Category: মৌলভীবাজার জেলা

  • আধুনিক শিক্ষায় এগিয়ে আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুল

    পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : ২০০১ সালে স্থাপিত হয় কমলগঞ্জে আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুল। হাঁটিহাঁটি পা পা করে সফলতার দেড় যুগ পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় মানসম্পন্ন বিকাশে এক ধাপ এগিয়ে কমলগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে এ বিদ্যাপীঠ।

    আধুনিক ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ২০১৯ সালে জানুয়ারী থেকে পাঠদান শুরু হয়েছে শিফট পদ্ধতিতে।

    প্লে-গ্রুপ হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চালুকৃত আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন মাত্র ২৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রায় আড়াইশত ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত। যাত্রা শুরুর পর থেকেই অসামান্য অবদান রেখে চলেছে নিজ এলাকায়। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষিত জাতি ছাড়া পৃথিবীতে মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

    সঙ্গত কারনেই প্রত্যেক শিশুকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা যেমন সরকারের দায়িত্ব তেমনি সমাজের প্রত্যেক নাগরিকেরও অবশ্য করনীয় একটা কাজ।

    এরই ধারাবাহিকতাই প্রতিটা পরিবারে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে কমলগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্র কলেজ রোডে নছরতপুর গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক ব্যাংকার মোঃ সালাহ উদ্দীন তার মা মরহুম আম্বিয়া খাতুনের নামে স্কুলটি প্রতিষ্টা করেন।

    ২০০১ ইং প্রতিষ্ঠাকাল থেকে একটি শাখা নিয়ে কাজ করলেও চলতি বছর জানুয়ারী হতে এক সাথে দু’টি শাখা নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার মান প্রসারে সৃজনশীলতার আঙ্গীকে অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারা দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে মেধাবী সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝেও।

    শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি কার্য দিবসসহ সাংস্কৃতিক আঙ্গীনায়ও পিছিয়ে নেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের লেখাপাড়ার বাহিরেও শিক্ষাসফর, মা সমাবেশ, ক্লাস পার্টি, বার্ষিক মিলাদ, সরস্বতী পুজা, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্টান ও জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রতিবছর কমলগঞ্জ উপজেলায় শতভাগ পাসের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ১৪/১৫জন শিক্ষার্থী এ+ পেতে সক্ষম হয়। কমলগঞ্জের সর্বত্র মানুষের শিক্ষার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্টান হিসাবে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সম্বন্মিত প্রচেষ্টায় আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।

    কমলগঞ্জ উপজেলার বি এ এফ শাহীন স্কুলের পরই এলাকাবাসী আম্বিয়া কে,জি স্কুলের অবস্থান মনে করেন । বিগত সময়ে ৫ম শ্রেনী উত্তীর্ণ একজন শিক্ষার্থীও ঝড়ে পড়ার কোন নজির নেই। সবাই ভাল স্কুলে সুযোগ পেয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে অভিভাবকরা জানান, শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক শিক্ষিকা তাদের সাধ্যমতো খুবই যতœ সহাকারে স্কুলের সকল শিক্ষার্থীকে সৃজনশীলতার আঙ্গীকে নিত্য নতুনভাবে শিখিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরও জানান, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার উপরও বেশ জোড় দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সকল অভিভাবকই প্রতিষ্ঠানের সফলতা কামনা করেন।
    স্কুলটিতে সরকারী সকল নিয়ম কানুন মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ১১ সদস্য বিশিষ্ট স্কুল পরিচালনা কমিটি রয়েছে। কমিটিতে জেলা পরিষদ সদস্য ও পৌরসভার মেয়রসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক আহমদ সিরাজ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে স্কুলটিকে একটি মডেল স্কুলে পরিণত করতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

    কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক ও যুগোপযোগী মানসম্মত পাঠদানে আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুল একটি মডেল স্কুলে পরিণত হয়েছে এলাকাবাসীর কাছে। শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান ও অভিভাবকদের মনিটরিং এর কারণে দিন দিন এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।

    আম্বিয়া কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মমতা রানী সিনহা বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্টার পর হতে নানা প্রতিকুলতাকে ডিঙ্গিয়ে আজ সুনামের সাথে লেখাপড়া চলছে। এটা সম্ভব হয়েছে অভিভাবক ও স্কুলের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও সমন্বয়নের কারনে। আমরা চেষ্টা করছি উন্নত ও আধুনিক শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তুলতে।

  • শ্রীমঙ্গলে এনা-কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে আহত ৩

    শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সখিনা সিএনজি পাম্প সংলগ্নে এনা পরিবহন বাস ও বাংলাদেশ পার্সেল কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঢাকা-সিলেট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    আহতরা হলেন- রাজশাহীর আনিসুর রহমান, নাটোরের হানিফ বেপারি, শ্রীমঙ্গলের করিম মিয়া।

