মাধবপুরে সার্বজনীন না হয়েও ১৫ ঘরোয়া মণ্ডপ পেল সরকারি অনুদান, ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অনেকে

হবিগঞ্জের মাধবপুরে এ বছর ১১৯টি শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপের মধ্যে অন্তত ১৫টি ঘরোয়া ও পারিবারিক মন্দির সার্বজনীন মণ্ডপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সরকারি অনুদান পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি মণ্ডপ চাল সমমূল্যের ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছেন।

এ ঘটনায় সংখ্যালঘু সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বহরা ইউনিয়নের পালপাড়া পূজামণ্ডপ, জগদীশপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর পূজামণ্ডপ, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রবীন্দ্র মাস্টারের বাড়ির মণ্ডপ, মাধবপুর পৌরসভার কানাই বণিকের বাসার মণ্ডপ এবং আন্দিঊড়া ইউনিয়নের হরিশ্যামা গ্রামের সুকুমার দাসের বাড়ি ও বাড়িরেন্দ্র পালের বাড়ির মণ্ডপসহ বিভিন্ন ঘরোয়া মন্দির সরকারি অনুদানের তালিকায় স্থান পেয়েছে। চৌমুহনী ইউনিয়নেও একটি ঘরোয়া মণ্ডপ তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘরোয়া ও পারিবারিক মন্দিরগুলো সরকারি অনুদানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রকৃত সার্বজনীন মণ্ডপগুলোর বরাদ্দ কমে গেছে। কারও কারও দাবি, স্বজনপ্রীতি কিংবা সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে ঘরোয়া ও পারিবারিক মন্দিরকে সার্বজনীন মণ্ডপ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঘরোয়া মণ্ডপগুলোকে ১৫ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

 

মাধবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মিহির চন্দ্র দেব অজয় বলেন, “ঘরোয়া মন্দিরকে সার্বজনীন বানিয়ে সরকারি অনুদান সংগ্রহ করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সার্বজনীন মণ্ডপগুলোর প্রাপ্যতা ও আয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।”

 

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “কৌশলে ঘরোয়া মন্দিরকে সার্বজনীন বানিয়ে সরকারি অনুদান নেওয়া হয়ে থাকলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অন্যায়। অভিযোগটি সত্য হলে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রকৃত সার্বজনীন মণ্ডপগুলোর বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা পূজা ফন্টের মাধবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হীরেন্দ্র ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন রায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর পাল সুমনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মুঠোফোনে বার্তা পাঠানো হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, “উপজেলা পূজা ফন্ট ও পূজা উদযাপন পরিষদের ক্রস-চেকিংয়ের মাধ্যমে তালিকাগুলো আমরা গ্রহণ করেছি। ঘরোয়া মণ্ডপ থাকলে তারা আগে অভিযোগ দিলে আমরা তা বাতিল করতাম। এখানে আমাদের কিছু করার ছিল না। তারপরও বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।”