Category: মাধবপুর

  • দীর্ঘদিনেও দখলমুক্ত হয়নি মাধবপুরের কাটিংগা বিল, সংকটে পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ

    দীর্ঘদিনেও দখলমুক্ত হয়নি মাধবপুরের কাটিংগা বিল, সংকটে পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ

    হবিগঞ্জকে “পাহাড়, টিলা, হাওর, বন—পর্যটনের সম্ভাবনাময় জেলা” হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক। এরই একটি উদাহরণ মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের আন্দিউড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাটিংগা বিল, যা দীর্ঘদিন ধরেও দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    স্থানীয়দের মতে, একসময় এই বিল ছিল বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। আশপাশের মানুষ এখানে মাছ ধরতে এসে আনন্দঘন সময় কাটাতেন। শুধু তাই নয়, পাশের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বহু প্রজাতির পাখিও খাদ্যের সন্ধানে এই বিলে আসত।

    তবে বর্তমানে বিলটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে। প্রভাবশালী মহলের দখল ও অবৈধ স্থাপনার কারণে বিলের আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে জীববৈচিত্র ধ্বংসের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    কাটিংগা বিল রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “এই বিলটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। কিন্তু এখন দখলদারদের কারণে এটি ধ্বংসের মুখে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

    অন্যদিকে, ‘পাখি প্রেমিক সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল জানান, সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের আদলে এই বিলকে সংরক্ষণ করা হলে এটি পরিবেশ ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, “জলাভূমি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাটিংগা বিল নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

    প্রায় ১০ থেকে ১৫ একর আয়তনের এই বিলটি আন্দিউড়া মৌজার ৫৩৯৮ ও ৫৪১১ দাগে অবস্থিত। বিভিন্ন ছড়া ও জলধারার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এটি শেষ পর্যন্ত তিতাস নদীতে গিয়ে মিশেছে। একসময় প্রাণবন্ত এই বিল এখন অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ ব্যবস্থা না নিলে কাটিংগা বিল একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

    ছবি: কাটিংগা বিলের বর্তমান চিত্র

  • মাধবপুরে জমি বিরোধে মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার

    মাধবপুরে জমি বিরোধে মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার

    হবিগঞ্জের মাধবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলার ৩ জন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯।

    র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ আলী মাধবপুর উপজেলার বুল্লা এলাকার বাসিন্দা। তার ভাতিজাদের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

    গত ৬ এপ্রিল বিকেলে সালিশ শেষে অভিযুক্তরা নিহতের ভাতিজা জুয়েল মিয়াকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী এগিয়ে এলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল সকালে তিনি মারা যান।

    এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মাধবপুর থানা-এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল রাতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কামাল মিয়া (৪০), আঞ্জব আলী (৪০), ফয়েজ উদ্দিন (২৮) ।

    গ্রেপ্তারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সরকার নির্ধারিত মূল্যে হারভেস্টার সুবিধা পাচ্ছেন না মাধবপুরের কৃষকরা

    সরকার নির্ধারিত মূল্যে হারভেস্টার সুবিধা পাচ্ছেন না মাধবপুরের কৃষকরা

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় বেশি টাকা দিয়েই বাধ্য হয়ে ধান কাটাতে হচ্ছে তাদের।

    উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়ন এর সাতপাড়া মাঠে একটি হারভেস্টার মেশিন প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, মেশিনটির মালিক বরুড়া গ্রামের মিশুক মিয়া প্রতি শতক জমির ধান কাটার জন্য ৯০ টাকা করে আদায় করছেন।

    কৃষকরা জানান, আবহাওয়ার ঝুঁকির কারণে দ্রুত ধান কাটতে না পারলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত মূল্য দিয়েই তারা ধান কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সর্বশেষ সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে হারভেস্টার মালিকদের জন্য প্রতি শতক ৬০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) ২০০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই।

    পরে কৃষি কর্মকর্তাকে মেশিন মালিকের নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দেওয়া হলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মালিকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, মিশুক মিয়া তখন ৬০ টাকা হারে ভাড়া নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

    কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আশ্বাস দেওয়ার পরও তিনি কৃষকদের কাছ থেকে ৯০ টাকা শতক হারে টাকা নিয়েছেন।

    সাতপাড়া গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ৮০ শতক জমির ধান কাটিয়েছেন এবং প্রতি শতক ৯০ টাকা দিতে হয়েছে। কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, তার ৭২ শতক জমির ধান কাটা হয়েছে একই হারে। নাসির উদ্দিনও একই অভিযোগ করেন।

    ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ভয়ে বাধ্য হয়ে তারা এই বাড়তি টাকা দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এবং প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে মেশিন মালিককে ফোনে সতর্ক করা হয়েছে।

    কৃষক সমাজের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে হবে।

  • এক পরিবারের সবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

    এক পরিবারের সবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের আফজলপুর গ্রামে শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের পরিবার গড়ে তুলেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

    একই পরিবারের একাধিক সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় এলাকাজুড়ে তারা “শিক্ষক পরিবার” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

    শিক্ষক মোঃ সিরাজ উদ্দিন স্থানীয় রামনগর তালেবর সর্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সহধর্মিণী লায়লা আরজুমান বানু কুলসুম কুলসুম কোনা আফজলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