    আহতদের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

    শ্রীমঙ্গলস্থ হাইওয়ে পুলিশ এ সড়ক দূর্ঘটনা নিশ্চিত করেন।

  • শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

    শ্রীমঙ্গল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সড়ক দুর্ঘটনায় তানভীর আহমেদ (২১) নামে একজন মোটর সাইকেল আরোহী মারা গেছেন।

    রোববার সন্ধ্যায় শহরের মৌলভীবাজার সড়কের হাউজিং স্টেইজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলো রিয়াজ আহমেদ, পিছনে বসা ছিলো তানভীর আহমেদ। এসময় পিছন থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান এসে ধাক্কা দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এর গাড়ি তাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তানভীরের অবস্থা খারাপ হলে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মারা যায়।

    নিহত তানভীর শ্রীমঙ্গলের কালাপুর ইউনিয়নের কাকিয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা।

    শ্রীমঙ্গল থানার এস আই রাব্বি বলেন, আমরা কাভার্ড ভ্যানটি আটক করেছি। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • কমলগঞ্জে প্রচন্ড শীতে দেখা দিয়েছে নানা রোগ

    পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):  মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রচন্ড শীত ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে কমলগঞ্জ উপজেলা জুড়ে শৈত্যপ্রবাহ ও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেখা দিয়েছে নানা ধরনের রোগ।

    চা বাগান অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলায় শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে।

    শীতবস্ত্রের অভাবে কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভোগান্তি লক্ষ্য করা যায়। প্রচন্ড শীতের কারণে বিশেষ করে চা বাগানের চা শ্রমিকরা ও গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষেরা শীতে অতীষ্ট। নানা জায়গায় দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন রোগ। অনেক স্থানে খড়কুটা জ¦ালিয়ে শীত নিবারন করছেন।

    কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সাজেদুল কবীর জানান, প্রচন্ড শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন শতাধিক আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০-২৫ রোগী বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধরা ডায়রিয়া সর্দি, কাশি, জ¦র, নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

  • ঢাকা-মৌলভীবাজারের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

    নির্মাণাধীন ব্রিজের পাশের ডাইভারসন রোডে ক্রেনবাহী একটি লরির চাকা দেবে গিয়ে ঢাকার সঙ্গে মৌলভীবাজারের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শ্রীমঙ্গলের লছনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ব্রিজের দু’পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে৷

    জানা যায়, সাতগাঁও চা ফ্যাক্টরির সামনের সড়কে নতুন ব্রিজ তৈরির কাজ চলমান থাকায় ব্রিজের পাশ দিয়ে করা বাইপাস ডাইভারশন রোডে শ্যামলিমা কোম্পানির একটি লরি ক্রেনসহ ডেবে যায়। এরপর থেকে সড়কটিতে দূরপাল্লার গাড়িসহ সব প্রকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    এ ব্যাপারে সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ইনচার্জ নান্নু মণ্ডল জানান, সিলেটের শেরপুর থেকে একটি ক্রেন উদ্ধারের জন্য এসেছে। আশা করছি স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।

  • শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন

    মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সোহেল মিয়া (২২) নামের এক যুবকের দু’পা ট্রেনে কাটা পড়ে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সকালের দিকে লাউয়াছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলীম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলেন- পা হারানো যুবকের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায়।

    স্থানীয়রা জানান, সকালের দিকে ট্রেন থেকে এক যাত্রী পড়ে যায়। স্থানীয়রা কাছে গিয়ে দেখতে পান ট্রেনে যুবকের দুই পা কেটে গেছে। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ সদস্যরা তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

    ওসি মো. আলীম উদ্দীন জানান, সোহেল মিয়া আখাউড়া থেকে সিলেটগামী জালালাবাদ ট্রেনযোগে তার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে লাউয়াছড়ায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ট্রেন থেকে পড়ে যান। তার দুই পা ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে কেটে যায়। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে দিয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • ঝড়ের কবল থেকে উঠে এলেন সুলতান

    এম. এ. কাইয়ুম: সুলতান মনসুরের সাথে ভোটের মাঠে টক্কর দিতে নৌকার কান্ডারি হিসেবে আ’লীগের হাই কমান্ড বেছে নিয়েছিল সাবেক বিএনপি নেতা এম এম শাহীনকে। বিকল্পধারার এই নেতাকে মহাজোট প্রার্থী করে মৌলভীবাজার-২ আসনে। ক্ষমতাসীনদল থেকে দেওয়া হয় সব রকমের সমর্থন। ভোটের মাঠ শাহীনের দখলে নিতে প্রয়োগ করা হয় সর্বোচ্চ শক্তি। সুলতান আটকানোর মিশনে স্থানীয় আ’লীগ হুমড়ি খেয়ে কাজ করে মাঠে। নানা কৌশলে সুলতান সমর্থক ও স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

    তবুও পারলেন না এম এম শাহীন। সুলতানের সাথে টক্কর দিতে গিয়ে নৌকার জোয়ারেও মাঝেও ডুবে গেলেন তিনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় বাগিয়ে নিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা সাবেক সাংসদ, ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।

    নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন সাবেক আ’লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর। তিনি পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৭৪২ ভোট। তার নিটতটম প্রতিদ্বন্দী বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এম শাহীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৭০ ভোট। অর্থাৎ মাত্র ২ হাজার ৫৭২ ভোটের ব্যবধানে আসনটিতে জয় পেলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে আর অন্য কোনও আসনে এতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়নি।

    স্বাধীনতার পর এই প্রথম মৌলভীবাজার-২ আসনে জয় পেয়েছে ধানের শীষ প্রতীক। ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে এ আসনে দুইবার জামানত হারায় বিএনপি। এবার এই আসনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে লড়লেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। জয়ী হয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি।

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলা‌দেশ ছাত্রলী‌গের সা‌বেক সভাপ‌তি, বাংলা‌দেশ আওয়ামী লী‌গের সা‌বেক সাংগঠ‌নিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। এ কারণে জীবনের বড় একটা সময় তাকে কাটাতে হয়েছে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ে আত্মগোপনে।

    ১৯৮৯ সালে ডাকসু’র ভিপি পদে তার বিজয় ছিল ’৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগের প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনও জয়। তার নেতৃত্বে ’৭৫-এর পর প্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি স্থান পায় ডাকসু ভবনে।

    এবারের নির্বাচনী মাঠে প্র‌তিপক্ষ দ‌লের হামলা, প্রায় অর্ধ-ডজন মামলায় শত শত নেতাকর্মী গ্রেফতারের পরও মনোবলে ভাঙন ধরেনি সুলতানের। যে আসনে কখনও জয়ী হতে পারেনি ধানের শীষ, এবারের নির্বাচনে সেই প্রতীক নিয়েই শেষ হাসি হাসলেন তিনি।

    মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রতি নির্বাচনে চমক থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দলীয় প্রতীকের চেয়ে এখানে সবসময় এগিয়ে থাকে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা।

    ১৯৯৬ সালে সুলতান মনসুর নৌকা প্রতীক নিয়ে এখান থেকে এমপি হয়েছিলেন, যা ছিল নৌকার সর্বশেষ জয়। এরপর কখনও জয় পায়নি নৌকা।

    ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত একদলীয় নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দেখানো হলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তা স্বীকৃতি পায়নি। কখনও জয় না পাওয়া এ আসনে সুলতান মনসুরের ওপর ভর করে এবার ধানের শীষ চমক দেখিয়েছেন এমনটি বলছেন স্থানীয় ভোটাররা। কারণ, সুলতান মনসুরের ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর ভর করে এখানের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।

    ২০০৮ তে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি সুলতান। সে নির্বাচনে সুলতানবিহীন নৌকা পেয়েছিল মাত্র ২ হাজার ভোট।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে প্রথম নির্বাচনে আসে বিএনপি। সে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে সৈয়দ আকমল হোসেন তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান নির্বাচনে আসলেও মাত্র পাঁচ হাজার ভোট পেয়ে জামানত হারান।

    ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত একদলীয় নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দেখানো হলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তা স্বীকৃত নয়। ১৯৯৬ সালে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে আসেন এমএম শাহীন। কিন্তু ওইবারও তৃতীয় হন তিনি ও তাঁর প্রতীক ধা‌নের শীষ। ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে চারদলীয় জোট থেকে জামায়া‌তের ড. শফিকুর রহমান নিবার্চন করে জামানত হারান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করেন এএনএম আবেদ রাজা।

    সেবারও ধানের শীষ তৃতীয় অবস্থান থেকে উন্নতি করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি।

    স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, সুলতান মনসুর ক্লিন ইমেজের জাতীয় নেতা। অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও প্রতিপক্ষকে হয়রানি করেননি মনসুর। এলাকার স্বার্থে সবাইকে নিয়ে কাজ করেছেন। তার কাছে কোনো কাজের জন্য এলাকার মানুষ গেলে দলীয় পরিচয় না খুঁজে তা করে দিয়েছেন। তাই এ আসনে একাদশ নির্বাচনে সুলতান মনসুরকে আমরা ভোট দিয়েছি। কারণ এখানে সবার প্রিয় নেতা সুলতান মনসুর।

    ২০০৮ সালে মৌলভীবাজার-২ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবেদ রাজা বলেন, সুলতান মনসুরের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে যে গণজোয়ার সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল যার কারণে এত কারচুপির পরেও সুলতানকে আটকানো যায়নি।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা সুলতান মনসুর আহমদ বলেন, এ জয় কুলাউড়াবাসীর। মানুষের শক্তিই যে প্রধান ও মূখ্য, তা কুলাউড়ার জনগণ প্রমাণ করেছে। আমি যে ভোট পেয়েছি তার চেয়ে তিনগুন বেশি ভোট পেতাম, যদি না ধরপাকড় না হত।