মাধবপুরে শিল্পবর্জ্য দূষণে অতিষ্ঠ ১০/১২ গ্রামের মানুষ

মাধবপুরে শিল্পবর্জ্য দূষণে অতিষ্ঠ ১০/১২ গ্রামের মানুষ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক্তিয়ারপুর, শ্রীমৎপুর, দাসপাড়া, গোপীনাথপুর, ছাতিয়াইন গ্রামসহ ১০/১২টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ শিল্পবর্জ্যে দূষণের কবলে পরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অসহনীয় দুর্গন্ধ এবং দূষণে জীবন-জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

গ্রামবাসীর আহবানে বাংলাদেশ পরিবেশ অন্দলন (বাপা) হবিগঞ্জের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার এক্তিয়ারপুর খালসহ তৎসংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে বাপা প্রতিনিধিদল দেখতে পান কারখানার বর্জ্য এক্তিয়ারপুর খালে নিক্ষেপের ফলে কালো কুচকুচে হয়ে পড়েছে পানি। এ সময় খালের পানিতে মৃত মোরগ ভাসতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানান বিষাক্ত এ পানি ব্যবহার করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহনানান রোগে আর হাঁস-মুরগি গবাদি পশু মারা যাচ্ছে হরহামেশা।

গ্রামবাসী জানান “মার লিমিটেড” নামক কারখানার নিক্ষিপ্ত বর্জ্য মানুষের জীবন এবং জীবিকাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। মারাত্মক দুর্গন্ধ বাড়ি ঘরে থাকা যাচ্ছে না।

এক্তিয়ারপুর খালটি দূষণের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। ফলে কৃষিকাজ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, “কোন কলকারখানা উৎসে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটপি) নিশ্চিত না করে শিল্প বর্জ্য কারখানার অভ্যন্তরে কিংবা বাহিরে কোন অবস্থায় ফেলতে পারেনা। এটি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি বিধানের পরিপন্থী। কিন্তু আমরা দেখছি কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা কল কারখানা গুলো নদী-খাল-কৃষিজমি সহ যত্রতত্র শিল্প বর্জ্য নিক্ষেপ করে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। মার লি: নামক কারখানার বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে হাজার হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে “

বর্জ্যে এলাকার মানবিক বিপর্যয় নেমে আসায় গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আন্দোলন-সংগ্রাম করে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসন পরিবেশ বিষয়ক বৈঠক করে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এর উপস্থিতিতে মার লিমিটেড নামক কারখানাটির উৎসে বর্জ্য পরিশোধন (ইটি পি) না থাকায় এবং কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে কৃষি জমিসহ নদীতে নিক্ষেপ করার ফলে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ না করে চালু রাখে এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে গ্রামবাসী, বাপা ও কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ এর বৈঠকে যথাযথভাবে উৎসে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কারখানা পরিচালনার অঙ্গীকার করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রথমে রাতের আঁধারে এবং পরবর্তীতে কোন ধরনের আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে কারখানা চালু রেখে বর্জ্য এক্তিয়ারপুর খালের মাধ্যমে খাস্টি এবং বেলেশরী নদীতে ফেলা হচ্ছে। বিষাক্ত বর্জ্য হাওরের মাছসহ জলজ প্রাণীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানান অসুখে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল , সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ মোশাহিদ, ডা: আলী হাসান চৌধুরী পিন্টু, আমিনুল ইসলাম। গ্রামবাসীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মো: ছফিল আহমেদ সোহেল, মো: হেলাল মিয়া, মো: শামসুদ্দিন তালুকদার, ডা: মো: রুকু মিয়া প্রমুখ।

Share this news as a Photo Card

03 December 2019

মাধবপুরে শিল্পবর্জ্য দূষণে অতিষ্ঠ ১০/১২ গ্রামের মানুষ

www.hostbuybd.com