Category: প্রযুক্তি

  • যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কিছু স্পিকার ও এর ইতিহাস

    যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কিছু স্পিকার ও এর ইতিহাস

    স্পিকার বর্তমানে বেশ পরিচিত একটি বস্তু কারণ যে কোন সাউন্ড বা অডিও গান শুনার জন্য আমরা স্পিকার ব্যবহার করে থাকি।

    স্পিকার একটি আউটপুট ডিভাইস মূলত বাংলাদেশে যেদিন থেকে কম্পিউটার আমদানী করা শুরু হয় সে দিন থেকেই স্পিকারও আমদানী করা শুরু হয়।

    শুরুতে স্পিকার শুধু মাত্র কম্পিউটারের একটি অংশ ভেবে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে নানান কাজে স্পিকার ব্যবহার করতে দেখা যায়। যেমন:- টিভির সাথে, ডিভিডির সাথে, অথবা জোরে গান শুনার জন্য অনেকে মোবাইলের সাথেও ব্যবহার করে থাকে।

    ১৮৭৬ সালে প্রথম আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিস্কার করার উদ্দেশ্যে স্পিকার তৈরী করেন। তারপর নানান ধাপে এর উন্নতি সাধন হয়।

    ১৯২৪ সালে আধুনিক কয়েল ভিত্তিক স্পীকার তৈরি করেন চেস্টার ডব্লিউ রাইচ এবং এডওয়ার্ড ডব্লিউ কেলল্যা। এরপর এর সাথে ফিল্টার যুক্ত হয়। এভাবে ধীরে ধীরে স্পিকার বর্তমান রূপ ধারন করে।

    বর্তমান বাজারে বিভিন্ন প্রকারের স্পিকার পাওয়া যায় । তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-

    • শুধু দুই পিসের স্পিকার
    • ২:১ স্পিকার
    • ৫:১ স্পিকার
    • ইউএসবি স্পিকার
    • রিচার্জেবেল স্পিকার
    • ওয়্যারলেস স্পিকার

    আরো পড়ুনঃ এক ক্লিকেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে হ্যাকারদের কবলে!

    আমাদের দেশে অনেক ছোট বড় কম্পানি স্পিকার বাজারজাত করে থাকে । তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ক্রিয়েটিভ, মাইক্রোল্যাব, সিজেসি, লজিটেক, কামাসনিক, এফ এন্ড ডি, এলটেক ল্যনসিং, সিনটেক্স, গোল্ডেন ফিল্ড ইত্যাদি ।

    এই স্পিকার গুলো গুণগত মান ও সাউন্ড কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে।

    তথ্যসূত্রঃ বিডিস্টল

  • এক ক্লিকেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে হ্যাকারদের কবলে!

    এক ক্লিকেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে হ্যাকারদের কবলে!

    ফিশিং লিংক দিয়ে আইডি হ্যাক করা যায় এটা সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি। যেখানে একজন হ্যাকার একটি ফিশিং লিংক সেন্ড করে যেটা দেখতে আসল সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের মত হলেও আসলে সেটা হ্যাকারের তৈরি সাইট।

    এখানে আইডি পাসওয়ার্ড দিলে সেটি চলে যায় হ্যাকারের কাছে। কিন্তু আমরা ৯৮ শতাংশের বেশি মানুষ জানি না যে একটি লিংক দিয়ে আসলে আরও কি কি করা সম্ভব। আজ দেখাব শুধু আইডি পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়া ছাড়া ও কি কি করা সম্ভব।

    সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট হ্যাক

    আমরা প্রতিনিয়ত শুনে থাকি যে হ্যাকার মেসেঞ্জারে কোন একটা লিংক সেন্ড করেছে এবং সেখানে ঢুকতে গেলে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার আইডি পাসওয়ার্ড দেওয়া লাগে। আর সেসব লিংকে তথ্য দিলেই সেটা চলে যায় হ্যাকারের কাছে। হ্যাকাররা সাধারণত ফ্রি হোস্টিং ব্যবহার করে সেখানে ফিশিং স্ক্রিপ্ট আপলোড করে আর সেটার লিংক দিয়েই আইডি এক্সেস নেয়। এছাড়াও লিনাক্সের বিভিন্ন স্ক্রিপ্ট দিয়ে এসব হ্যাকিং করে থাকে।

