Category: মাধবপুর

  • সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে আপস-বাণিজ্য: বিতর্কের মুখে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম

    সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে আপস-বাণিজ্য: বিতর্কের মুখে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জিএম

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে প্রতিবাদের জেরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার মাধ্যমে আপস-মীমাংসার আলোচনা এবং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। এমন অভিযোগ করেছেন মাধবপুর উপজেলার আন্দিউরা গ্রামের ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়া, বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক রোমান মিয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারী দাবি করেন, বিভিন্ন ঘটনায় এভাবে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে জরিমানা বা অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।

    ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, ফৌজদারি মামলায় আদালতের বাইরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন জিএম কীভাবে মামলা মীমাংসার অর্থ নির্ধারণ করেন? এ ধরনের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও তারা তদন্ত দাবি করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর মাধবপুরের বাঘাসুরা গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে রোমান মিয়ার সঙ্গে তেলিয়াপাড়া অভিযোগ কেন্দ্রের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রতিবাদের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়। পরে জিএম জিল্লুর রহমান ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্যসচিব জহিরুল ইসলামের মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলা আপসের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি নথি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

    অন্যদিকে, গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারী দেলোয়ার মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী সোহেল মিয়ার বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও মামলা হয়। সোহেল মিয়ার দাবি, তার বাবার নামে থাকা বিদ্যুৎ সংযোগটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে না। এমনকি তার স্ত্রী ও ভাইয়ের নামে সংযোগের জন্য আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    সোহেল মিয়া বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, আদালত তার বিচার করবেন। কিন্তু মামলা চলমান থাকার কারণে আমার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা অন্যায়। এতে আমার স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমি পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জিএমের ঘনিষ্ঠ একজনের মাধ্যমে মামলা মীমাংসা ও জরিমানার নামে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে পরে মীমাংসার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলো তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধ করলে আদালত বিচার করবেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজে মামলা মীমাংসার নামে অর্থ আদায় করতে পারে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

    এদিকে জিএম জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মাধবপুর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে চারটি স্থানে সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য প্রায় ১২০ শতাংশ জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। ভূমির মালিকদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা করে কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে জমি ক্রয়ের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লেখালেখি হয়েছে। এ ছাড়া দালালের মাধ্যমে খুঁটি ও নতুন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য এবং বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

    মাধবপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি সুরমা চা-বাগানের হতদরিদ্র চা-শ্রমিক রবি লাল গৌড়ের বিদ্যুৎ সংযোগ মাত্র ৫১১ টাকা বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দেয়।

    স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন দরিদ্র চা-শ্রমিকের সামান্য বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও বড় অঙ্কের বকেয়া থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কেন একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধবপুর জোনাল অফিসের এজিএম আবুল হাসানের কাছে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি জিএম জিল্লুর রহমান স্যার দেখছেন।” সংযোগ বিচ্ছিন্নের নিয়ম বিষয়ে তিনি আরও দাবি করেন, এটি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালার আওতায় রয়েছে।

    স্থানীয় সমাজসেবক ও মাধবপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরাশউদ্দীন বলেন, “কারও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে মামলা মীমাংসায় বাধ্য করা হলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মামলা মীমাংসা করা সরকারি কর্মকর্তার এখতিয়ারে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি সাবস্টেশনের জমি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করা উচিত।”

    অভিযোগের বিষয়ে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিল্লুর রহমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় এমন ব্যবস্থা নেওয়া যায় বলে তিনি দাবি করেন। তবে জরিমানা আদায়ের বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক দাবি করলেও এ পর্যন্ত কতজনের কাছ থেকে কত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরবর্তীতে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

    হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, “সোহেল মিয়ার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা অনেক সময় জিএমকে অনুরোধ করি এসব ঝামেলা মেটানোর জন্য। এখানে খারাপ কিছু দেখি না। আর জমি ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি।”

    এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপপরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, “আমরা বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখব। কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • মাধবপুরে স্বচ্ছতা গ্রুপের চিকিৎসা সহায়তা পেলেন স্কুল ছাত্রী ইভা

    মাধবপুরে স্বচ্ছতা গ্রুপের চিকিৎসা সহায়তা পেলেন স্কুল ছাত্রী ইভা

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে অনলাইনভিত্তিক মানবিক সংগঠন স্বচ্ছতা গ্রুপের ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগুনে পুড়ে যাওয়া অসহায় ইসরাত জাহান ইভাকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

     

    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় উপজেলার ১১নং বাঘাসুরা ইউনিয়নের ছালেহাবাদ (হরিতলা) গ্রামে অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা গ্রুপের ১০৮তম মানবিক প্রোগ্রামে অতিথি ও সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

     

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী ইভা আগুনে পুড়ে অধিকাংশ মুখমণ্ডল জলসে যায়। চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় ঢাকা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

     

    অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা গ্রুপের সদস্য মুফতি শফিকুল ইসলাম ডালিম-এর সভাপতিত্বে এবং স্বচ্ছতা গ্রুপের সদস্য মো: নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহিদুল আলম সর্দার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছালেহাবাদ মাদরাসার সাবেক শিক্ষক মাওলানা সোলাইমান মিয়া জিহাদী, ইমাম ও খতিব মাওঃ মনজুরুল হক , মাওলানা গিয়াস উদ্দিন সালেহী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও নূরুল আমিন কুরাইশী।

     

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বচ্ছতা গ্রুপের সদস্য সাব্বির হোসেন সাগর, সাংবাদিক শেখ ইমন আহমেদ, সিদ্দিক মিয়া,মোস্তুফা কামাল শিবলী, মোখলেসুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান,জুবাইদ মিয়া রুবেল।

     

    সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তারা আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে স্বচ্ছতা গ্রুপ মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দুস্থ ও চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিয়মিত মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    বক্তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

     

    অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় মো: নজরুল ইসলাম, মাওলানা মো: মুজিবুর রহমান ও মো: জুবায়েদ মিয়া রুবেল কে সম্মাননা স্বারক (ক্রেস্ট) প্রদান করা হয়েছে।

  • বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুর ভিটেমাটি দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তা-সহায়তা চান মা-মেয়ে

    বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুর ভিটেমাটি দখলের অভিযোগ, নিরাপত্তা-সহায়তা চান মা-মেয়ে

    মুজাহিদ মসি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে এলাকার একমাত্র গেজেটেড বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা বেগম ও তার যুদ্ধশিশু কন্যা শামসুন্নাহারকে বাড়িঘর দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও নির্যাতনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

    এ ঘটনায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম।

    অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা মাজেদা বেগম ও তার যুদ্ধশিশু কন্যা শামসুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সামাজিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন সময় তাদের হয়রানি করে আসছে। এমনকি তাদের ভিটেমাটি ও বাড়িঘর দখলেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।

    মাজেদা বেগমের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তাকে একটি বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তার আত্মীয় আমির হোসেন ও জামাল মিয়া একটি চক্রের সহযোগিতায় তাদের ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সর্বশেষ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় আমিন নজরুল ইসলাম তাদের না জানিয়ে বাড়িঘর মাপতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন মাজেদা বেগম। এ সময় বাড়িঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এর আগেও নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগে মাধবপুর থানায় দুইবার অভিযোগ করেছিলেন বলে জানান তারা।

    তবে আমির হোসেন ও জামাল মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এগুলো আমাদের মালিকানাধীন জায়গা। নির্যাতনের অভিযোগ অতিরঞ্জিত।”

    এদিকে যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে গলার জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানা গেছে। তার চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে গত মার্চে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।

    বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসূচিতেও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না বলে অভিযোগ করেন মা-মেয়ে।

    বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে নিয়ে একটি স্বাধীন দেশে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কর্মসূচিতে আমাদের ডাকা হয় না। বিভিন্ন সময় টিটকারি-মশকরা করা হয়। আমাদের বীর নিবাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। এখন ন্যায়বিচারের জন্য থানায় থানায় ঘুরছি।”

    যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বলেন, “রাষ্ট্র যদি আমাদের বিচার না করে, তাহলে একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যাব। আমাদের নিয়ে নিউজ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করবে—বড় কথা হলো, আমাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চাই।”

    মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী ওরফে দুলা মিয়া বলেন, “বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তার কন্যা আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। তাদের ওপর এত নির্যাতনের বিষয়টি আমি জানতাম না। আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি আমি তুলে ধরব।”

    মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, “আমি তাদের খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়টিও আগের ইউএনওর সময়ের। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়ে থাকলে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাসউদ্দিন বলেন, “বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের কাছে সম্মানের। উপজেলার কোনো অনুষ্ঠানে তাদের দাওয়াত দিতে দেখিনি। যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহারও জটিল রোগে আক্রান্ত। রাষ্ট্রের নীরবতা তাদের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য। তাদের ওপর চলমান নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

    প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা মাজেদা বেগমকে অপহরণ করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় বলে জানা যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি সামাজিকভাবে নানা বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হন। পরবর্তীতে সরকারিভাবে গেজেটেড বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান মাজেদা বেগম। মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের সময় তার গর্ভে জন্ম নেন শামসুন্নাহার, যিনি যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত।

  • মাধবপুরে নোয়াপাড়া চা বাগান থেকে বিষধর দারাস সাপ উদ্ধার

    মাধবপুরে নোয়াপাড়া চা বাগান থেকে বিষধর দারাস সাপ উদ্ধার

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগান থেকে একটি বিষধর দারাস সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াপাড়া চা বাগানের ভেতর থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, চা শ্রমিকরা বাগানে কাঁচা চা-পাতা ও কুঁড়ি সংগ্রহ করতে গেলে হঠাৎ একটি বিষধর সাপ দেখতে পান। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা চা-পাতা সংগ্রহের কাজ বন্ধ করে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।

