Category: রাজনীতি

  • প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে শুভেচ্ছা

    নিজস্ব প্রতিনিধি : বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাধবপুর উপজেলার যুব সংহতির সভাপতি উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ফকির কায়সার আহমেদ।

    বুধবার সন্ধায় ফকির কায়সার আহমেদ মাহবুব আলীর ঢাকার পল্টনস্থ কার্যালয়ে গিয়ে এ শুভেচ্ছা জানান। এ সময় যুব সংহতির যুগ্ম সম্পাদক হাফেজ শাহ আলম হোসাইন, পৌর জাতীয় পার্টি সাধারণ সম্পাদক কবির ভূইয়া, আবুল বাশার, সৈয়দ মিয়া, ইমরান মিয়া, শামীম মিয়া, আয়ূব আলী, ফিরোজ মিয়া, মুর্শেদ মিয়াসহ জাতীয় পার্টি এবং সংযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী তাদের সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং খোঁজ খবর নেন। এ সময় ফকির কায়সার আহমেদ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিমন্ত্রীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

  • সংরক্ষিত আসনে আ’লীগের ফরম কিনলেন মৌসুমী

    একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

    বুধবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক গুলজার।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত এই ফরম বিক্রির কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে।

    আওয়ামী লীগের প্রতিটি ফরমের জন্য নেওয়া হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা।

    প্রসঙ্গত, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, বিএনপি ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোটভুক্ত হয়ে ১টি আসন পাচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাজ্য আ’লীগের ফুলেল শুভেচ্ছা

    নিজস্ব প্রতিনিধি: চতুর্থবারের মতো শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি গণভবনে শুভেচ্ছা জানান- যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ গ্রেটার ম্যানচেষ্টার শাখার সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং নবগঠিত শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এডভোকেট মীর গোলাম মোস্তুফা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম, মিজবাহ উদ্দিনসহ আরো অনেকেই।

  • সামরিক হাসপাতালের হিমঘরে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ

    রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহে ঢাকা সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরে নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (০৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টার দিকে ২১ নং বেইলি রোডের বাসভবন থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয় সিএমএইচের দিকে।

    এর আগে সন্ধ্যা ৭ থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ২ ঘণ্টা সৈয়দ আশরাফের মরদেহ তার বাসায় সব শ্রেণি-পেশার পেশার মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়।

    এ সময় শ্রদ্ধা জানাতে সৈয়দ আশরাফের নিকট আত্মীয় ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ছাড়াও সরকারি পদস্থ কর্মকর্তারা ছুটে আসেন বেইলি রোডের ওই বাসায়।

    পড়ুন>>শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত সৈয়দ আশরাফ

    শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে জমায়েত হন কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার আওয়ামী লীগ নেতা ও সাধারণ মানুষ; যেখানে কেটেছে সৈয়দ আশরাফের শৈশব ও যৌবনের দিনগুলো।

    এ সময় সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে পরাজিত হওয়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চুন্নুকেও সেখানে দেখা যায়।

    এর আগে বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বেইলি রোডের সরকারি বাসায় তার মরদেহ আনা হয়। তবে এর আগে থেকেই সেখানে ভিড় করেন আওয়ামী নেতা-কর্মী ও তার শুভ্যানুধ্যায়ীরা।

    আওয়ামী লীগের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার (০৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সৈয়দ আশরাফের প্রথম জানাজা হবে।

    সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও অংশ নেবেন।

    সৈয়দ আশরাফের চাচাতো ভাই সৈয়দ আশফাক টিটু জানান, সংসদ ভবন চত্বরে জানাজা থেকে রোববার দুপুর ১২টায় তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে নেওয়া হবে। শোলাকিয়া ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা হবে।

    এরপর হেলিকপ্টারে মরদেহ নেওয়া হবে ময়মনসিংহে; সেখানকার আঞ্জুমান ঈদগাঁহে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর রাজধানীর ঢাকার বনানী কবরস্থানে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

    সৈয়দ আশফাক টিটু সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার বেইলি রোডে তার প্রয়াত বড় ভাইয়ের সরকারি বাসভবনে বাদ আসর কুলখানি ও দোয়া মাহফিল হবে।

  • সংরক্ষিত আসন: ৩০ জানুয়ারির মধ্যে দিতে হবে জোটের তথ্য

    সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গত ১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ২৯৮ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নাম ঠিকানাসহ প্রকাশ করা হয়। এরপর ৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদের স্পিকার নব নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করিয়েছেন।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসনের এক প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় সেখানে ২৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে অনিয়মের কারণে স্থগিত তিন কেন্দ্রের ভোট ৯ জানুয়ারি গ্রহণ করার পর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

    অবশিষ্ট ২৯৮ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন, জাতীয় পার্টি ২২টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ২টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ১টি আসন পেয়েছে। মহাজোট মোট আসন পেয়েছে ২৮৮টি।

    অন্যদিকে বিএনপি ৫টি ও গণফোরাম ২টি আসন পেয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট ৭টি আসন পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৩ প্রার্থী।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। এসব আসনের নির্বাচনে আইন বলছে- নবনির্বাচিতদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে দল বা জোটগুলো বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের জোটের অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। সে মোতাবেক ৩০ জানুয়ারির মধ্যে তাদের এ সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।