    তাদের বড় ছেলে মইনুল ইসলাম জাকারিয়া আফজলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ছোট সন্তান ইয়াসিনুল ইসলাম ২০২৫ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং শিগগিরই যোগদান করবেন। বড় সন্তানের পুত্রবধূও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

    একই পরিবারের সবাই শিক্ষক হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষক মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে তারা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং দিনের শেষে পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

    শিক্ষক মোঃ সিরাজ উদ্দিন বলেন, “সারা জীবন আমি ও আমার সহধর্মিণী নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছি। আমাদের সন্তানরাও এই পেশায় এসেছে—এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে মানুষ তার লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক সন্তুষ্টিও অর্জন করতে পারে।”

    ওই পরিবারের আত্মীয় স্থানীয় শিক্ষক নেতা ও মাধবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুল আলম দুলাল বলেন, “এই পরিবারটি সত্যিই ব্যতিক্রমী।আমরাও শিক্ষক পরিবার। তাদের মধ্যে শিক্ষকতার প্রতি যে ভালোবাসা রয়েছে, তা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক।”

    স্থানীয়রা মনে করেন, এই পরিবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • মাধবপুরে মন্দিরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

    মাধবপুরে মন্দিরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে ভোররাতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    উপজেলার বহরা ইউনিয়নের মনতলা স্টেশন বাজার ঘেষা রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে বুধবার ভোররাতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

     

    স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে কাজে যাওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক মন্দিরে আগুন জ্বলতে দেখে দ্রুত আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে আগুনে মন্দিরের বিভিন্ন পূজার সামগ্রী, একটি টিনশেড ঘর ও পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে যায়। এতে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

    খবর পেয়ে মনতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    মন্দির কমিটির সভাপতি নারায়ণ পদ পাল বলেন, সম্প্রতি এলাকাজুড়ে মন্দিরকে ঘিরে একাধিক ঘটনা ঘটছে। তিনি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং এ ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

     

    স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তার মতে, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।

    এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মাধবপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা: সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ!

    মাধবপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা: সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ!

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এসএসসি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাকে ঘিরে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

    লিখিত আবেদন করেও ৫ জন সাংবাদিককে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    অনুমতি বঞ্চিত সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক মানবজমিনের মাধবপুর উপজেলা প্রতিনিধি এমএম গউস, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি কায়েস আহমেদ সালমান, আরটিভি ডিজিটাল করেসপন্ডেন্ট ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি, এনপিবি ও দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি ত্রিপুরারি দেবনাথ তিপু এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের উপজেলা প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন নোমান।

    জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল তারা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও অনুলিপি পাঠান। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত কোনো অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।

    জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সাংবাদিকসহ বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।

    এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। তাই সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।”

    তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের উপস্থিতি জরুরি। সেখানে সাংবাদিকদেরই বাইরে রাখা হচ্ছে—এতে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

    দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি কায়েস আহমেদ সালমান বলেন, “এটি সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ। এতে পরীক্ষা কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”

    দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি এমএম গউস বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাংবাদিকদের ঢুকতে না দিলে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হবে।”

    এ বিষয়ে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রউফ সেলিম বলেন, “সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় না। নিয়ম মেনেই তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।”

    সামগ্রিক পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেছেন।

  • জমি, বিরোধ ও অপেক্ষা: আশ্রব আলীর জীবনে ৫০ বছরের অমীমাংসিত অধ্যায়

    জমি, বিরোধ ও অপেক্ষা: আশ্রব আলীর জীবনে ৫০ বছরের অমীমাংসিত অধ্যায়

    হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের ৬৪ বছর বয়সী আশ্রব আলী পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এক অমীমাংসিত পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে আছেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান এই বিরোধ এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

    আশ্রব আলীর অভিযোগ, তার পিতা মৃত ইউসুফ আলীর অন্যান্য সন্তান—ইয়াকুব আলী, রজব আলী ও মৃত সাজত আলী—পারিবারিক জমির বড় অংশ নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। তিনি সৎ ভাই হওয়ায় তাকে সম্পত্তির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আবারও স্থানীয়ভাবে সালিশ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

    অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, আশ্রব আলী পূর্বেই পারিবারিক সম্পত্তির পরিবর্তে অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাই নতুন করে জমির দাবি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করেন। এই দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানই বিরোধকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।

    স্থানীয়রা জানান, এই বিরোধের কারণে আশ্রব আলীর জীবন দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তায় কেটেছে। তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেছেন। কয়েক বছর আগে তিনি দাবি করা জমিতে অবস্থান করলেও পরে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    আশ্রব আলী বিভিন্ন সময় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। থানা, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনগত সহায়তা সংস্থায় আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি লিগ্যাল এইডে গেলে সেখানে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

    সম্প্রতি স্থানীয় একটি ফেসবুক পেজ “ফোকাস নিউজ”-এ আশ্রব আলীর জীবনসংগ্রামের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পারিবারিক জমি বিরোধে দলিলগত দুর্বলতা, সঠিক উত্তরাধিকার বণ্টনের অভাব এবং দীর্ঘসূত্রতা প্রধান সমস্যা হিসেবে কাজ করে।

    সব মিলিয়ে আশ্রব আলীর জীবন এখনো এক অনিশ্চিত অপেক্ষার নাম—যেখানে জমির বিরোধ শুধু সম্পত্তির নয়, বরং একজন মানুষের দীর্ঘ জীবনের সংগ্রাম ও বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি।