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে দেখে মমতা ব্যানার্জি সরকার কোনও ধরনের ধর্মীয় সংঘর্ষ বা হিংসা চায়নি। সরকার এবং টিএমসির নেতারা এই বিষয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করা এড়িয়ে যাচ্ছেন। অনেক নেতা প্রতিক্রিয়া দিতে অস্বীকার করেছেন এবং কিছু কালি-হামলার মতো ‘অপ্রিয় ঘটনা’ রোখার জন্য এবং সরাসরি জাভেদ আখতারকে ‘না আসার’ অনুরোধ করে লজ্জা না উঠাতে হয় সেইজন্য অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা জারির সমর্থন করেছেন। এর ফলে নির্বিবাদে বামপন্থী সরকারগুলিতে যে বাংলার উদার-ধর্মনিরপেক্ষ ছবি ছিল তাকে ক্ষতি পৌঁছেছে। সরকার, সাহিত্য এবং স্বাধীনতার মূল মূল্যগুলির সঙ্গে আপোষ করে কট্টরপন্থীদের চাপে নতি স্বীকার করেছে। এই বিতর্ক অভিব্যক্তির স্বাধীনতা, সাহিত্য এবং রাজনীতি – এই তিনটিকে একসঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

     

    জাভেদ আখতারের বিরোধিতাকারী ইসলামী সংগঠনগুলিতে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ (বাংলা ইউনিট), জমিয়ত উলেমা কলকাতা, ওয়াহাইন ফাউন্ডেশন এই তিনটি সংগঠনের নামগুলি প্রধানত সামনে এসেছে। জমিয়ত উলেমার দাবি যে, “জাভেদ আখতার ইসলাম, মুসলিমদের এবং আল্লাহর বিরুদ্ধে খুব খারাপ/অপমানজনক কথা বলেছেন।” জমিয়ত উলেমা কলকাতার মহাসচিব জিল্লুর রহমান আরিফ জনসমক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন যে “এই ব্যক্তি (জাভেদ আখতার) মানুষ নয় বরং মানুষের রূপে শয়তান।” জমিয়তের উপসভাপতি তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে,– “তারা (জাভেদ আখতার) ধর্ম-বিরোধী এবং অন্য ধর্মের লোকদের অপমান করতে প্রস্তুত থাকেন।” এই চিঠিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, “উর্দু অ্যাকাডেমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য; এমন নাস্তিক/ধর্ম-সমালোচককে মঞ্চ দেওয়া সম্প্রদায়ের অনুভূতিকে আহত করবে।” এবং দাবি করা হয়েছে যে, “তাঁকে প্রধান অতিথি না করা হোক; তাঁর জায়গায় কোনও ‘যোগ্য এবং আস্থাবান’ ব্যক্তিকে ডাকা হোক, যদিও তার ধর্ম যাই হোক না কেন।” সেইসঙ্গে ধমকি দেওয়া হয়েছে যে, “যদি আমাদের আপত্তি না মানা হয়, তাহলে ২০০৭ সালের তসলিমা নাসরিন প্রকরণের মতো ‘লোকতান্ত্রিক’ আন্দোলন/প্রদর্শন হবে; আমরা আগেও এমন আন্দোলন চালিয়ে তাঁকে বাংলা ছাড়তে বাধ্য করেছি।”

     

    একটি অন্য মুসলিম কট্টরপন্থী সংগঠন ওয়াহাইন ফাউন্ডেশন বিবৃতি জারি করেছে যে, এর ফলে “যুবকদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।” সেইসঙ্গে তারা ধর্ম নিয়ে বিতর্কের জন্য জাভেদ আখতারকে আমন্ত্রণ করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। জমিয়ত, বাংলা ইউনিটের মহাসচিব মুফতি আব্দুস সালাম বিরোধিতা নথিভুক্ত করে বলেছেন আমাদের তাঁর নাস্তিক হওয়ায় সমস্যা নেই, কিন্তু তিনি অনেক অনুষ্ঠানে ধর্ম নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন—এই কারণে আমাদের বিরোধিতা। জমিয়ত উলেমা কলকাতা, মহাসচিব জিল্লুর রহমান আরিফ তাঁর বিবৃতিবাজিতে বলেছেন “…এই ব্যক্তি শয়তান… অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করবেন না।” বাংলায় সংখ্যালঘুদের বিপুল জনসংখ্যা রয়েছে এবং এই সংগঠনগুলির সামনে সরকারের নতি স্বীকারের কারণে “অনিবার্য পরিস্থিতি” বলে অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। এটাকে এই মুসলিম কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি তাদের আপত্তির সাফল্য মেনে খুশি মনাচ্ছে।