    ফ্রন্ট ক্যামেরা হ্যাক

    কালি লিনাক্স ব্যবহার করে অনেক হ্যাকার এমন লিংক তৈরি করে যেটা দেখতে কোন সাধারণ ওয়েবসাইটের মত কিন্তু এই লিংকে ক্লিক করলে হ্যাকার আপনার ক্যামেরা এক্সেস নিয়ে নিতে পারে এবং অনবরত আপনার ছবি তুলতে পারবে। ফোন কিংবা কম্পিউটার সব কিছুর ফ্রন্ট ক্যামেরা এটার মাধ্যমে হ্যাক করা সম্ভব। আপনি একবারও বুঝতে পারবেন না যে আপনার ফোন বা কম্পিউটারের ক্যামেরা এখন হ্যাকারের দখলে।

    জিপিএস লোকেশন হ্যাক

    লিনাক্স ব্যবহার করে এমন অনেক সাইট তৈরি করা যায় যে সাইটের লিংকে ভিক্টিমকে ক্লিক করালে তার ওই মুহূর্তের জিপিএস লোকেশন জানা সম্ভব। এমনকি সে মুহূর্তে সে হাঁটছে কিনা বা এক জায়গায় বসে আছে কিনা সেটার তথ্য, ডিভাইসের সকল তথ্য, আইপি ও অন্যান্য সকল তথ্য জানা সম্ভব।

    ফোনের বিস্তারিত হ্যাক

    এমন কিছু লিংক হ্যাকাররা তৈরি করতে পারে যেটা ইচ্ছামত ডোমেইন নাম দিয়ে ভিক্টিমকে পাঠানো যায়। যার মাধ্যমে একজন হ্যাকার ভিক্টিমের ফোনের নাম, মডেল, ভার্সন, আইপি, ফোনের র‍্যাম, রম, স্ক্রিন সাইজ, আইপি প্রভাইডার, ব্রাউজারের তথ্যসহ ফোনের যাবতীয় তথ্য হ্যাকার নিয়ে নিতে পারে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় একটা সামান্য ভুলে ক্লিক করলে কত বিপত্তি ঘটতে পারে।

    সম্পূর্ণ ফোন এক্সেস

    হ্যাকারদের এমন কিছু স্ক্রিপ্ট আছে যেটা ব্যবহার করে Metasploit এর মাধ্যমে কোন ফেক সফটওয়্যার, পিডিএফ ফাইল বা ইমেজ ফাইল তৈরি করে ভিক্তিমকে পাঠানো হয়। এটাই যদি ভিক্টিম একবার ক্লিক করে তাহলে সিস্টেমে হ্যাকার সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যেতে পারে। এর ফলে কল, ম্যাসেজ, ক্যামেরা থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল কাজ হ্যাকার দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

    সুতরাং বুঝতেই পারলাম যে, সামান্য কোন ওয়েবসাইটের লিংক বা কোন ফাইল ডাউনলোড করার লিংক দেখতে অতি সাধারণ মনে হলেও হ্যাকার চাইলে আপনার সকল তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

    লেখক: গাজী মাহফুজ উল কবির, সাইবার আইন উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সাইবার এন্ড লিগ্যাল সেন্টার
  • নিজেই গাড়ি বানালেন নারায়ণগঞ্জের আকাশ

    শুরুতে অনেকেই উপহাস করতো। কটূক্তিও কম সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু সেসবে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের কাজ করে যেতে থাকেন আকাশ।

    বলা হয়ে থাকে, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’।  চেষ্টা করলেই যে কোনো অসম্ভবকেও সম্ভবে পরিণত তারই আরো একটি উদাহরণ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া এলাকার আকাশ আহমেদ।

    কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় সে তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল স্পোর্টস কার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ল্যাম্বরগিনি’র আদলে একটি গাড়ি। যা এখন নারায়ণগঞ্জের টক অব দ্যা টাউন। ফেসবুকের কল্যাণে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এ গাড়ির ছবি। সবার মুখে মুখে এখন আকাশে কৃতিত্বের কথা।

    তবে এ কৃতিত্ব অর্জন করা সহজ ছিলো না আকাশের কাছে। অনেক চরাই উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ১৪ মাস প্রচেষ্টার পর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার।

    ঢাকা ট্রিবিউনকে এমনটাই জানালেন আকাশ।

    তার ভাষায়, “গাড়ি বানানোর স্বপ্নটা ছোটবেলা থেকেই ছিলো। গাড়ির মাঝেই আমার বেড়ে ওঠা। গাড়ির যন্ত্রপাতি ছিলো আমার খেলার উপকরণ। বাবা অন্যের গ্যারেজে চাকরি করতো। দাদাও গাড়ি মেরামতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা-দাদাকে কখনো দেখতাম ভাঙা গাড়ি মেরামত করতে, আবার কখনোবা কারও গাড়ির পার্টস বানিয়ে লাগিয়ে দিতে। তখন থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম নিজের একটা গাড়ির।”

    আকাশ আরও বলেন, “গ্যারেজে বা রাস্তায় নতুন মডেলের কোনো গাড়ি দেখলেই ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠতো। কিন্তু বাবাকে বলার সাহস পেতাম না। কারণ এ স্বপ্ন পূরণের সামর্থ্য নেই আমার পরিবারের।”

    “তাই একদিন নিজেই একটা গাড়ি বানাব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। এ গাড়িতে করেই দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবো।” যোগ করেন তিনি।

    শুরুর গল্পটা শোনালেন, “সেই থেকেই মাথায় ভাবনাটা থিতু হয়ে রইল। আমার ঘরের ক্যালেন্ডারে পর্যন্ত গাড়ির ছবি। ক্যালেন্ডারের পাতায়ই ইতালির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ল্যাম্বরগিনি’র একটা গাড়ির মডেল দেখে চোখ আটকে যায়। তখনই মনে হয় গাড়ি যদি বানাই তবে এই মডেলেই বানাবো। বাবাকে বলি। তারপরই  থেকেই লেগে পড়ি। লক্ষ্যে স্থির থেকে এগোতে থাকি।”

    শুরুতে অনেকেই উপহাস করতো। কটূক্তিও কম সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু সেসবে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের কাজ করে যেতে থাকেন আকাশ। তার কাজে পরিবারের সমর্থন ছিল। অর্থের যোগান থেকে শুরু করে মানসিকভাবে সাহস দিয়েছেন তারা।.

    অর্থ যোগানের গল্পটা আরও মজার, বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০-২০০ করে টাকা নিয়ে অল্প অল্প করে কাজ শুরু করেন তিনি। অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম প্রথম বেশ বেগ পেতে হয়েছে। একবার কিছু একটা ভুল হয়ে গেলে আবার নতুন করে শুরু করতে হতো। আকাশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে কেবল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণি পর্যন্ত। আর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বলতে কেবল গ্যারেজে গাড়ির পার্টস তৈরি আর জাহাজের পাত কাটার অভিজ্ঞতাটা। আর নতুন কিছু শেখার একমাত্র উৎস ছিল ইউটিউবের টিউটোরিয়াল।

    আকাশ বলেন, “জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডি শেপ তৈরি করি। টিউটিরিয়াল দেখে দেখে চাকার সাসপেনশন, হেডলাইট, ব্যাকলাইট, গিয়ার নিজেই বানাই। চাকা আর স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবলমাত্র কিনে আনা হয়েছে।”

    সম্পূর্ণ দেশীয় ও পরিবেশ বান্ধব এই গাড়িটি ব্যাটারিচালিত। এর শক্তির উৎস ৫টি ব্যাটারি। যা প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। পুরোপুরি চার্জ হতে লাগবে ৫ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ দু’জন আরোহীকে নিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ছুটতে পারে সে।

    নবীগঞ্জে বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংঃ আন্দোলনের হুশিয়ারী

    গাড়িটির নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে ৩ লাখ টাকায়ও বানানো সম্ভব। গাড়িটির আরও কিছু কাজ বাকি আছে বলে জানান আকাশ। সুইচের মাধ্যমেই যাতে দরজা বন্ধ এবং খোলা যায় সে ব্যবস্থাও করা হবে।

    শুধু নিজের জন্যই নয়, দেশের মানুষের জন্য এমন আরও গাড়ি বানাতে চায় আকাশ। জানালেন, গাড়িটি বানানোর পর বেশ সাড়া পেয়েছি। দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় এরইমধ্যে আরও ২৫টি গাড়ির অর্ডার পেয়েছি।

