Category: বিশেষ প্রতিবেদন

  • নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা আলোচনায় নবীগঞ্জের ইমদাদ চৌধুরী

    নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা আলোচনায় নবীগঞ্জের ইমদাদ চৌধুরী

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিক্ষোভ ও মৌখিক হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীসহ কয়েকজনকে ড. ইউনূসের উদ্দেশে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় ড. ইউনূস কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির প্রতিবাদের মুখে পড়েন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে ড. ইউনূসের উদ্দেশে ‘ইউ আর আ টেররিস্ট’ (আপনি একজন সন্ত্রাসী) এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ (আপনি এখানে কেন এসেছেন)—এ ধরনের মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র, গ্রেপ্তার এবং পুলিশ হত্যার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

    এ সময় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের সামনে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

    এদিকে, ইমদাদ চৌধুরী নিষিদ্ধ ঘোষিত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন চৌধুরীর ভাই বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

    ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

  • সাতছড়ি উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

    সাতছড়ি উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

    মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

    এর মধ্যে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় মামলাটি করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন। মামলার নম্বর ৩৪।

    ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

     

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব গাছ চুরি করে কেনাবেচা করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

    গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার সঙ্গে ২০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

     

    মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও দেওরগাছ ইউনিয়নের ময়নাবাদ গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া (৩০)কে।

    অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিএমসির সভাপতি আবুল খান, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, মিরাশী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগসহ আরও কয়েকজন।

    এজাহারে চুরিকৃত গাছ কেনার অভিযোগে মারুফ মিয়া, জাহাঙ্গীর খান, শফিক মিয়া মহলদার, করিম সরকার, বেলাল, জমরুত, সোহেল ও মিজানুর রহমান সোহাগের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে একই দিনে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও ৪২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে বন বিভাগ। রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    স্থানীয় ওয়াইল্ডলাইফকর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবে তদন্তে নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

    অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

    সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত করে আদালতে বিচার্য করা হবে। গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল। এসব এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা ও পাচার বন্ধে মামলা ও আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি বন বিভাগের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

  • বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ ও পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি

    বিদেশে পাঠানোর নামে অর্থ ও পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি

    হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাতির থান গ্রামের বাসিন্দা মো. তিতু মিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ ও পাসপোর্ট নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের কাছে অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তারা বিষয়টির দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের অর্থ ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে অভিযোগের বক্তব্য জানতে মো. তিতু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

  • আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

    আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

    শুরুটা হয়েছিল হতাশাজনকভাবে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্পেন। সেই দলটিই ধীরে ধীরে নিজেদের বদলে ফেলে। দুর্দান্ত ছন্দে একের পর এক জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় লা রোজা। আর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।

    সোমবার ভোরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। পরে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয়ের উল্লাসে মাতে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের শিরোপা জিতল ইউরোপের দেশটি।

    পুরো ম্যাচজুড়েই আধিপত্য ছিল স্পেনের। বল দখল, আক্রমণ ও গোলের সুযোগ তৈরিতে তারা ছিল স্পষ্টভাবে এগিয়ে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ওয়ারজাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ একের পর এক আক্রমণ চালালেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

    প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রাখে স্পেন। পাস ও আক্রমণের সংখ্যাতেও তারা ছিল অনেক এগিয়ে। তবে গোলের দেখা না পাওয়ায় বিরতিতে ০-০ সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের একচেটিয়া আধিপত্য অব্যাহত থাকে। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ বারবার চাপে পড়লেও মার্টিনেজের দৃঢ়তায় গোলশূন্য থাকে ম্যাচ। শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে স্পেনের একটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। তবে হতাশ হয়নি লা রোজা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে ফেরান তোরেস বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।

    এই জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলল স্পেন। অন্যদিকে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

    বিশ্বকাপের শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়া স্পেন শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলে নিল। আর ফুটবল বিশ্ব পেল নতুন এক বিশ্বসেরা দল।

  • মাধবপুরে ১৩ দিনে ৪ আত্মহত্যা, বাড়ছে সামাজিক উদ্বেগ

    মাধবপুরে ১৩ দিনে ৪ আত্মহত্যা, বাড়ছে সামাজিক উদ্বেগ

    আবুল হাসান ফায়জ: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় হঠাৎ করেই আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

    মাত্র ১৩ দিনের ব্যবধানে তিন নারী ও এক পুরুষসহ চারজনের আত্মহত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সংকটকে এসব ঘটনার সম্ভাব্য পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই উপজেলার হাড়িয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে আনিতা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আনিতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী বুলবুল আহমদ স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত।

    পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    এর আগে গত ৬ জুলাই নোয়াপাড়া চা বাগানের চা-শ্রমিক প্রকাশ রেলী (২৬) আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, সুদখোর মহাজনের ঋণের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তা সহ্য করতে না পেরে তিনি এ পথ বেছে নেন।

    এরও দুই দিন আগে, গত ৪ জুলাই জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা বাউরী (৩০) আত্মহত্যা করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই দিনে উপজেলার খাটুরা গ্রামের সুমা সরকার (২০) নামের আরও এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

    স্বল্প সময়ে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনায় মাধবপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ, ঋণের চাপ, বেকারত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, একাকীত্ব এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় কুমার দত্ত বলেন, “আত্মহত্যা সাধারণত কোনো একক কারণে ঘটে না। মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা চাপ একসঙ্গে কাজ করে একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে দেখতে হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।”

    তিনি আরও বলেন, “পরিবারের কেউ দীর্ঘদিন বিষণ্নতায় ভুগলে, অতিরিক্ত হতাশা প্রকাশ করলে বা নিজেকে গুটিয়ে নিলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং পরিবারের সমর্থন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

    মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাহেল রানা জানান, প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আত্মহত্যার মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা আবেগের বশে মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তাই পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও জোরদার করতে হবে। পুলিশ যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।”

  • নবীগঞ্জে স্বামীর হাতে স্ত্রী খু ন ; স্বামী আটক

    নবীগঞ্জে স্বামীর হাতে স্ত্রী খু ন ; স্বামী আটক

    হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে  করগাঁও ইউনিয়নের ভাটি শেরপুর ভূমিহীন গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর দা’য়ের কোপে স্ত্রী নি’হত হয়েছেন।

    নি’হত গৃহবধূর নাম রিপন আক্তার (৩২)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা আশিক মিয়ার স্ত্রী।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২১ জুন ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আশিক মিয়া দা দিয়ে তার স্ত্রী রিপন আক্তারকে এলোপাতাড়ি কো’প দেন। এতে তিনি গুরুতর র’ক্তা’ক্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই মৃ’ত্যুবরণ করেন।

     

    ঘটনার পর এলাকাবাসী অভিযুক্ত আশিক মিয়াকে আ’টক করে রাখেন। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়।

    হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে বলে জানা গেছে।

  • বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

    বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

     

    হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা, রোগী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব সমস্যার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

    অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির সংকট, দেয়ালে শ্যাওলা জমে থাকা এবং ছাদের আস্তরণ খসে পড়ার মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, এসব কারণে হাসপাতালে সুস্থ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

    মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি পানির ট্যাব বিকল থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে তাদের বাইরে থেকে বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    কিছু রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের একটি অংশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বরাদ্দ ও অন্যান্য আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে অধিকতর স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

    অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে হাসপাতালের হেড ক্লার্ক গোবিন্দ লাল দাসের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

    এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. শামীমা আক্তারের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।