     

    কিছু খবরের কাগজে জাভেদ আখতারের বিবৃতি ছাপা হয়েছে যাতে তিনি স্পষ্ট বলেছেন যে “আমি নাস্তিক। আমার নাম জাভেদ আখতারের ইসলামের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই; দুটি শব্দই ফারসি। শুধুমাত্র ভারতে নামগুলিকে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।” তিনি এও বলেছেন যে, “আমাকে দুইদিক থেকে—হিন্দু এবং মুসলিম—কট্টরপন্থীদের থেকে গালাগালি মেলে; যখন দুজনেই গালি দেয় তখন বুঝি যে আমি কিছু ঠিক করছি।” তিনি উর্দু শেরোশায়রি এবং কবিতার শুরু থেকেই অ-আস্থাবাদী, অন্ধ-বিশ্বাস বিরোধী, সমতাবাদী প্রবণতায় জোর, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, সংগঠিত ধর্মের সমালোচনার মতো দিকগুলির উল্লেখ করে কলকাতার সঙ্গে তাঁর প্রেমের কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন “এই শহর উদার এবং প্রগতিশীল। আমি ‘বই মেলা’কে তীর্থ মানি—হাজারো লোক শুধুমাত্র বইয়ের জন্য আসে; এটি বিশ্বাস দেয় যে দুনিয়া ততটা খারাপ নয়।” এইভাবে জাভেদ আখতার বিরোধীদের অভিযোগের খোলাখুলি উত্তর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট শব্দে বলেছেন যে তিনি নাস্তিক এবং এই কথা কখনও লুকিয়ে রাখেননি। তাঁর বলা যে তাঁকে জীবনভর দুইদিকের কট্টরপন্থীদের—হিন্দু এবং মুসলিম—থেকে হামলা সহ্য করতে হয়েছে। তাঁর যুক্তি যে এই মহোৎসবে তিনি ধর্ম নিয়ে বক্তৃতা দিতে যাননি, বরং সাহিত্য এবং সিনেমায় উর্দুর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিলেন। আখতার কলকাতা এবং তার প্রগতিশীল ঐতিহ্যের প্রশংসা করে বলেছেন যে এই শহর সর্বদা বৌদ্ধিক বিতর্ক, খোলা চিন্তা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। তিনি নিরাশা প্রকাশ করেছেন যে যদি এখানেও অভিব্যক্তির স্বাধীনতার গলা টিপে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে এটি সমগ্র দেশের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, বিরোধিতার আসল কারণ ব্যক্তিগত ঘৃণা এবং কট্টর চিন্তা, নয় যে সাহিত্য বা সমাজের কল্যাণ।

     