    সরকারের কাছে তিনি তার গাড়ি বাজারজাতকরণের অনুমতি চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ অন্য কারও কাছে তিনি এর নকশা বিক্রি করতে চান না।

  • হবিগঞ্জে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপন

    নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ‘টেলিযোগাযোগে প্রমিতকরণের ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে হবিগঞ্জে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার সকালে ডাক টেলিযোগাযোগ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন র‌্যালি, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নিমতলা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মর্জিনা খাতুন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ।

    বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ফজলুল জাহিদ পাভেল। আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান ও জেলা তথ্য কর্মকর্তা পবন চৌধুরী।

    প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বলেন, তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের সাথে আমাদেরকে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আর না হলে আমরা পিছিয়ে যাবে। ৯০র দশকে সরকারের একটি সিদ্ধান্তহীনতার জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সাবমেরিন নেটওয়ার্কে বিনামূল্যে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলাম। পরবর্তিতে বর্তমান মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দূরদর্শী উদ্যোগ এর জন্য আমরা সাবমেরিন ক্যাবলেই শুধু যুক্ত হইনি। এখন মহাকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে।

    হবিগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে কাপড়ের মূল্য দ্বিগুন

    তিনি তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয়গুলো এড়িয়ে চলার আহবান জানান এবং শিক্ষার্থীদেরকে এ ব্যাপারে অযথা সময় নষ্ট না করে এর ভাল দিকগুলো গ্রহণের আহবান জানান।
    পরে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।

  • সামনের মাসেই ৫জি স্মার্টফোন আনতে পারে এলজি

  • স্যামসাংকে টপকে নতুন প্রযুক্তি আনছে হুয়াওয়ে?

    ফোনের গোটাটা জুড়েই স্ক্রিন। না আছে বিজেল, না আছে নচ। তা হলে সামনের ক্যামেরাটা কোথায়! স্লাইডারে? উঁহু তাও নয়।

    ভাল করে লক্ষ্য করলে স্ক্রিনের বাঁ দিকের উপরের কোণে রয়েছে একটা ছোট্ট ফুটো। সেটাই ক্যামেরা। আয়তনে যা পাঞ্চার দিয়ে তৈরি ফুটোর থেকে একটু ছোট।

    এমনই এক তাক লাগানো ফোন বাজারে আনছে চিনা সংস্থা হুয়াওয়ে। সম্প্রতি সান ফ্রানসিস্কোর এক কনফারেন্সে এই ধরনের প্রযুক্তির কথা ঘোষণা করেছিল স্যামসাং।

    ইনফিনিটি স্ক্রিনে ইংরেজির ‘ও’–এর মতো দেখতে বলে এই প্রযুক্তির নাম ইনফিনিটি-ও ডিসপ্লে। কবে তা বাজারে আসবে তা নিয়ে স্যামসাং সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করেনি। তবে জল্পনা চলছিল স্যামসাং এএইট নাম দিয়ে ডিসেম্বরে সেই ফোন লঞ্চ করা হবে। এর মধ্যে ওই একই প্রযুক্তির ফোন লঞ্চ করার ইঙ্গিত দিল হুয়াওয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই টিজার।

    মনে করা হচ্ছে হুয়াওয়ের নোভা সিরিজের অন্তর্গত হবে এই ফোন। এই বছরই বাজারে এসেছে নোভা থ্রি এবং নোভা থ্রি আই।

    ফোনগুলির দাম ছিল যথাক্রমে ৩৪,৯৯৯ টাকা ও ২০,৯৯০ টাকা। নতুন ফোনটির নাম হতে পারে নোভা ফোর বা নোভা থ্রিএস। ডিসেম্বরে স্যামসাং একই প্রযুক্তির ফোন বাজারে আনার আগেই লঞ্চ হতে পারে এই ফোন। আর দাম? সেই বিষয়ে মুখে কুলূপ সংস্থার।

  • ডিপফেইক : নিজের চোখকে কি আর পারবেন করতে বিশ্বাস?

