Category: মৌলভীবাজার জেলা

  • সিলেট টু কক্সবাজার ট্রেন চালু, পর্যটকদের উল্লাস

    সিলেট টু কক্সবাজার ট্রেন চালু, পর্যটকদের উল্লাস

    আবুল কাশেম রুমন: দীর্ঘ দিনের সিলেটবাসীর দাবী ছিলো সিলেট টু কক্সবাজার ট্রেন চালুর জন্য। অবশেষে পূরণ সিলেটবাসীর হতে যাচ্ছে স্বপ্ন। চালু হচ্ছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত সিলেট-কক্সবাজার আন্তঃনগর  রেল।

    চলতি বছরের ১লা নভেম্বর থেকে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট- কক্সবাজার রোডে নতুন ননস্টপ আন্তঃনগর দুটি ট্রেন সংযুক্ত করা হচ্ছে। যা চালু হলে সিলেটের মানুষ খুব সহজেই ঝামেলা ছাড়া যেতে পারবেন কক্সবাজার।

    তাছাড়া কক্সবাজার থেকে খুব সহজে পর্যটক সহ সাধারণ মানুষ সিলেটের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ে হেল্পলাইন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট রুটে নতুন ননস্টপ ট্রেন চলবে নতুন  কোরিয়ান রেক দিয়ে। ঢাকা ছাড়বে সকাল ৯:৩০ মিনেটে এবং সিলেট পৌঁছাবে বিকাল ৩.১০ মিনেটে। সিলেট থেকে ট্রেনটি ছাড়বে বিকাল ৪টার পরে এবং ঢাকায় ঢুকবে রাত ১১টায়। এক্ষেত্রে পারাবত এক্সপ্রেসের সময় সূচিতে কিছুটা সমন্বয় করে ওয়াশপিত হবে সিলেটে।

    সেই সাথে সিলেট থেকে সরাসরি কক্সবাজার রোডে নতুন আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা শুরু করা হচ্ছে, জানা যায়, ট্রেনটি সিলেট থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছাড়বে সকাল ৭:৩০ মিনিটে আর কক্সবাজার  পৌছাবে বিকাল ৫ টায় এবং কক্সবাজার থেকে ট্রেন ছাড়বে রাত ৮টায় ছেড়ে সিলেট পৌঁছাবে ভোর ৫:৩০ মিনিটে।

  • দুর্গাপূজা উপলক্ষে র‍্যাব ৯ এর নিরাপত্তা জোরদার

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে র‍্যাব ৯ এর নিরাপত্তা জোরদার

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে।

    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) অপরাধ দমনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে জনসাধারণের পাশে থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কাজের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

    দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার করে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং দেশে বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে র‌্যাব সাধারণ মানুশের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    এরই অংশ হিসেবে আসন্ন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় র‌্যাব-৯ এর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    দুর্গোৎসব এর পাশাপাশি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অংশ হিসেবে র‌্যাব-৯ এর আওতাধীন এলাকা সিলেটসহ সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতে র‌্যাব-৯ এর পর্যাপ্ত টহল মোতায়েন রাখা হয়েছে।

    জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে অত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ পাঁচটি জেলায় (সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) নিয়মিত রোবাষ্ট পেট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ধারাবাহিকভাবে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    শারদীয় দুর্গাপূজা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যেন কোনো গুজব ছড়াতে না পারে এবং যেকোন ধরনের সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য র‌্যাব-৯ এর সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।

    এছাড়াও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন, চরমপন্থি বা স্বার্থান্বেষী মহল এবং সন্ত্রাসীরা যেন কোন ধরনের নাশকতা ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য র‌্যাব-৯ এর বিশেষ টহল এবং চেকপোস্ট কার্যক্রমের পাশাপাশি সাদা পোষাকে র‌্যাব সদস্যরা বিভিন্ন পূজামন্ডপ ও র‌্যাব-৯ এর আওতাধীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কতার সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজন মোকাবেলায় র‌্যাব-৯ এর পর্যাপ্ত সংখ্যক রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।

