Category: হবিগঞ্জ জেলা

  • মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

    মাধবপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্‌যাপন উপলক্ষে এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ​উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান।

    ​সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায় এবং মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা।

    ​রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল ইসলাম কামাল, সাধারণ সম্পাদক (বা সাংগঠনিক সম্পাদক) চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ খাঁন ও সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাফিজ ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. সোহেল, পৌর জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রহমান সোহাগ ও সেক্রেটারি আব্দুস সামাদ মানিক।

    ​সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মনোজ কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক লিটন রায়, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক হীরেশ বাবু, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ডা. হরি বাবুসহ উপজেলার ১১৫টি পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিবৃন্দ।

    ​সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

  • সৌদিতে নির্যাতিত সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে, শিগগিরই ফিরছেন দেশে

    সৌদিতে নির্যাতিত সেই রেহেনা দূতাবাসের হেফাজতে, শিগগিরই ফিরছেন দেশে

    সৌদি আরবের জেদ্দায় গৃহকর্মী ভিসায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুনকে অবশেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে তার নির্যাতনের খবর প্রকাশের পর গত ৫ অক্টোবর তাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে গত ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দিয়ে রেহেনা খাতুনকে দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই রেহেনা খাতুনকে দেশে ফেরানো হবে। তার জন্য বিমানের টিকিটও কেনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে রয়েছেন।

    রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যারা বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। তবে রেহেনার পাওনা বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র। তার পাওনা টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    এদিকে ভুক্তভোগী রেহেনা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সর্বশেষ এক ইমু ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, তার বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া তার কাছ থেকে জোর করে একটি জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই ভিডিও বার্তায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রেহেনা।

  • ২ মাস ধরে নির্যাতিত রেহেনা, সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ২ মাস ধরে নির্যাতিত রেহেনা, সৌদিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    অভাব-অনটনের সুযোগ নিয়ে দালালের মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে নির্যাতন, বেতন-ভাতা না পাওয়া ও অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুরের সীমান্তবর্তী কমলপুর গ্রামের রেহেনা খাতুন। তাকে উদ্ধারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

     

    পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে রেহেনার নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরও সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা।

     

    রেহেনার পরিবারের আরও অভিযোগ, রাজধানীর ফকিরাপুলে অবস্থিত ‘জেনিয়া ওভারসিজ’ নামের রিক্রুটিং এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সৌদিতে তার নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে রেহেনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দিচ্ছেন। তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্বজনরা।

     

    পরিবারের দাবি, রেহেনার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

     

    এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ ১ ও ২ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন বলেন, “গত ৩ অক্টোবর আমরা ই-মেইলের মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়েছি। ৫ অক্টোবর লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হবে। লিখিতভাবে জানানোর পর বিষয়টি তাদের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।”

     

    রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

     

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আরফিন হক বলেন, “আমাদের মহাপরিচালক স্যার একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন। আমরা সেটি ফলোআপ করব। বিষয়টি আমরা দেখভাল করছি।”

     

    তবে রেহেনার কাছে এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় বা দূতাবাসের কোনো প্রতিনিধি পৌঁছেছেন কি না—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

     

    এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপ-সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

     

    রেহেনার স্বামী আলী আহমদ বলেন, “আমার স্ত্রী জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দূতাবাসের লোকজনের সহযোগিতা চাই। দালালরা হুমকি দিচ্ছে, তাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেবে। আমরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।”

     

    পরিবারের দাবি, ৫ অক্টোবর থেকে রেহেনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশে ফিরতে না দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সহযোগিতা চান।

     

    এদিকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

     

    রেহেনাকে দ্রুত শনাক্ত করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নির্যাতন ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

  • হবিগঞ্জে দ্বিতীয় দিনেও পরিবহন ধর্মঘট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

    হবিগঞ্জে দ্বিতীয় দিনেও পরিবহন ধর্মঘট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

    মোজাদ্দেদ আল ফেসানি তামিম: হবিগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শুক্রবারও পালিত হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। এতে হবিগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে কোনো ধরনের যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়নি। ফলে টানা দুই দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার হাজারো যাত্রী।

     

    এর আগে বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে বাস চলাচলের কথা জানান।

     

    তবে মোটর মালিক গ্রুপের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেননি বাস শ্রমিকরা। তাদের দাবি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

     

    ধর্মঘটের কারণে অনেক যাত্রী বাস টার্মিনালে এসে বাস না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ বিকল্প পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

     

    হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের অভিযোগ, হবিগঞ্জ থেকে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার ও শেরপুর হয়ে সিলেটগামী ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস’ বাস চলাচল নিয়ে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের বাস মালিক ও শ্রমিকদের আটকে রাখা, মারধরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও করেছে তারা।

