শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জমি: রাগব বোয়ালদের স্থাপনা না ভেঙ্গে চুনুপুটিদের উচ্ছেদ

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জমি

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুরঃ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের জমিতে গড়ে উঠা স্থাপনায় রাগব বোয়ালদের স্থাপনা না ভেঙ্গে চুনুপুটিদের ২ দিন ব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে।

গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারী (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) এ উচ্ছেদ অভিযানে ৪ শতাধিক চুনুপুটিদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ে বিভাগ। বেঁচে গেল রাগববোয়ালরা।

রেলওয়ে সূত্রে জানাগেছে, ঐতিহ্যবাহী শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের ভূমিতে যুগ যুগ ধরে ৫ শতাধিক স্থাপনা গড়ে উঠে। এরমধ্যে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, পৌর মার্কেট, প্রেসক্লাব, নাট্য সংগঠন, মসজিদ, দোকানপাঠ ও বস্তিসহ নানা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেক পরিত্যক্ত জায়গা দখল করে লীজ নিয়েছে রেলওয়ে হতে। নানা সময়ে দখলদারদের রেলওয়ের ভূমি ছাড়তে লাল ক্রস, নোটিশ ও মাইকিং করা হয়। কিন্তু কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান থেকে সরে জায়নি। আবার কেউ কেউ নিজ ইচ্ছায় স্থাপন ভেঙ্গে ফেলে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত রেলওয়ে জংশনের ঐতিহ্যবাহী দাউদনগর পরগনার জমিদারদের দেওয়া রেলওয়ে ভূমিতে ঐতিহ্যবাহী দাউদনগর বাজার, বাল্লা রেলগেইট, হবিগঞ্জ রেলগেইট, মুক্তিযোদ্ধা হোটেল, রেলওয়ে গোদাম রোড, রেলওয়ে হাসপাতাল, রেলওয়ে নিজগাঁও দিঘীর পাড় এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ২ দিনে ৪ শতাধিক দোকান, বস্তি উচ্ছেদ করে রেলওয়ে বিভাগ। পাশাপাশি লীজ নেওয়া ও খাজনা নেওয়াকৃত অর্ধ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু বেছে যায় রাগববোয়ালরা। উচ্ছেদ হয়নি রেলওয়ের জায়গায় এমন স্থাপনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রেলবিভাগ, জেলা প্রশাসন, পল্লী বিদ্যুত কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব ৯ ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেয় রেলওয়ে বিভাগীয় ভূসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদ রানা।

এ উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক্সেভেটর যন্ত্রের সাহায্যে স্থাপনা গুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়। আবার অনেক লাইসেন্সকৃত দোকানদার নিজেদের উদ্যেগে স্থাপনা সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

শায়েস্তাগঞ্জ শহরের প্রবীন ব্যবসায়ী মকছুদ আলী বলেন, লীজকৃত জায়গার মালিক দোকানদার বা বস্তিতে বসবাসকারীরা ভাবেনি এভাবে হঠাৎ তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

মকছুদ আলী আরো বলেন, ২ দিনে ৪ শতাধিক চুনুপুটির দোকান ও বস্তি উচ্ছেদ করা হয়েছে। আবার কেউ রেলের জায়গায় পাকা ঘর ১-৩ তলা ও দোকান স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করলেও এদের উচ্ছেদ করেনি। এ অভিযানে ক্ষতি সাধন হয়েছে গরিব দোকান মালিক ও বস্তির অসহায় লোকজনের।

রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম

রেলওয়ে বিভাগীয় ভূ-কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ভূমিতে গড়ে উঠা ১৭ শত স্থাপনার তালিকা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে ২ দিনে ৪ শতাধিক দোকান ও বস্তি উচ্ছেদ করা হয়। পর্যায়ক্রমে সবকয়টি উচ্ছেদ করা হবে। পুরো উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলে প্রায় ৫ শত কোটি টাকার ভূমি উদ্ধার করা যাবে বলে মনে করেছেন এই কর্মকর্তা। যে সকল স্থানে উচ্ছেদ করা হয়নি ২ মাস এর ভিতরে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

13 February 2020

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জমি: রাগব বোয়ালদের স্থাপনা না ভেঙ্গে চুনুপুটিদের উচ্ছেদ

www.hostbuybd.com