    বুদ্ধিজীবী, উর্দু-প্রেমী, সমাজকর্মী, সংগঠনগুলি, এসএফআই সহ অন্যান্য বামপন্থী প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলি দেশজুড়ে এর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। অনেক লেখক এবং চিন্তাবিদ বলেছেন যে উর্দু ভাষা কোনও একটি ধর্মের একচেটিয়া নয়। এটি সাঁজা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যা গালিব, ফয়েজ, সাহির লুধিয়ানভি মতো মহান ব্যক্তিদের জন্ম দিয়েছে। সাহিত্য ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মুদার পাথেরিয়া, জিশান মজিদ, রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা, তৈয়ব আহমদ খান, জাহির আনওয়ার, পলাশ চতুর্বেদী, মুইন-উদ-দীন হামিদ, স্মিতা চন্দ্রা, স্পন্দন রায় বিশ্বাস, নবীন ভোহরা, জাহিদ হুসেন, অভয় ফড়নিস এবং অন্যান্য বুদ্ধিজীবীরা এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা মিলে “উর্দু প্রেমী এবং উদার মুসলিমদের” পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন যাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সমালোচনা করে, তাঁর আচরণে আপত্তি জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অ্যাকাডেমি (যার নামে ‘মুসলিম’ শব্দ নেই) কট্টরপন্থীদের খুশি করার জন্য আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছে। তারা তাদের চিঠিতে লিখেছেন- “উর্দুকে ‘মুসলিমনেস’ এর সঙ্গে যুক্ত করা ভাষার ধর্মনিরপেক্ষ প্রকৃতিকে আঘাত করে; অ্যাকাডেমি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নয়। কবির ব্যক্তিগত আস্থা/নাস্তিকতাকে তার বিষয় (হিন্দি সিনেমায় উর্দু) থেকে উপরে রাখা হয়েছে, যা ধর্মের সঙ্গে অসংলগ্ন ছিল। এখন যেকোনও প্রতিষ্ঠানকে ‘ধর্ম বিপন্ন’ বলে সিদ্ধান্ত পালটানো সহজ হয়ে যাবে। উদার বাংলায়, আপনার মুখ্যমন্ত্রীত্বে, এটি নিরাশাজনক; আমরা অভিব্যক্তির স্বাধীনতার রক্ষার আশা করি।”

     

    গজালা ইয়াসমিন যিনি উর্দু অ্যাকাডেমি গভর্নিং বডি এবং আলিয়া ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত তিনি বলেছেন- “উর্দু একটি ভারতীয় ভাষা—কোনও ধর্মীয় সংযোগ ছাড়া—এটিকে সাংস্কৃতিক, সৌন্দর্যাত্মক এবং সাহিত্যিক উৎকর্ষের জন্য উদযাপন করা উচিত; সংকীর্ণ ধর্মীয় কট্টরতা দিয়ে অপহরণ করা নয়। অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় নিরাশার সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছেন যে, “আমরা পরে আরও বৈচিত্র্য/বৃহত্তর পৌঁছানোর সঙ্গে অনুষ্ঠান করব” বিজ্ঞানী, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গওহর রাজা “অনুষ্ঠান বাতিল হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অগ্রাহ্য; হিন্দু এবং মুসলিম—দুই ধরনের কট্টরপন্থী ‘যুক্তিবাদী কণ্ঠস্বর’কে চুপ করাতে চায়। জাভেদ আখতার—যুক্তিবাদের শক্তিশালী, স্পষ্ট, উচ্চ এবং সৃজনশীল কণ্ঠস্বর। কট্টরপন্থী শক্তিগুলি প্রত্যেক ধর্মে উপস্থিত। তাদের উদ্দেশ্য সমাজকে বিভক্ত করা, না যে একত্রিত করা।”

     

    এপিডিআর (অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ ডেমোক্র্যাটিক রাইটস)ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিন্দা করেছে; বিষয়টিকে লোকতান্ত্রিক অধিকার/স্বাধীন অভিব্যক্তির জন্য হুমকি বলে বর্ণনা করেছে। মানবাধিকার ও সমাজকর্মী শাবনম হাশমি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন- “মুসলিম রাইট” চালানো মঞ্চগুলিকে বৈধতা দেওয়ার বিরুদ্ধে; “এটি শুরু”—কট্টরতা বৈধ হওয়ার হুমকি—প্রয়োজন পড়লে তিনি কলকাতায় আলাদা অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন। ভারত না হিন্দু রাষ্ট্র না ইসলামী; নাস্তিকদেরও জীবন-কথা বলার অধিকার আছে—এমনকি, ধর্ম-প্রধান রাজ্যগুলিতেও অ-আস্তিকরা থাকে।”

     