    ড. রাগিব হাসানঃ আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আপনি। দিনে দুপুরে নাকি খুন করেছেন একজনকে। আপনি নির্দোষ, খুনের সময়ে ধারে কাছেও ছিলেন না। কিন্তু প্রতিপক্ষের উকিল তুরুপের তাসটা ছাড়লেন, মহামান্য আদালত, আমাদের কাছে ভিডিও আছে খুনের।

    অবাক বিস্ময়ে আপনি দেখলেন, স্পষ্ট একটি ভিডিও। আপনি নিজে নৃশংসভাবে খুন করলেন মানুষটাকে, স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে আপনার চেহারা, খুন করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রক্তমাখা ছুরি হাতে দিচ্ছেন অট্টহাসি।

    আর কি কোনো প্রমাণ লাগে?

    অথবা আরেকদিন। ফেইসবুকে ঢুকতেই আঁতকে উঠলেন। আপনার বন্ধুরা সবাই শেয়ার করছে একটি ভিডিও। আপনার প্রিয়জন কারও পরকীয়ার ভিডিও, স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ঝকঝকে ভিডিওতে আপনার সেই প্রিয়জনটির চেহারা অন্য মানুষের সাথে অন্তরঙ্গ সময়ে।

    সন্দেহ করার অবকাশ কি আছে?

    ভিডিও কি আর মিথ্যা বলে?

    জ্বী, বলে, খুব ভালো করেই বলে।

    আর সচক্ষে দেখা জিনিসের ওপরে আস্থা টলিয়ে দেয়া এই প্রযুক্তির নাম হলো ডিপফেইক (DeepFake)। ফটোশপ দিয়ে যেমন নকল ছবি বানানো যায় অবিকল আসল ছবির মতো, ডিপফেইক দিয়ে একইভাবে বানানো সম্ভব নকল ভিডিও। চোখে দেখে আদৌ বুঝতেও পারবেন না।

    একটা সময় ছিলো যখন ছবি কথা বলতো। যেকোনো ঘটনার ফটো থাকলে সেটা অকাট্য প্রমাণ হিসাবে সর্বত্র সবাই মেনে নিতো। এর পরে এলো ফটোশপের যুগ। চেহারা পাল্টে বা একজনের শরীরে আরেকজনের মাথা লাগিয়ে যেকোনো রকমের ছবি বানানো সম্ভব। এতে এক্সপার্ট হতে হয় না, ফটোশপে মাঝারি দক্ষতা থাকলেই এটা সম্ভব।

    ছবি তাই আজ আর কথা বলে না। নকল ছবি বানানোটা আজ দুধভাত।

    কিন্তু এই ২০১৮ সালেও ভিডিওকে ধরা হয় আসল প্রমাণ। যেকোনো ঘটনার যদি ভিডিও দেখানো যায়, সবাই অবশেষে সেটাকে বিশ্বাস করে। কারণ সবার ধারণা ভিডিওকে নকল বানানো সম্ভব না। একজন মানুষের মুখের উপরে আরেকজন মানুষের মুখকে বসিয়ে দেয়া অনেক কঠিন, কাজেই ভিডিও থাকলে সেটাই সম্পূর্ণ অকাট্য প্রমাণ।

    কিন্তু, না। এই কথাটাই আর সত্যি না।

    আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ডিপ লার্নিংয়ের এই আমলে ভেঙে পড়ছে সব প্রতিষ্ঠিত ধ্যান ধারণা। এই এআই ও ডিপ লার্নিং কে কাজে লাগিয়ে নকল ভিডিও বানানোর প্রযুক্তি এখন এসে গেছে সবার হাতের নাগালে। বছর খানেক আগে জনপ্রিয় সাইট রেডিট এ ডিপফেইক নামের একজন অজ্ঞাতনামা ইউজার বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট করেন। খ্যাতনামা কয়েকজন হলিউডি অভিনেত্রীর পর্নোগ্রাফিক ভিডিও। বলাই বাহুল্য, এসব ভিডিও ছিলো নকল। এসব অভিনেত্রীর চেহারাকে অন্য ভিডিওর কারো মুখে বসিয়ে দিয়ে বানানো। কিন্তু এই কাজটা করা হয়েছে দারুণ দক্ষতায়। খালি চোখে দেখে বুঝতেই পারবেন না যে ভিডিওটা নকল।

