Category: হবিগঞ্জ জেলা

  • স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, তাই ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী

    স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, তাই ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী

    মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে পেশাদারভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ।

    স্বামীর পাখি শিকারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    জানা যায়,তানিয়া আক্তারের বাবার বাড়ি উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে, সোহেল সরদারের বাড়ির পাশে। তার অভিযোগ, স্বামী বধু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে আসছেন। স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডে আপত্তি জানিয়ে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

     

    তানিয়া আক্তার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে পাখি শিকার করা হয়। তার স্বামী বধু মিয়া এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বালিহাঁস, ডাহুক, শালিক ও জালালি কবুতরসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

    তানিয়া আক্তার বলেন, “আমার স্বামী সবসময় পাখি শিকার করে এবং শিকার করা পাখি বাড়িতে এনে রাখে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। তাছাড়া সে বাচ্চাকাচ্চার খোঁজখবর রাখে না, আমার ও সন্তানদের ভরণপোষণও দিচ্ছে না। বন বিভাগও তাকে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ড ও বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে আমি তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। আমি চাই, সে নিজেকে সংশোধন করে স্বাভাবিক ও ভালো জীবনযাপন করুক এবং বন্যপ্রাণী ধ্বংসের কাজ থেকে বিরত থাকুক।”

     

    কমলপুর গ্রামের কিশোর নাহিদ মিয়া বলেন, “বধু মিয়া নিয়মিত পাখি শিকার করেন বলে আমরা জানি। এ কারণে তার পারিবারিক জীবনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।”

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত বধু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একসময় আমি পাখি শিকার করতাম, এখন করি না। আমি আমার স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ দেব এবং শিগগিরই তাদের বাড়িতে নিয়ে আসব।”

     

    হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা সাবরিনা শিমু বলেন, “ওই শিকারির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। বন্যপ্রাণীবান্ধব এমন সচেতনতা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা সবার কাছ থেকেই এমন সচেতনতা প্রত্যাশা করি।”

    স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

  • বাহুবলে কাঠ পাচারকালে বন প্রহরীদের গুলি, ৭.৭৩ ঘনফুট আকাশমণি কাঠসহ সিএনজি জব্দ

    বাহুবলে কাঠ পাচারকালে বন প্রহরীদের গুলি, ৭.৭৩ ঘনফুট আকাশমণি কাঠসহ সিএনজি জব্দ

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিট এলাকা থেকে কাঠ পাচারের সময় বন প্রহরীদের সঙ্গে পাচারকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন প্রহরীরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৬ টুকরো আকাশমণি কাঠ, যার পরিমাণ ৭.৭৩ ঘনফুট, এবং কাঠ পাচারে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুর রহমানের নির্দেশনায় সরকারি বনজ সম্পদ রক্ষা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ ও চেক স্টেশন কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুটিজুরী বন বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ টহলের নির্দেশ দেন।

    নির্দেশনা অনুযায়ী বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বনাঞ্চলে বিশেষ টহল পরিচালনাকালে দেখতে পান, কয়েকজন ব্যক্তি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বনাঞ্চল থেকে আকাশমণি কাঠ পাচার করছেন। বন প্রহরীরা তাদের বাধা দিলে তারা হামলার চেষ্টা করে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন প্রহরীরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে পাচারকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।

    ঘটনাস্থল থেকে ২০০৬-০৭ সালের বনাঞ্চলের ৬ টুকরো আকাশমণি কাঠ, যার পরিমাণ ৭.৭৩ ঘনফুট, এবং পাচারে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশা (হবিগঞ্জ-থ-১১-৩৬১৪) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

    জব্দ করা কাঠ ও সিএনজি অটোরিকশাটি বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় বন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

  • সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে আপস-বাণিজ্য: বিতর্কের মুখে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম

    সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে আপস-বাণিজ্য: বিতর্কের মুখে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে প্রতিবাদের জেরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার মাধ্যমে আপস-মীমাংসার আলোচনা এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। এমন অভিযোগ করেছেন মাধবপুর উপজেলার আন্দিউরা গ্রামের ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়া, বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক রোমান মিয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারী দাবি করেন, বিভিন্ন ঘটনায় এভাবে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে জরিমানা বা অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।

    ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলায় আদালতের বাইরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন জিএম কীভাবে মামলা মীমাংসার অর্থ নির্ধারণ করেন? এ ধরনের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও তারা তদন্ত দাবি করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর মাধবপুরের বাঘাসুরা গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে রোমান মিয়ার সঙ্গে তেলিয়াপাড়া অভিযোগ কেন্দ্রের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রতিবাদের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়। পরে জিএম জিল্লুর রহমান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্যসচিব জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা আপসের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি নথি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী দেলোয়ার মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়ার বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও মামলা হয়। সোহেল মিয়ার দাবি, তার বাবার নামে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে না। এমনকি তার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে সংযোগের জন্য আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    সোহেল মিয়া বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আদালত তার বিচার করবেন। কিন্তু মামলা চলমান থাকার কারণে আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা অন্যায়। এতে আমার স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমি পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিএমের ঘনিষ্ঠ একজনের মাধ্যমে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে পরে মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করলে আদালত বিচার করবেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজে মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

    এদিকে জিএম জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মাধবপুর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে চারটি স্থানে সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য প্রায় ১২০ শতাংশ জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। ভূমির মালিকদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে জমি ক্রয়ের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লেখালেখি হয়েছে। এ ছাড়া দালালের মাধ্যমে খুঁটি ও নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য এবং বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

    মাধবপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি সুরমা চা-বাগানের হতদরিদ্র চা-শ্রমিক রবি লাল গৌড়ের বিদ্যুৎ সংযোগ মাত্র ৫১১ টাকা বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দেয়।

    স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন দরিদ্র চা-শ্রমিকের সামান্য বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কেন একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধবপুর জোনাল অফিসের এজিএম আবুল হাসানের কাছে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি জিএম জিল্লুর রহমান স্যার দেখছেন।” সংযোগ বিচ্ছিন্নের নিয়ম বিষয়ে তিনি আরও দাবি করেন, এটি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালার আওতায় রয়েছে।

    স্থানীয় সমাজসেবক ও মাধবপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরাশউদ্দীন বলেন, “কারও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে মামলা মীমাংসায় বাধ্য করা হলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মামলা মীমাংসা করা সরকারি কর্মকর্তার এখতিয়ারে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি সাবস্টেশনের জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করা উচিত।”

    অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন। তবে জরিমানা আদায়ের বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক দাবি করলেও এ পর্যন্ত কতজনের কাছ থেকে কত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরবর্তীতে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, “সোহেল মিয়ার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা অনেক সময় জিএমকে অনুরোধ করি এসব ঝামেলা মেটানোর জন্য। এখানে খারাপ কিছু দেখি না। আর জমি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।”

    এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপপরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, “আমরা বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখব। কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • ক্যান্সার আক্রান্ত শফিকের কঠিন সময়ে পাশে মোফাজ্জল হোসেন ইমন, সহায়তায় এগিয়ে আসছেন আরও অনেকে

    ক্যান্সার আক্রান্ত শফিকের কঠিন সময়ে পাশে মোফাজ্জল হোসেন ইমন, সহায়তায় এগিয়ে আসছেন আরও অনেকে

    ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে চিকিৎসাধীন অটোরিকশাচালক শফিক মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন ইমন। তার ব্যক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরও কয়েকজন এগিয়ে এসেছেন শফিকের চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।

    হবিগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শফিক মিয়া লালা গ্রন্থির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৩০ জুন ২০২৬ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও সামনে রয়েছে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরবর্তী থেরাপির ব্যয়।

    শফিক মিয়ার পরিবারও রয়েছে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। দুই কন্যাসন্তানের মধ্যে বড়টির বয়স ১৪ বছর এবং ছোটটির ৫ বছর। পরিবারটির উপার্জনের প্রধান ভরসা শফিক নিজেই। একই সময়ে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে শফিক মিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা সহযোগিতা করেছেন মোফাজ্জল হোসেন ইমন। পাশাপাশি তার মাধ্যমে ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে আরও কয়েকজন শফিক মিয়ার হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।