    পরে নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বিষয়টি রঘুনন্দন রেঞ্জের আওতাধীন জগদীশপুর বন বিট কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামকে জানান। খবর পেয়ে বন বিট কর্মকর্তার নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি উদ্ধার করে।

    সাপটির প্রজাতি শনাক্তের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তাঁর নির্দেশনায় উদ্ধার করা সাপটি জগদীশপুর প্রকৃতি বনে অবমুক্ত করা হয়।

    জগদীশপুর বন বিট কাম স্টেশনের ফরেস্টার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির মৌসুমে খাবারের সন্ধানে কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন সময় সাপ চা বাগানের ঝোপঝাড়ে চলে আসে। এ সময় শ্রমিকদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বন বিভাগ বা হবিগঞ্জ বন্যপ্রাণী অফিসে খবর দেওয়া উচিত। খবর পেলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাপ উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।”

  • মাধবপুরে নোয়াহাটি বাজার এলাকায় চোরাই বাঁশসহ মিনি ট্রাক জব্দ

    মাধবপুরে নোয়াহাটি বাজার এলাকায় চোরাই বাঁশসহ মিনি ট্রাক জব্দ

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াহাটি বাজার এলাকা থেকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে কাটা বিপুল পরিমাণ মূলী বাঁশসহ একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে বন বিভাগ।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে হবিগঞ্জের রঘুনন্দন রেঞ্জের অধীন জগদীশপুর বিট কাম চেক স্টেশনের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব বাঁশ ও বাঁশ পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাকটি জব্দ করা হয়। ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১৬-৮০৬৩।

    বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে নোয়াহাটি বাজার এলাকার সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন জগদীশপুর বিট কাম চেক স্টেশনের কর্মীরা। এ সময় চোরাই মূলী বাঁশবোঝাই মিনি ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ট্রাকটি উদ্ধার করে জগদীশপুর ফরেস্ট বিট কাম অফিসে হেফাজতে রাখা হয়।

    জগদীশপুর বিট কাম চেক স্টেশনের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) নির্দেশনায় সংরক্ষিত বনের সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। বন উজাড়কারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি নোয়াহাটি বাজারসংলগ্ন সড়ক থেকে অবৈধ মূলী বাঁশসহ মিনি ট্রাক জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে রাতের আঁধারে বালু, গাছ ও বাঁশ কেটে পাচার করছে একটি চক্র। সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, গাছ কাটা ও বাঁশ পাচারের ঘটনায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।

    স্থানীয়রা আরও জানান, জগদীশপুর বিট কাম চেক স্টেশনের কর্মকর্তা সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে বনসম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ইতিপূর্বে অভিযান চালিয়ে চোরাই কাঠ ও বাঁশ উদ্ধারসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে।

    জব্দ করা মিনি ট্রাক ও বাঁশের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

  • ভুক্তভোগী নারীর শিশুকে উদ্ধার করে নিজের পকেটের টাকা দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

    ভুক্তভোগী নারীর শিশুকে উদ্ধার করে নিজের পকেটের টাকা দিলেন পুলিশ কর্মকর্তা

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে নির্যাতনের শিকার এক নারীর ছয় মাস বয়সী শিশুকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ওই নারীকে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই দেলোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।

    জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর গ্রামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তার প্রথম স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধর করে তিন সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই তিন সন্তানের মধ্যে একটি শিশুর বয়স মাত্র ৭ মাস। স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টি নিয়ে মাধবপুরের ইউএনও ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

     

    অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৬ আগস্ট) কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দেলোয়ার হোসেন অভিযান চালিয়ে ৭ মাস বয়সী শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।

     

    পরে অসহায় ওই নারীর বাড়ি ফেরার মতো ভাড়ার টাকাও না থাকায় এএসআই দেলোয়ার হোসেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ফাঁড়িতে এসে ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

     

    স্থানীয়দের মতে, পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা গেলেও একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

    এএসআই দেলোয়ার হোসেন সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন মামলার সর্বোচ্চ সংখ্যক আসামি গ্রেপ্তারের স্বীকৃতি হিসেবে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে জেলা পর্যায়ে সেরা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন।

     

    এ বিষয়ে এসআই দেলোয়ার হোসেন বলেন, “নিজের সবটুকু দিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। সামনে আরও দক্ষ ও ভালো কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করার জন্য কাজ করছি।”

     

    ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমি পুলিশের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে যে উপকারটুকু করেছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। তাছাড়া আমার উপর পারিবারিক যেসব নির্যাতন চলছে।সেটার একটি আইনের প্রতিকার দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

  • হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলো ও মুক্তিযুদ্ধের স্তম্ভ পরিদর্শনে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার

    হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলো ও মুক্তিযুদ্ধের স্তম্ভ পরিদর্শনে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার

    হৃদয় এস এম শাহ্-আলম:  হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগান বাংলো এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত তেলিয়াপাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্তম্ভ পরিদর্শন করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) তিনি এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ এবং মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান।

    পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।