     

    পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও এখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

     

    এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হবিগঞ্জে সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় মোটর মালিক গ্রুপ। পরে শ্রমিক সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের অনুরোধে রাত ১১টার দিকে মালিক পক্ষ ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও শ্রমিকরা তা মেনে নেননি।

     

    শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

     

    এদিকে, শনিবার বাস চলাচল করবে কি না, নাকি ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে তৃতীয় দিনের মতো বাস চলাচল বন্ধ থাকবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

  • হবিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে

    হবিগঞ্জে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে

    হবিগঞ্জের এক স্কুল শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে  এক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা সাদেকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আটক সাদেকুল ইসলাম নবীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর কুর্শি ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের রাব্বানী মিয়ার ছেলে। তিনি হবিগঞ্জের রাজনগর এলাকার  মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরীর জান্নাতুল মাওয়া কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও অভিযোগসংক্রান্ত সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় পড়ানোর সুবাদে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহের পর বিষয়টি জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    রোববার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় রাজনগর এলাকার ওই মাদ্রাসা থেকে সাদেকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    স্থানীয় সূত্রে অভিযোগটি ‘জ্বিনের ভয় দেখানোর’ মাধ্যমে সংঘটিত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘বিশেষ পরিবীক্ষণ দল’ গঠন: হবিগঞ্জের দায়িত্বে জেলার চার কর্মকর্তা

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘বিশেষ পরিবীক্ষণ দল’ গঠন: হবিগঞ্জের দায়িত্বে জেলার চার কর্মকর্তা

    সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রমসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে দেশের সকল জেলার জন্য ৬৪টি বিশেষ পরিবীক্ষণ দল গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ শাখা থেকে উপসচিব এ. এইচ. এম. মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই পরিবীক্ষণ দল গঠনের কথা জানানো হয়। দেশজুড়ে ৬৪টি জেলার তদারকির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা মনিটরিংয়ের জন্য হবিগঞ্জ জেলারই চার স্থায়ী নাগরিক তথা অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

     

    গঠিত পরিবীক্ষণ দলটিতে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন— পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্মসচিব সামিহা ফেরদৌসী, যিনি এই দলের দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দলের অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ বিভাগের উপসচিব জনাব আল-ইমরান রুহুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মোঃ হারুন-অর-রশিদ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অভিজিৎ সূত্রধর।

     

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই বিশেষ পরিবীক্ষণ দলটি মাঠ পর্যায়ে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পাশাপাশি সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে সোলার প্যানেল স্থাপন ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার অগ্রগতি তদারকি করবে এই দল।

    এছাড়াও, দেশব্যাপী পরিচালিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’ এবং প্রতি শনিবারের নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন তারা। দলের কাজের সুবিধার্থে দলনেতা সদস্যদের মধ্যে উপজেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করবেন। একই সাথে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা, গৃহীত পদক্ষেপ ও সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১৬ তারিখ এবং পরবর্তী মাসের ১ তারিখে নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।

     

    কার্যক্রম পরিচালনাকালে যদি কোনো জেলা বা উপজেলায় পরিবীক্ষণ দলের নিকট কাজের কোনো অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়, তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তা বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন এবং প্রয়োজনে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করবেন।

    অর্পিত এই দায়িত্ব গুরুত্বের সাথে পালন করতে পরিবীক্ষণ দলকে জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

  • বাবা-মেয়েকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, চুনারুঘাটে এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

    বাবা-মেয়েকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, চুনারুঘাটে এসআই-কনস্টেবল প্রত্যাহার

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বাবা-মেয়েসহ তিনজনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাফিউর রহমান।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া, তাঁর ভাই ইউনুস ও মেয়ে জাসমিন আক্তার।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালিশিরী গ্রামের একটি পরিবারের সঙ্গে ছায়েদ মিয়ার পরিবারের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলায় হাজিরা দিতে ছায়েদ মিয়া, তাঁর মেয়ে জাসমিন ও ভাই ইউনুস ইজিবাইকে করে চুনারুঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। বগাডুবি রেললাইনের মোড়ে পৌঁছালে এসআই মাসুম আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাঁদের গতিরোধ করে।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ সময় তাঁদের তল্লাশি করার সময় পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁদের পুলিশের গাড়িতে করে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরী গ্রামের শত শত মানুষ চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী ও আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যানপ্রার্থীরাও থানায় উপস্থিত হন।

    পরে বিকেল ৪টার দিকে আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনার পর চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যদি সাজানো হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হবে না।

    এদিকে, অভিযোগের পর এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।