    র‌্যাব-৯ কর্তৃক উক্ত নিরাপত্তা জোরদারকরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এছাড়াও যেকোন সহিংসতা বা নাশকতার বিরুদ্ধে র‌্যাব কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর।

  • শ্রীমঙ্গলে অজ্ঞান পার্টির ০৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

    শ্রীমঙ্গলে অজ্ঞান পার্টির ০৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব

    মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানা এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির ০৫ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯, সিলেট।

    জানা যায়, বিগত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২:১০ ঘটিকার সময় ভিকটিম ছাবিয়া বেগম মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানাধীন বড়লেখা বাজারস্থ পূবালী ব্যাংক থেকে ৭৫,০০০ টাকা উত্তোলন করে ২ হাজার টাকা আলাদা রেখে বাকি ৭৩,০০০ টাকা ভ্যানেটি ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ভিকটিমের নাক ও মুখে সংজ্ঞা বিলোপকারী পদার্থ নিক্ষেপ করে। এতে ভিকটিম ছাবিয়া বেগম হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ভিকটিমের ব্যাগে থাকা নগদ ৭৩,০০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে একটি চুরি মামলা দায়ের করেন। যা বড়লেখা থানার মামলা নং- ১০/১৪০, তারিখ- ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রিঃ, ধারা- ৩২৮/৩৭৯ পেনাল কোড-১৮৬০। চা ল্যকর এ ঘটনাটি মিডিয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে আসামীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব-৯ চা ল্যকর এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

    এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প, মৌলভীবাজার এর একটি আভিযানিক দল গত ১৫ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখ রাত অনুমান ২০.৩০ ঘটিকায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অজ্ঞান পার্টির ০৫ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা- ১। ইব্রাহিম মিয়া (৫৯), পিতা- মৃত তুফান আলী, সাং- দক্ষিণ রাজটিলা, ২। মোঃ শাহাব উদ্দিন (৩৪), পিতা- মৃত মতি মিয়া, সাং- বালিগাওঁ, ৩। মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (৩৩), পিতা- মৃত কলিম উল্লাহ চৌধুরী, সাং- নগর, ৪। শরীফ মিয়া (২৩), পিতা- ইব্রাহিম মিয়া, সাং- দক্ষিণ রাজটিলা, সর্ব থানা- কমলগঞ্জ, জেলা- মৌলভীবাজার এবং ৫। জুবায়ের মিয়া (২৮) পিতা- হাবিব মিয়া, সাং- কালাপুর, থানা- শ্রীমঙ্গল, জেলা- মৌলভীবাজার।

    পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সিলেট জুড়ে দেশী মাছের সংকট

    সিলেট জুড়ে দেশী মাছের সংকট

    আবুল কাশেম রুমন: গোঠা সিলেট জুড়ে দেশী মাছে সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। জেলা ও উপজেলার গ্রাম গঞ্জের বাজারে আগের মতো এখন দেশী মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

    হাওর, বিল ও নদী এখন পাওয়া যাচ্ছে না বলে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান। নানা কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকজন দেশী মাছের স্বাদ  থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাছের উৎপাদন কমে আসার কারণ হিসেবে নানা বিষয় তুলে ধরছেন হাওরপারের  লোকজন।

    সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বেশি ভাগ মাছ আসতো সুনামগঞ্জ থেকে তার মধ্যে শাল্লার ছায়ার হাওর, খোয়ার হাওর, সতুয়া নদী, সোনাকানী বিল, ভান্ডা বিল, চিনামারা বিল, হারিয়া বিল এবং বড় হাওরের ধান বাঁচাতে বিলের সবদিকে বাঁধ দেয়া হয়। এই বাঁধের কারণে মাছ ঢুকতে পারছে না। যেগুলো আছে সেগুলোও চলাচল করতে পারে না। ফলে শুষ্ক মৌসুম বিল সেচেও তেমন মাছ পাওয়া যায় না।