    কলকাতা-ভিত্তিক গবেষক সাবির আহমদ বলেন, “অভিব্যক্তির কিছু স্বাধীনতা তো থাকা উচিত; ধার্মিক/নাস্তিক হওয়া ব্যক্তির পছন্দ; অন্য কোনও প্রসঙ্গে বলা কথার কারণে অনুষ্ঠান বাতিল করা অসহিষ্ণুতা; ভিন্ন মত সহ্য করতে হবে।” সমাজকর্মী মনজর জামিল “যদি চিন্তায় আপত্তি থাকে, তাহলে অনুষ্ঠানেই বিতর্ক/প্রতিযোগিতা করুন—স্পষ্ট যে আসল উদ্দেশ্য তা নয়; লেখক-কবি-শিল্পী আলাদা ব্রহ্মাণ্ডে থাকেন, তাঁদের ‘সংকীর্ণ সংজ্ঞায়’ বাঁধা যায় না।” তিনি এও বলেছেন যে, “উর্দু অ্যাকাডেমি সাহিত্যিক সংস্থা—মাদ্রাসা/ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়; বিতর্ক করুন, বয়কট/ধমকি নয়।” রাজনীতিবিজ্ঞানের বিদ্বান মাইদুল ইসলাম এই ঘটনাকে “স্থগিত ‘নির্বাচনী বাধ্যতা’র ফল, জনমানসকে ভুল সংকেত, উদার মূল্যগুলিকে ধাক্কা।” লিখেছেন। সমাজিক একতা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত লোকেরা এটাকে “সম্প্রদায়গুলির মধ্যে দূরত্ব/সাম্প্রদায়িকীকরণকে শক্তিশালী করে। এমন তাদের প্রতিক্রিয়ায় লিখা আছে।

     

    মুসলিম সত্যশোধক মণ্ডলের সভাপতি ড. শমসুদ্দিন তাম্বোলি জাভেদ আখতারের সমর্থনে এই অনুষ্ঠান বাতিলকারী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তীব্র শব্দে নিন্দা করেছেন। তিনি লিখেছেন ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ভারতীয় সংবিধান দ্বারা ভারতীয় নাগরিকদের দেওয়া ধর্মের স্বাধীনতার অর্থ এখনও নাগরিকদের বোঝা যায়নি এটি আমাদের দুর্ভাগ্য। ধর্মের স্বাধীনতার অর্থ যেমন ধর্ম পালনের স্বাধীনতা তেমনই ধর্মকে অস্বীকার করার এবং ধর্মের সমালোচনারও স্বাধীনতা।

     

    জনবাদী লেখক সংঘ জাভেদ আখতারের সাহিত্য মহোৎসব বাতিলকে সাংস্কৃতিক গুন্ডামি বলে অভিহিত করে এটাকে অভিব্যক্তির স্বাধীনতা, উর্দুর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং লোকতন্ত্রের উপর সরাসরি হামলা বলেছে। জনবাদী লেখক সংঘ এটাকে কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ বলে তাদের বিবৃতিতে বলেছে যে বাংলা সরকার এবং উর্দু অ্যাকাডেমি জনতার পক্ষ থেকে পাওয়া দায়িত্ব ত্যাগ করেছে এবং কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির সামনে হাঁটু গেড়েছে। উর্দু ভাষাকে ধর্মীয় বন্ধনে বাঁধার ষড়যন্ত্র ভারতের গঙ্গা-যমুনা তহজিবের হত্যা। কট্টরপন্থী শক্তিগুলি যদিও কোনও ধর্মের নামে হোক, তাদের আসল উদ্দেশ্য জনতাকে চিন্তা করা, প্রশ্ন করা এবং বলা থেকে বিরত করা। এটি ফ্যাসিবাদী হামলা এবং এর উত্তর শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং জনআন্দোলন দিয়ে দেওয়া যাবে। লেখক সংঘ এই ঘটনার বিরোধিতায় দেশজুড়ে প্রতিরোধ নথিভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

     