    সেই থেকে শুরু। গত এক বছরে এই প্রযুক্তিকে আরও সহজ ব্যবহারযোগ্য করে সবার হাতের নাগালে এনে দিয়েছে কে বা কারা। আগে এগুলো বানাতে প্রচণ্ড দক্ষতার দরকার হতো, লাগতো শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের মতো ক্ষমতাময় যন্ত্র।

    কিন্তু এখন? পুরো কাজটা করা যায় ডেস্কটপে। আর কাজটাকে সহজ করার জন্য ফেইকঅ্যাপ নামের ডেস্কটপ অ্যাপও বের হয়ে গেছে। লাগবে কেবল যার নকল ভিডিও বানানো হবে, তার অনেকগুলো ছবি। সেই ছবিটা সিস্টেমে ঢুকিয়ে দিলে মানুষটার চেহারাটা কেমন তা শিখে যায় এআই ও ডিপ লার্নিং ভিত্তিক সিস্টেমটা। এর পরে যে ভিডিওতেই চান, সেখানেই যেকারো মুখটা পাল্টে এই চেহারাটা বসিয়ে দেয়া যায়, অবিকলভাবে, যেন আসলেই সেই মানুষটিকে দেখা যাচ্ছে স্পষ্টভাবে।

    এই প্রযুক্তিতে বানানো ভিডিও এখন ইন্টারনেটের সর্বত্র। পর্নোগ্রাফিতে তো আছেই, রাজনীতিবিদ বা অন্যান্য মানুষদের ফাঁসাতে নকল ভিডিও কেলেংকারি, কারো উপরে প্রতিশোধ নিতে বা হেনস্তা করতে বানানো ভুয়া ভিডিও। এরকম নানা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এই ডিপফেইক প্রযুক্তি।

    গত এক বছরে এতো উন্নতি হয়েছে যে, বোঝাই সম্ভব না যে একটি ভিডিও আসল না নকল ডিপফেইক দিয়ে বানানো। ভিকটিমের কয়েকটি ফটো জোগাড় করা গেলেই এই ডিপফেইক ভিডিও বানানো সম্ভব। ফেইসবুকের কল্যাণে যেভাবে সবার ছবি সবখানে আছে, তাতে করে আপনি আমি আমরা যে কেউই আসলে ডিপফেইকের শিকার হতে পারে, কাল নয়, আজই।

    ব্যাপারটা আসলে যুগান্তকারী। এক সময়ে যেমন ছবিকে অকাট্য প্রমাণ ধরা হতো, ফটোশপের যুগে সেটা আর হয় না। একইভাবে আমরা এখন যেমন ভিডিওকে অকাট্য প্রমাণ ধরি কোনো ঘটনার, তা হয়তো আর ধরার উপায় থাকবে না।

    যেকোনো আসল ঘটনাকেও উড়িয়ে দেয়া যাবে নকল ভিডিওর অভিযোগ এনে। আমাদের সংবাদ মাধ্যম ও ফেইক নিউজের উপরে অনাস্থা বাড়বে আরও। আবার আসল ভিডিওকেও যে কেউ উড়িয়ে দিতে পারে সবই নকল, সবই ডিপফেইক ভিডিও বলে।

    মনে আছে সেই ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীর কথা? ভিডিওতে তার কুকর্ম ধরার পরে বলেছিলো, ‘ইগুলা ইডিট করা যায় ভাই’। তাকে নিয়ে আমরা সবাই হেসেছিলাম সে সময়। কিন্তু আজ অট্টহাসিটা মনে হয় সেই হাসবে। অথবা ভবিষ্যতে তার মতো লোকজনেরা বলার মতো আরো অজুহাত কিন্তু পেয়ে গেলো।

    ডিপফেইক প্রযুক্তিকে ঠেকানোর কোনো উপায় নেই, যেমনটা ঠেকানো যায়নি ফটোশপের নকল ছবিকে। কিন্তু আজ থেকে আপনি নিজের চোখকে আর সেভাবে বিশ্বাস করতে পারবেন না, সেই কথাটাই রাখুন জেনে। কোনটা বাস্তব, কোনটা বানোয়াট, তা সাধারণভাবে ধরার উপায় যে আর নেই।

    এলো ডিপফেইকের যুগ। আপনি আমি আমরা, কেউই কি আর নিরাপদ নকল ভিডিওর হাত থেকে?

    লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞান,
    কম্পিউটার সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞ, 
    ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম, যুক্তরাষ্ট্র।