    নির্বাচন কমিশন সেই তথ্যের ভিত্তিতে দল বা জোটের দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী কোনো দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে সংরক্ষিত আসন বন্টন করবে ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে। অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন এ তালিকা প্রস্তুত করবে। তালিকা প্রস্তুতের পরের কার্যদিবসে অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি সেই তালিকা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য কোনো স্থানে টানিয়ে দেবে। একইসঙ্গে সংসদ সচিবালয়কে সেই তালিকা প্রত্যায়িত কপি টানানোর জন্য বলবে। নির্বাচনের আগে সেই তালিকার আর কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনো করণিক ভুল হলে নির্বাচন কমিশন তা সংশোধন করতে পারবে।

    এদিকে এর আগেই সংসদ সচিবালয়কে শপথগ্রহণকারী সদস্যদের একটি তালিকা শপথ গ্রহণের তিন কার্যদিবসের মধ্যে মধ্যে অর্থাৎ আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। যাদের ভোটার হিসেবে গণ্য করবে নির্বাচন কমিশন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বাতিল করে পুনঃভোটের দাবি করায় জোটটির ৭ প্রার্থী ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেননি। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ব্যাংককে চিকিৎসাধীন থাকায় (রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন) শপথ গ্রহণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। সে হিসেবে ৮ জানুয়ারির মধ্যে ২৯০ জনের তালিকা সংসদ সচিবালয় নির্বাচন কমিশনকে পাঠাবে।

    আইন অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে ১ এপ্রিলে মধ্যে এ নির্বাচন করতে হবে।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জোটের তালিকা প্রকাশ্যে টানানোর পর এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। একইসঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও ভোটের দিন ঘোষণা করবে। এছাড়া ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ করবে।

    আইন অনুযায়ী, কোনো জোট বা দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কে কত আসন পাবে তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন হবে আনুপাতিক। এক্ষেত্রে মোট সংরক্ষিত আসনকে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে, সেই ভাগফলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রাপ্ত আসন সংখ্যার গুণফলই হবে ওই দল বা জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসন পেয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (২২ আসন) বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় সংসদে মহাজোটের প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ২৬৬টি। এক্ষেত্রে মহাজোট (আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৭ আসনে জয়লাভ করায়, দলটি পাবে ৪২টি আসন) পাবে ৪৪টি সংরক্ষিত আসন। জাতীয় পার্টি পাবে ৩টি আসন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭টি প্রার্থী অধিবেশন শুরু নব্বই দিন পর্যন্ত শপথ নেওয়া সুযোগ পাবেন। তার পরও শপথ না নিলে সে আসনগুলোতে পুনরায় নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের জন্য ২টি আসন থাকবে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যোগ না দিলে তাদের জন্য থাকবে একটি আসন।

  • ‘সংসদে বিরোধী দল জাপা’

    একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে দলটির কোনও সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

    শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পার্টির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং দেশবাসীর উদ্দেশে আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। পদাধিকার বলে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারী দলের সভাপতি হিসেবে আমি প্রধান বিরোধী দলের নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপ-নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

    এর আগে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এতে মহাজোটের শরিকদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৫৬টি এবং জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। এছাড়া বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে শপথ নেন ২৮৯ জন সাংসদ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির ছিলেন ২১ জন। অসুস্থতার কারণে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে গতকাল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, আমরা মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করেছি। তাই অধিকাংশ এমপিই সরকারের সঙ্গে থাকতে চান। এ বিষয়ে মহাজোটের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা-ই চূড়ান্ত। এছাড়া একইদিনে জিএম কাদের ঘোষণা করেন, জাতীয় পার্টি সরকারে থাকতে চায়।

  • সৈয়দ আশরাফ আর নেই

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।

    ব্যাংককের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৈয়দ আশরাফ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ব্যাংকক সময় রাত সাড়ে ৯টায় আমাদের দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মারা যান। শনিবার (০৫ জানুয়ারি) তার মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানান, আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

    হাসপাতালে তার শয্যা পাশে সৈয়দ আশরাফের দুই বোন ও ভাই ছিলেন বলে জানান তিনি।

    জানা যায়, ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬৭ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ বেশ কিছুদিন ধরে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থতার কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন তিনি।

    দেশে না থেকেও গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আশরাফ কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন। গত ১ জানুয়ারি নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার নির্বাচিতদের শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে উপস্থিত হতে পারেননি ব্যাংককে চিকিৎসাধীন সৈয়দ আশরাফ। শপথের জন্য সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি।

    বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই মেয়াদে ওই দায়িত্ব পালনের পর এখন তিনি দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

    জাতীয় চার নেতা ১৯৭৫ সালে কারাগারে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে চলে যান সৈয়দ আশরাফ। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করে তিনি সংসদ সদস্য হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

    ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনা কারাবন্দি হলে আওয়ামী লীগের যে কয়জন নেতা দলের হাল ধরেছিলেন, তাদের অন্যতম সৈয়দ আশরাফ।