কাঙ্কিত দাম না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন নবীগঞ্জের কৃষকরা !

নবীগঞ্জে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা একপ্রকার দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া সরকার কতৃর্ক নায্য মূল্যের ধান সংগ্রহের হার অনেক কম হওওয়ায় তারা আরও বেশি আতঙ্কে আছেন।

কৃষি বিভাগের সূত্র জানায়, জেলার হাওর অঞ্চল বলে খ্যাত নবীগঞ্জ উপজেলায় এবার ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। ধান কাটার শুরুর দিকে করোনা ভাইরাসের কারণে কৃষকরা শ্রমিক সংকটের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিক এনে ধান কাটা শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর পশ্চিম,৭নং করগাঁও, পানিউন্দা ও কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়ন সহ নবীগঞ্জ উপজেলার হাওর অঞ্চলের নিচু এলাকার ১০০ শতাংশ জমির ধান ও উচু এলাকার ৮৫ শতাংশ জমি ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষক ও কৃষানী জমি থেকে খলার নিয়ে আসা ধানগুলো শুকানোর জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কৃষকদের দৈনিক মজুরি দেয়াসহ ধান কাটা পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রতি কের (৩০ শতাংশ) জমিতে ৭/৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে সর্বসাকুল্যে প্রতি কের জমিতে গড়ে ১৫/১৮ মন ধান হচ্ছে। আর বর্তমান বাজারে কাঁচা ধানের মূল্য ৫ পাচঁশত টাকা। এ হিসেবে কৃষকরা ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকরা ধানের মূল্য বেশি হলে তারা লাভবান হতেন। এ জন্য ধানের মূল্য বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার মুক্তাহার গ্রামের গ্রামের কৃষক ফনি দাশ জানান, তিনি এবার ২০ কের জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। প্রতি করে জমিতে ধান রোপন, কাটা, মারাই করাসহ সব মিলিয়ে ৭/৮ হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর জমিগুলোর মধ্যে কোন জমিতে ১৫ মন আবার কোন জমিতে ২০ মন ধান ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি মন ধান কাচা পাচঁশত টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে কৃষি জমি করে আমরা কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সরকার ধানের দাম আরো বাড়ালে কৃষকরা লাভবান হতো।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া সরকার প্রতি বছর ধান সংগ্রহ করে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে যাদের ধান সংগ্রহে দায়িত্ব দেয়া হয়, তারা প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেন না। ধান নেয়া হয়, কিছু নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। কৃষকরা ধান দিতে গেলে নানা টাল বাহনা করা হয়। এবার উপজেলার ১১,৮০০ প্রান্তিক কৃষকের ৩০৯১ জন সৌভাগ্যবান কৃষক সরকারী খাদ্য গুদামে নায্য মূল্যে ধান দিতে পারবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গৌর পদ দে জানান উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রাপ্ত তালিকা থেকে আমরা লটারি মাধ্যমে নির্বাচিত প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে আগামী রবিবার থেকে ধান নেওয়া শুরু করব। এর বাইরে ধান নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।

উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এ.কে.এম মাকসুদুল আলম জানান, এবার উপজেলায় ১৭ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফসল উৎপাদন বেশি হয়েছে। কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে।

Share this news as a Photo Card

15 May 2020

কাঙ্কিত দাম না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন নবীগঞ্জের কৃষকরা !

www.hostbuybd.com