    সম্প্রতি ইমনের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দেওয়া ৩ হাজার টাকা সহযোগিতাও শফিক মিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট এই সহায়তাগুলোই বর্তমানে চিকিৎসাধীন শফিক ও তার পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শফিকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া, অপারেশন-পরবর্তী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ থেরাপির খরচ বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শফিক মিয়ার চিকিৎসায় সহযোগিতার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে আরও মানুষের কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একটি ভিডিও শেয়ার করেও তার চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন করা হয়েছে।

    সহায়তার আগে যাচাইয়ের অনুরোধ:

    বিকাশ: 01319-453102

    নগদ: 017590-32841

    অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে নম্বর ও পরিচয় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    শফিক মিয়ার দ্রুত সুস্থতা এবং তার পরিবারের সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

  • শায়েস্তাগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মেহগনি চেরাই কাঠসহ ট্রাক আটক

    শায়েস্তাগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মেহগনি চেরাই কাঠসহ ট্রাক আটক

    সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুর রহমানের নির্দেশনায় বিভাগজুড়ে অবৈধভাবে বনাঞ্চলের গাছ, কাঠ ও বাঁশ পাচার রোধে ফরেস্ট চেক স্টেশনগুলোতে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট চেক স্টেশনে বিপুল পরিমাণ মেহগনি চেরাই কাঠসহ একটি ট্রাক আটক করেছে বন বিভাগ।

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জের ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর নির্দেশনায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লস্করপুর এলাকায় ফরেস্ট চেক স্টেশনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা প্রায় ৮০ ঘনফুট মেহগনি চেরাই কাঠসহ একটি ট্রাক আটক করা হয়।

    আটক ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-১৮৪২। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কাঠের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। জব্দকৃত কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

    শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কাঠ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহীন টিম্বার মার্টের মালিক মো. শাহীন মিয়া ওই মেহগনি চেরাই কাঠ ট্রাকে করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার দিশাবাড়ি এলাকার মো. রাকিবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

    তিনি আরও জানান, ট্রাকটিতে ত্রিপল দিয়ে কাঠগুলো ঢেকে রাখা হয়েছিল। অভিযানকালে মহাসড়ক থেকে কাঠসহ ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ট্রাক ও কাঠ উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ে এনে জব্দ করে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    বন কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সম্পদ রক্ষায় ফরেস্ট চেক স্টেশনে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বনাঞ্চলের গাছ, কাঠ ও বাঁশ উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    জব্দকৃত কাঠ ও ট্রাকের বিষয়ে বন আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

  • বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ উদ্ধার নবীগঞ্জে

    বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের মরদেহ উদ্ধার নবীগঞ্জে

    হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নের শংকরপুর (ইছবপুর) গ্রামের সিএনজি চালক তুহিন মিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    নিহত তুহিন মিয়া শংকরপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে। তার ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশার নম্বর হবিগঞ্জ-থ-১১-৪৩৪০।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১০টার পর থেকে সিএনজিসহ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তুহিন মিয়া। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

    বাহুবলের নিখোঁজ সিএনজি চালক তুহিনের লাশ

    অবশেষে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলি এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

    এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত ঘটনার তদন্ত শুরু করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে।

  • বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

    বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

    হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাহির মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের দুই ভাই ও স্ত্রীসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর খাগাউড়া ইউনিয়নের কুর্শা খাগাউড়া গ্রামের চালবন হাওড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত তাহির মিয়া কুর্শা খাগাউড়া গ্রামের রাজপাড়া এলাকার মৃত তাজিমুল্লার ছেলে। আহতরা হলেন—তাহির মিয়ার দুই ভাই শহীদ মিয়া (৪৫) ও আনু মিয়া (৩৮) এবং তার স্ত্রী স্বপনা বেগম (৩৫)।

    স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে তাহির মিয়া তার দুই ভাই শহীদ মিয়া ও আনু মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চালবন হাওড়ে জমির আগাছা পরিষ্কার করতে যান। এ সময় প্রতিবেশী চাচা ও চাচাতো ভাই জাহির উল্লাহ, শরীফ, বক্করসহ কয়েকজন তাদের কাজে বাধা দেন।

    এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তাহির মিয়াসহ চারজন আহত হন।

    পরে স্বজনরা খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাহির মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    তাহির মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।

    এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।