    ধান রক্ষায় অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের জন্য মাছের প্রজণন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাঁধের কারণে মাছ ইচ্ছা মতো পানিতে ঘুওে বেড়াতে পারছে না। এ কারণে হাওরের মাছ কমে যাচ্ছে। রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য ধান গাছে অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগও হাওরের মাছ কমে যাওয়ার কারণ।
    জেলেরা বলছেন, আমরা এখন আগের মতো মাছ ধরতে পারছি না। আমরা হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ যারা মাছের উপর ভরসা করে চলতাম এখন আর চলতে পারছিনা। এজন্য বউ বাচ্চা নিয়ে বিপদে আছি।

    সুনামগঞ্জ দাউদপুর বাজারের মৎস্য আড়তের মালিক মোহাম্মদ আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, ভাটির হাওর এখন মাছ শূন্য। মাছ নেই বললেই চলে। আমাদের ব্যবসাও খুব মান্দা। এলাকার অনেক কৃষকের ভাষ্য, উচ্চফলনশীল ধান ফলানোর প্রতিযোগিতায় নেমে আমরা অতিরিক্ত সার, অতিমাত্রায় কীটনাশক দিয়ে নিধন করছি মাছ ও মাছের প্রজণন।

    অন্যদিকে অবাধে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন হচ্ছে। অবাধে বিক্রি হচ্ছে রেণু পোনা, কেউ বাধা দিচ্ছে না। মাছের প্রজাতির বিলুপ্তি ঠেকাতে ও উৎপাদন বাড়াতে অবশ্যই পোনা মাছ এবং ডিমওয়ালা মাছ নিধন বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে ক্ষতিকর জালের ব্যবহারও। হাওর এলাকায় এসব কেউ মানছে না।

    মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক যুগ আগেও প্রায় ১০৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে বেশকিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হওয়ার পথে আরও কিছু প্রজাতি।

    সংকটাপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে- বাছা, বেদা, ছেপচেলা, ঢেলা, বাঁশপাতা, কুঁচে, নাপতে কই, বাতাসিয়া টেংরা, ফলি ও গুজিআইড়। আর বিপন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে রয়েছে- গুলশা, গনিয়া, দাড়কিনা, আইড়, পাবদা, বড় বাইম, গজার, তারাবাইম, তিতপুঁটি, নামা চান্দা ও কালিবাউশ দারপিনা।

    সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর মাছ আগে হাওর ও বিলে গিয়ে আশ্রয় নিতো। এখন বাঁধের কারণে নদী থেকে হাওর বা বিলে যেতে পারছে না মাছ।

    সিলেটে প্রতিবছর বন্যার পানি নামার উপর হাওর, বিলে প্রচুর পরিমান দেশি মাছ পাওয়া যেত কিন্তু এ বছর হাওর বিল থেকে পানি নামার পর তেমন কোন দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেটে জেলার প্রতিটি বাজারে দেখা যায় বিদেশি ও ফিশারির মাছ। দেশি মাছ দেখা গেলেও মাছ থেকে ক্রেতা বেশি,দামও চওড়া।

  • ১১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ৪ বছর পর গ্রেফতার

    ১১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী ৪ বছর পর গ্রেফতার

    হবিগঞ্জ সদর পুলিশের অভিযানে ১১টি মামলাসহ মোট ১২টি মামলার ১১বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামীকে ৪বছর পর শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়,২৭অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)গোলাম মর্তুজার নির্দেশে এসআই ইয়াকুব হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই শিবলু মজুমদার,এএসআই সোহেল দেবসহ একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদ্যেশে সকাল বেলা থানা থেকে রওয়ানা হন।

    এবং সেখানে আসামীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে শ্রীমঙ্গল র‍্যাব ৯এর সহযোগীতা নিয়ে সবুজবাগ এলাকায় সকাল সাড়ে এগারোটায় অভিযান চালিয়ে এই সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

    গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলো হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯নং নিজামপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের মৃত আঃমন্নান মিয়ার পুত্র আব্দুল কদ্দুস মিয়া(৪৮)।

    গ্রেফতারকৃত আব্দুল কদ্দুস মিয়া সম্পর্কে আরও জানা যায়,তিনি এক সময় হবিগঞ্জ এডিএম কোর্টের সাবেক পেশকার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন।

    এসময় থেকেই তিনি বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম অপরাধ ও জাল জালিয়াতির কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন।

    এসবের কারনে তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১২টি মামলা হয়।

    এবং ১১টি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে ১১বছর সাজা প্রদান করেন বিঞ্জ আদালত।

    এসব মামলায় সাজা প্রদানের পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় আব্দুল কদ্দুস।

    এমনকি আশ্রয় নেয় শ্রীমঙ্গলে এবং সেখানেই দিনাতিপাত করতে থাকে ৪বছর ধরে।

    তার এমন অবস্থানের বিষয়ে খবর আসে হবিগঞ্জ সদর থানায়।

    তাৎক্ষণিক সদর থানার ওসির নির্দেশে অভিযান চালিয়ে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামী আব্দুল কদ্দুসকে গ্রেফতার করে শ্রীমঙ্গল থেকে বিকাল ৪টার দিকে সদর থানায় নিয়ে আসা হয়।

    এবং আগামীকাল ২৮ অক্টোবর শুক্রবার   আদালতের মাধ্যমে আব্দুল কদ্দুসকে কারাগারে প্রেরন করার কথা রয়েছে।

    এব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)গোলাম মর্তুজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসবের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,হবিগঞ্জ জেলা সদর থানা পুলিশ দিনরাত জনগনের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এবং সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    অপরাধীরা অপরাধ করে যেখানেই আত্মগোপন করে রয়েছেন বা আছেন আমরা ঠিকই তাদেরকে বের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

    এব্যাপারে তিনি মিডিয়া কর্মীসহ সচেতন নাগরিকবৃন্দের সহযোগীতাও কামনা করেন।

  • বন্যার পরবর্তী বহুমুখী সংকটে সিলেট

    বন্যার পরবর্তী বহুমুখী সংকটে সিলেট

    আকুল কাশেম রুমন, সিলেট: সিলেট জুড়ে বিগত কয়েক দিনের বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতিতে বহুমুখী সংকটে সম্মুখিন হতে হচ্ছে। পানি বন্ধি মানুষের ভোগান্তি কিছু স্বস্থি ফিরে পাচ্ছেন বাসা বাড়ি থেকে পানি নামার পর। কিন্তু স্বস্তির পেছনে এখনো রয়েগেছে দুর্ভোগ, ভােগান্তি ও কষ্টের দিন।

    কারণ পানি কমছে ধীরে। আর যেসব জায়গা বা ঘর ভেসে উঠছে, কেবলই দেখা যাচ্ছে ধ্বংসের চিহ্ন। নিজের ঘর-বাড়ীর ধ্বংসলীলার চিত্র দেখে সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষের মাঝে চলছে বোবাকান্না।

    সন্বদ্বীপের উড়ির চরে ১৯৮৫ সালে জলোচ্ছাস, অষ্ট আশির বন্যা, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার টর্নেডো, টাঙ্গাইলের মিরিখপুরে ঘূর্ণিঝড়, সিডর, আইলা, চৌহালীর নদী ভাঙস যেখানেই হয়েছে মানুষের মধ্যে, পাড়ার মধ্যে, সমাজের মধ্যে মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানাের চিন্তায় মগ্ন দেখা গেছে, কিন্তু এরকম কাঁদতে দেখা যায়নি।

    সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যায় মানুষ অনেক ভেসে গেছে, তাঁদের ভেঙ্গেছে অনেক স্বপ্ন। সাজানো ঘরবাড়ি, হাঁড়ি-পাতিল, কাঁথা-বালিশ, কাপড়- চোপড়, গবাদি পশু, সারা বছরের খোরাকী ধান-চাল সব ভেসে গেছে। হাজার-হাজার মানুষের পরনের কাপড় ছাড়া আর কোনো কাপড় নেই।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেটের আকাশে উঠেছে রৌদ্রজ্জ্বল দিন। কিন্তু যে দিকে তাকানো যায় শুধু ঘর-বাড়ী ভেসে উঠছে, তাতে কেবলই ধ্বংসের চিহ্ন ভেসে উঠতে দেখা গেছে। অনেকে হারিয়েছেন প্রিয় সন্তান ও স্ত্রী কিংবা স্বামী সহ পরিবারের সদস্যদের।

    এদিকে, সিলেট নগরে পানি কমলেও ভেসে উঠছে ময়লা-আবর্জনা। প্রতিদিন সকাল থেকে নগরের শাহজালাল উপশহর, মাছুদিঘির পাড় মির্জাজাঙ্গাল ও তেররতন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি নেমে যাওয়ায স্থানীয় লোকজন বাড়ি ঘর ধোয়া মোছার কাজ শুরু করছেন। তবে দীর্ঘ দিন পানি জমে অনেকের আসবাব, কাপড় চোপড় ও বিছানার তোশক নষ্ট হয়ে গেছে।

    ঘরের ভেতর থেকে পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন বাসাবাড়ির সামনে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মহল্লার সড়কগুলো এখনো পানির নিচে।

    নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার এ ব্লকের খালে পলিথিন, প্লাস্টিকের বস্তা, গাছের পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেছে। ময়লা-আবর্জনার কারণে খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এসব আবর্জনা জমে থাকায় পানি কালো রং ধারণ করেছে।

    এ ছাড়া শাহজালাল উপশহরের সি.ডি.জে ব্লক ও তেররতন এলাকার মহল্লায় একই চিত্র দেখা গেছে। তবে পানি কমে আসার পর সেগুরেলা পরিষ্কার করা হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক বন্যায় সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৮০ হাজার স্যানিটারী ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের বেশীর ভাগ ল্যাট্রিন প্রান্তিক জনগোষ্টীর। ফলে বন্যাদূর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে এসব ল্যাট্রিন।

    বেশীর ভাগ এলাকা থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি না নামার কারণে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ব্যবহৃত হচ্ছে বেশীর ভাগ ল্যাট্রিন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নানা রোগব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

    জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান বন্যায় সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১০৫টি স্যানিটারী ল্যাট্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৯ টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৩ টি, মৌলভীবাজার জেলায় ১৬ হাজার ৬৩৭ টি ও হবিগঞ্জ জেলায় ১০ হাজার ২৩৬ টি ল্যাট্রিন রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের পক্ষ থেকে সিলেট বিভাগে ৩১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এখনো মজুদ রয়েছে ২৮ লাখ ২২ হাজার ট্যাবলেট।

    বিভাগের ৪ টি জেলায় ১০ ও ১৫ লিটারের ১২ হাজার ৮২৭টি পানির জেরিকেন বিতরণ করা হয়েছে। এখনো মজুদ রয়েছে ২ হাজার ৫৯৮টি। সিলেট বিভাগে ১৩টি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে ৭টি চলমান ও ৬টি মজুদ আছে।

    বিভাগে ১ হাজার ৫৪৪টি নলকূপ মেরামত করা হয়েছে। ১ হাজার ৬১৮টি নলকূপ জীবানুমুক্ত করা হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ১ হাজার ৯৪৮ টি হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে।

    ক্ষয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরলে দেখা যায়, সিলেটে ভয়াবহ বন্যায় মৎস খামারিদের ১৪০ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে ৩ বছর। সুনামগঞ্জের খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৩২ হাজার ৮০২ জন খামারি ৫ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমিতে কার্পজাতীয় মাছের চাষ করছিলেন।

    দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মৌসুমি বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় ও আসামের ঢাল থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় তাদের আর্থিক লাভের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। গবাদী পশুর ক্ষেত্রে যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তার পুষিয়ে উঠা বর্ন্যাত মানুষে লাগামি কষ্ট করতে হবে।

    সূত্রে জানা যায়, বন্যার পানিতে অনেক পশু নিখোজ ও মৃত্যু হয়েছে যাহা প্রকৃত পরিসংখ্যান করে বের করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

    তবে ধারনা করা যাচ্ছে যে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কমপক্ষে ১০ হাজার গবাদী পশুর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মরা ও ভেসে যাওয়া পশুর সংখ্যা হবে ৫ হাজারেরও বেশী।

    একটি সূত্র জানায়, শুধু সিলেট জেলায় হাঁস-মুরগিসহ ৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। আর ডুবে গেছে গবাদিপশুর ৭১০ টি খামার।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী, পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে জেলায় এখন পর্যন্ত হাস-মুরগীসহ ৪ হাজার গবাদিপশু মারা গেছে।

    সিলেট জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সিলেট জেলায় ৭১০ টি খামার ডুবে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে ১ হাজার ৯৯১ টন খড় ও ২ হাজার ৯৫৯ টন ঘাস। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় প্রাণিসম্পদের ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

    লেখক: সম্পাদক-সাপ্তাহিক বৈচিত্র্যময় সিলেট।
  • মৌলভীবাজারে পুলিশের গাড়ি দূর্ঘটনায় হবিগঞ্জের এক পুলিশ নিহত

    মৌলভীবাজারে পুলিশের গাড়ি দূর্ঘটনায় হবিগঞ্জের এক পুলিশ নিহত

    আকিকুর রহমান রুমনঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় আসামী গ্রেফতার করে থানায় ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

    নিহত পুলিশ সদস্য সমীরন চন্দ্র দাসের বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচপাড়িয়া গ্রামে। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ এসআই, ২ কনস্টেবল ও ৩ আসামী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

    শনিবার সকালে রাজনগর উপজেলার ময়নার দোকান এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে।

     

    পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানাযায়, উপজেলার উত্তরবাগ চা বাগান থেকে রাজনগর থানা পুলিশ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেন।

    এসআই সমীরন চন্দ্র দাস
    নিহত এসআই সমীরন চন্দ্র দাসের ফাইল ছবি।

    এসময় তাদের ব্যাবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে করে থানায় ফিরছিলেন তারা। এসময় ঐ এলাকার ময়নার দোকান নামক স্থানে এসে গাড়ীর চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে।

    খবর পেয়ে রাজনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশের এসআই সমিরন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষনা করেন।

    পরে গুরুতর আহত পুলিশের ৩ এসআই, ১ কন্সটেবল ও ১ আসামীকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

    এবং অন্য আহত ১ কনস্টেবল ও গ্রেফতারকৃত দুই আসামীকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    এঘটনার খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।

    আহতরা হলেন রাজনগর থানায় কর্মরত পুলিশের এসআই সুলেমান, শওকত মাসুদ ভুঁইয়া, জাহাঙ্গীর।
    কনস্টেবল (গাড়ি চালক) আব্দুল আজিজ ও মাসুক মিয়া।

    এছাড়া আহত গ্রেফতাকৃতরা হচ্ছে কান্ত সাওতাল, লক্ষন সাওতাল ও কুর্মি মইনা।

    এঘটনায় রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, একটি বিশেষ অভিযান শেষে ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করে রাজনগর থানায় ফেরার পথে দূর্ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের এক পুলিশ নিহতসহ আরও ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়।

    নিহত পুলিশ সদস্য এসআই সমীরণ চন্দ্র দাসের বাড়িটিও হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেন তিনি।