    ভাজপার হিন্দুত্ববাদী কট্টরপন্থী চিন্তাধারা শাসিত রাজ্যগুলিতে পুস্তক মহোৎসব, আলোচনা, পরিগোষ্ঠীতে হামলা সাধারণ ব্যাপার রাজ্যগুলিতে এমন প্রচলন সাধারণ হয়ে গেছে। কলকাতাকে দীর্ঘকাল ধরে ভারতের বৌদ্ধিক রাজধানী বলা হয়। এই শহর সর্বদা সাহিত্য, কলা এবং সঙ্গীতের কেন্দ্র ছিল। এখানকার পুস্তক মেলা এবং থিয়েটার উৎসব আন্তর্জাতিক স্তরে প্রসিদ্ধ। কলকাতা সর্বদা বৌদ্ধিক আলোচনা এবং প্রগতিশীল চিন্তার দুর্গ বলে মান্যতা পেয়েছে। কলকাতা নিজেই দীর্ঘকাল ধরে প্রগতিশীল চিন্তার দুর্গ ছিল। এখানকার পুস্তক মেলা, এখানকার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলি এবং এখানকার সাহিত্যিক আলোচনা সর্বদা খোলামেলা এবং বৈচিত্র্যের প্রতীক ছিল। এখানকার পুস্তক মেলা, ফিল্ম মহোৎসব এবং সাহিত্যিক সম্মেলন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছে। এই ঘটনার পর এটি আজকের ভারতের বিড়ম্বনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এমন শহরে যদি একটি সাহিত্যিক অনুষ্ঠান ধর্মীয় চাপের কারণে বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এটি শুধুমাত্র কলকাতার ছবিকে মলিন করে না, বরং ভারতের লোকতান্ত্রিক ঐতিহ্যের উপরও প্রশ্ন তোলে। শহরে সাহিত্য মহোৎসব বাতিল হওয়া এই ঐতিহ্যের উপর দাগ।

     

    বাংলার মতো রাজ্যগুলিতেও যখন এই একই হয় তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই যে ভারতের মতো লোকতন্ত্রে কোনও লেখক, কবি বা শিল্পীকে শুধুমাত্র এজন্য মঞ্চ থেকে সরানো যায় কি যে তার চিন্তা কোনও সম্প্রদায়কে অস্বস্তিকর করে? অভিব্যক্তির স্বাধীনতার অর্থ এই যে অসম্মতি থাকা সত্ত্বেও সংলাপ এবং বিতর্ক হয়। ধর্মীয় পরিচয়ের নামে বিরোধিতা, ধমকি এবং হিংসা আসলে লোকতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তিকে দুর্বল করে। এবং যখন সরকার এমন চাপের সামনে নতি স্বীকার করে, তাহলে এই সংকেত যায় যে কট্টরপন্থ জিতেছে এবং স্বাধীন চিন্তা হেরেছে।

     

    দেশজুড়ে আজ যেখানে একদিকে কট্টরপন্থ এবং রাজনৈতিক ভয় সমাজের উপর ছড়িয়ে আছে, সেখানে অন্যদিকে সাহিত্য, কলা এবং অভিব্যক্তির স্বাধীনতা ক্রমাগত দমন করা হচ্ছে। এই বিতর্ক আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে যদি আমরা চিন্তার স্বাধীনতার রক্ষা না করি, তাহলে আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং লোকতান্ত্রিক মূল্য দুটোই হারাব। ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতি এবং ক্ষমতার সমীকরণ মিলে স্বাধীন চিন্তার উপর পাহারা বসাচ্ছে। কট্টরপন্থের ছায়া এখানেও গাঢ় হয়ে উঠছে। এটি বিড়ম্বনা যে যে শহর চিন্তার স্বাধীনতার পতাকা তুলেছে, সেখানে এখন বই এবং কবিতা থেকে ভয় উৎপন্ন হচ্ছে।

     

    এই বিতর্ক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠিয়েছে—উর্দু কি শুধুমাত্র মুসলিম সমাজের ভাষা? বাস্তবতা এই যে উর্দুর বিকাশ হিন্দু এবং মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সাঁজা সংস্কৃতি থেকে হয়েছে। ফিল্মি গান এবং কবিতা থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন পর্যন্ত—উর্দু ভারতীয় সমাজকে এক সূত্রে গাঁথার কাজ করেছে। উর্দু ভাষা শুধুমাত্র সাহিত্য নয় বরং ভারতীয় সিনেমাকেও সমৃদ্ধ করেছে কিন্তু সাহির, শাকিল, আলি সরদার জাফরি, জাননিসার আখতার, মজরুহ সুলতানপুরি, কাইফি আজমি, গুলজার এবং জাভেদ আখতার মতো গীতিকাররা হিন্দি ফিল্মগুলিকে কাব্যিক গভীরতা দিয়েছে। এটি বলা যে উর্দু কোনও একটি ধর্মের একচেটিয়া, উর্দুর সাঁজা ঐতিহ্যের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচার করা। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আইন-ব্যবস্থার চিন্তা নয় বরং তুষ্টিকরণের রাজনীতির ফল। উর্দু শুধুমাত্র মুসলমানদের ভাষা নয় এবং কোনও একটি সম্প্রদায়ের জায়গিরও নয়। এটি দিল্লি, লখনৌ, হায়দরাবাদ থেকে কলকাতা পর্যন্ত সাঁজা তহজিবের ভাষা ছিল। হিন্দি ফিল্মগুলির ইতিহাসই উর্দু ছাড়া অসম্পূর্ণ। “মুগল-ই-আজম” থেকে “পিয়াসা” পর্যন্ত এবং “জিন্দেগি গুলজার হ্যায়” মতো আধুনিক গান পর্যন্ত, প্রত্যেক জায়গায় উর্দুর সূক্ষ্মতা এবং শব্দগুলির সৌন্দর্য ঝলকছে। এই ভাষা ভারতীয় সিনেমাকে সেই জাদু দিয়েছে যা সমগ্র বিশ্বে প্রশংসিত। তাই “হিন্দি সিনেমায় উর্দু” বিষয়ক মহোৎসব শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি এই সাঁজা ঐতিহ্যের উৎসব উদযাপনের সুযোগ ছিল। তার বাতিল হয়ে যাওয়া এই সাঁজা সংস্কৃতির উপরও আঘাত।

     

    আজকের ধর্মীয় কট্টরপন্থী রাজনীতি এবং সমাজে অভিব্যক্তির স্বাধীনতা অসুরক্ষিত। ধর্মীয় সংগঠনগুলির চাপ, সরকারের ঝোঁকযুক্ত নীতি এবং বুদ্ধিজীবীদের অসহায়তা—এই তিনটি মিলে এই কথা প্রমাণ করে যে কট্টরপন্থের মোকাবিলা করা এখন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। যদি আমরা চাই যে ভারত সত্যিই বৈচিত্র্যে একতার প্রতীক হয়ে উঠুক, তাহলে আমাদের এমন অনুষ্ঠানগুলির রক্ষা করতে হবে।

     

    লেখক: আইনজীবী, মুম্বাই উচ্চ আদালত

  • মালয়েশিয়ায় হবিগঞ্জের যুবকের মৃত্যু; সুখের মুখ দেখার শুরুতেই  না ফেরার দেশে মহিবুর

    মালয়েশিয়ায় হবিগঞ্জের যুবকের মৃত্যু; সুখের মুখ দেখার শুরুতেই  না ফেরার দেশে মহিবুর

    পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করা হলোনা মহিবুরের। মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তানের স্বপ্ন রয়ে গেছে স্বপ্নই। সুখের মুখ দেখার শুরুতেই না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন মহিবুর রহমান (৩০)।

    বৃহস্পতিবার তিনি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাইন্নে বাড়ির তাজুল খা’র ছেলে।

    মহিবুরের মামাতো ভাই আজমিরীগঞ্জের সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক নেতা ইব্রাহিম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে মহিবুর রহমান সবার বড়। পরিবারে মা, বাবা, এক ভাই, এক বোন, স্ত্রী এবং একটি মেয়ে রয়েছে তার। তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে দেশে কোন রকমে জীবীকা নির্বাহ করতেন। অভাবের সংসারে মা, বাবা, ভাই-বোন ও স্ত্রী, সন্তানের মুখে হাসি ফুটাতে প্রায় দেড় বছর পূর্বে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। ধীরে ধীরে অভাব ঘুচাতে শুরু করেছিলেন। সুখের মুখও দেখার পালা এসেছিল এবার। কিন্তু তার আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোরে কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে গোসলে ঢুকেন। এ সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সাথে সাথেই মারা যান। তার রুমে থাকা একজনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এরপরই পরিবারে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। বাড়িতে কান্নার রুল পড়ে। তারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রীও পাগল প্রায়।

    ইব্রাহিম মিয়া বলেন, তার মরদেহ সব প্রক্রিয়া শেষে যে কোম্পানীতে চাকরি করতেন সে কোম্পানী দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

    আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিবির রঞ্জন তালুকদার বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমরা তার পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমাদের যা যা করনীয় আছে সকল প্রকার সহযোগিতা করবো। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি সহায়তার ব্যাপারে আমি যা যা করনীয় তা করবো।